সাশ্রয়ী দামে অলরাউন্ডার স্মার্টফোন প্রিমো আরএম৪!

নভেম্বর ১২, ২০২০


বাজেটের ভেতর স্মার্টফোন কিনতে গেলে বেশিভাগ সময় আমাদের স্মার্টফোনটির কোন না কোনো অংশে স্যাক্রিফাইস করতে হয়; হয় সেটা ক্যামেরায়, নয়তো ব্যাটারিতে কিংবা প্রসেসরে। তবে কেমন হয় যদি বাজেট স্মার্টফোন হয় আর আপনাকে স্মার্টফোনটি কিনে কোন অংশ থেকেই স্যাক্রিফাইস করতে না হয়?  হ্যা' ঠিক এমনি সব কোয়ালিটি সম্পন্ন বাজেট ফোনের কথা যখন আসবে, তখনই উঠবে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের নাম। ওয়ালটনের প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ফিচার সমৃদ্ধ বাজেট স্মার্টফোন আনার ধারাবাহিকতার দরুন এবার তাদের দারুন সব স্মার্টফোনের তালিকায় নতুন আরেকটি যুক্ত হল 'প্রিমো আরএম৪' স্মার্টফোনের নাম।

শীতকালীন অফারে স্মার্টফোনটি পাবেন মাত্র ১০১৯৯ টাকায়। ‘এভরিথিং ইউ ওয়ান্ট’ ট্যাগলাইন নিয়ে নতুন এই প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে পাবেন; ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের অক্টাকোর হেলিও এ২৫ চিপসেট থেকে শুরু করে ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ, ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৪ জিবি র‍্যাম সহ আরো অনেক কিছু! তো আজকের এই আর্টিকেলে আমরা দারুন দামে, দারুন সাজে সেজে আসা নতুন এই প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন সম্পর্কে জানব।

একনজরে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনঃ

  • ১৯.৫ঃ৯ এস্পেক্ট রেশিও সমৃদ্ধ ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল
  • ১২ ন্যনোমিটার  প্রযুক্তির ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের অক্টা-কোর হেলিও এ২৫ চিপসেট
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি র‍্যাম
  • ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি

ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

স্মার্টফোনটির ডিজাইন বেশ ক্লাসি এবং মিনিমাল। এর রিয়ার প্যানেলে আপনি সুন্দর একটি গ্লসি ফিনিস পাবেন। আপনার রুচির বিচারে দারুন এই স্মার্টফোনটি পাবেন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন কালারে। আর এই কালারগুলো হচ্ছেঃ ডার্ক গ্রিন, নাইট ব্লু এবং ব্ল্যাক। আপনার নিজস্ব ব্যক্তিত্ত এবং রুচিবোধের সাথে এই দারুন তিনটি কালারের সবগুলিও বেশ দারুনভাবে মানাবে, কোনটিই একটি আরেকটির থেকে কম নয়!

যেসকল ইউজাররা তুলনামূলক বড় ডিসপ্লে সমৃদ্ধ স্মার্টফোন খোঁজেন, তাদের জন্য এই স্মার্টফোনটি পছন্দের তালিকায় উপরে থাকবে নিঃসন্দেহে! কেননা প্রিমো আরএম৪ ডিভাইসটিতে পাচ্ছেন ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল, যার ব্রাইটনেস লেভেল ৪৫০ নিটস। এটি একটি ১৯.৫ঃ৯ এস্পেক্ট রেশিও সমৃদ্ধ ডিসপ্লে, সুতরাং ওয়াইড এঙ্গেলে গেমিং এবং মাল্টিমিডিয়া স্ট্রিমিং হবে আরো উপভোগের!

স্মার্টফোনের ডিসপ্লেটির রেজুলেশনও তুলনামূলক মানসম্পন্ন, যা হচ্ছে ১৬০০*৭২০ পিক্সেল। ডিসপ্লেটির উপরে একটি ওয়াটার ড্রপ নচ পাবেন, যার ভেতর দারুন দারুন সব সেলফির জন্য সনির একটি ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর পাওয়া যাবে।

হার্ডওয়্যার

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটিতে ARM Cortex-A53 সিপিইউ এবং IMG PowerVR GE8320 জিপিইউ এর সমন্বয়ে তৈরি মিডিয়াটেক এর হেলিও এ২৫ চিপসেট এর দেখা মিলবে। এটি একটি ১২ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি মিডিয়াটেকের নতুন প্রজন্মের একটি চিপসেট। এটি একটি অক্টাকোর প্রসেসর যার ক্লক স্পীড ১.৮ গিগাহার্জ। এই চিপসেটটি যেমন দ্রুত ছবি এবং ভিডিও প্রোসেসিং, গেমিং এর জন্য দারুনভাবে কার্যকর; তেমনই খুব ভালো পরিমানে ব্যাটারি সাশ্রয়ীও বটে! যারা পাবজি, কল অফ ডিউটি কিংবা ফ্রি-ফায়ার এর মত গেমস খেলতে বাজেট এর মধ্যে ভালো একটি স্মার্টফোন চাচ্ছেন, তাদের জন্য প্রিমো আরএম৪ দারুন পছন্দ হতে পারে।

প্রিমো আরএম৪ এর এন্টুটু বেঞ্চমার্ক স্কোর এসেছে ৮৭৬২২; আর গিকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোরে ৭১৬ এবং মাল্টি কোরে স্কোর এসেছে ৩৩৭৪।

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন কিনলে আপনাকে স্টোরেজ নিয়েও কোন চিন্তা করতে হবেনা! কেননা স্মার্টফোনের ভেতর বিল্টইন ভাবে ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, তাছাড়াও ২৫৬ জিবি পর্যন্ত অতিরিক্ত এসডি কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ তো থাকছেই। আর সর্বোপরি যেটা মুখ্য বিষয়, তা হচ্ছে র‍্যাম! এই স্মার্টফোনটির পুরো সিস্টেমকে ব্যাকআপ দিবে একটি ৪ জিবি র‍্যাম। সুতরাং মাল্টি টাস্কিং থেকে হেভি গেমিং সব এই স্মার্টফোনে একদম স্মুথলি!

ক্যামেরা

দারুন চিপসেট এর পাশাপাশি প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে থাকছে বেশ শক্তপোক্ত ক্যামেরা সেটাপ। স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে দেখা মিলবে একটি ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপের। যেখানে একটি মেইন ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর, সেকেন্ডারি ৫ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর এবং পরিশেষে আরেকটি ডেপথ সেন্সিং এর জন্য। স্মার্টফোন ক্যামেরায় সেন্সর সাইজ বর্ণনা করার জন্য একটি নাম্বার থাকে, যেমন ১/৩.০, ১/৩.২ ইত্যাদি।

সহজ ভাবে বুঝতে ১ ভগ্নাংশের সাথে যে নম্বর থাকবে তা যতো ছোট হবে আপনার সেন্সর সাইজ ততো বড় হবে। আর আপনার সেন্সর সাইজ যতো বড় হবে তো ভালো পিক্সেলস পাবেন। আর যত ভালো পিক্সেলস হবে ইমেজও তত বেশি আলো সম্বলিত এবং ঝকঝকে হবে। প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনের এর মেইন ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সরটির সাইজ ১/৩.১ যা এই ক্যামেরা সেটাপের জন্য দামের হিসেবে খুব ভালো একটি দিক।

আবার f/1.8, f/2.0, f/2.2 ইত্যাদি নম্বর দিয়ে ক্যামেরার অ্যাপারচার প্রকাশ করা হয়ে থাকে। অ্যাপারচার এর মানে হচ্ছে লেন্সের ফোকাল লেন্থ। অ্যাপারচার নাম্বারে f ভগ্নাংশের পরে যে সংখ্যা থাকে সেটি যত ছোট হবে আপনার ক্যামেরার ওপেনিং ততই বড় হবে এবং ওপেনিং যত বড় হবে ক্যামেরা তত ভালো ভাবে লো লাইট ছবি উঠাতে পারবে। এবং যে শ্যালো ডেফত অফ ফিল্ড ইফেক্ট থাকে তাও ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যাবে। শ্যালো ডেফথ অফ ফিল্ড ইফেক্ট মানে, আপনি দেখেছেন যে ছবি উঠানোর সময় আপনার সামনে থাকা সাবজেক্ট এর ছবি পরিষ্কার হয় এবং সাবজেক্ট এর পেছনে ঘোলা ইফেক্ট থাকে, তো আপনার ক্যামেরার অ্যাপারচার নাম্বার যতো কম হবে এই ইফেক্ট ততো ভালো দেখতে পাওয়া যাবে।

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটির রিয়ার ক্যামেরার অ্যাপারচার f/2.0, সুতরাং এর মাধ্যমে আপনি দারুন সব ছবি তুলতে পারবেন, যেখানে ছবির কোয়ালিটি যেমন সুন্দর থাকবে, তেমনি সাবজেক্টকে ফোকাসে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড ঘোলা করতেও সুবিধা হবে।

স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে সেলফির জন্য পাচ্ছেন সনির ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর। যার অ্যাপারচার f/2.2।

অপারেটিং সিস্টেম

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে এন্ড্রয়েড ১০ তথা এন্ড্রয়েড কিউ সংস্করণ পাওয়া যাবে। যারা স্মার্টফোনে স্টক এন্ড্রয়েডের স্বাদ নিতে ভালোবাসেন, তারা প্রিমো আরএম৪ এর দিকে ঝুঁকতে পারেন।

ব্যাটারি

একটি স্মার্টফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে সেই স্মার্টফোনের ব্যাটারি! ফোনে ভালো ভালো অনেক ফিচারস থাকলেও পরিমিত পরিমাণ ব্যাটারি লাইফ না থাকার কারনে শান্তিমত কিছুসময়ও সেই ফোন ব্যবহার করা যায় না। যারা সারাদিন স্মার্টফোন নিয়েবাইরে থাকেন, কিংবা স্মার্টফোন নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় ছবি কিংবা দীর্ঘক্ষণ গেমিং করেন, তাদের জন্য নিঃসন্দেহে দরকার খুব শক্তপোক্ত একটি ব্যাটারি লাইফ! আর ব্যাটারির প্রয়োজনীয়তার এসব ব্যাপার প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে খুব ভালভাবেই নজরে আনা হয়েছে। স্মার্টফোনটিতে আপনি পাবেন ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি।

আর রিভার্স চার্জিং সুবিধা থাকার ফলে, স্মার্টফোনটি দিয়ে আপনি অন্য যেকোনো ডিভাইস চার্জ দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার প্রিমো আরএম৪ আপনার স্মার্টফোন কাম পাওয়ারব্যাঙ্ক!!

যার মানে ফুল চার্জ দিয়েও চোখ বন্ধ করে স্মার্টফোনটি আপনি দুইদিন খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করতে পারবেন।ওয়ালটনের তথ্য মতে, এই স্মার্টফোনটি ফুল চার্জ দেয়ার পর স্ট্যান্ডবাই পাওয়া যাবে ৬১ দিন, টানা ভয়েস কলিং করা যাবে ৪৯ ঘণ্টা, টানা ভিডিও রেকর্ডিং হবে ৯ ঘন্টা, টানা মিউজিক প্লে হবে ৪৮ ঘন্টা, ওয়েব ব্রাউজিং করা যাবে ২২ ঘন্টা এবং টানা ভিডিও প্লে ব্যাক ২২ ঘন্টা। সময় যাবে কিন্তু স্মার্টফোনকে বারবার চার্জ দেয়া, সাথে অতিরিক্ত পাওয়ার নিয়ে ঘোরাফেরার চিন্তা থাকবে না।

পরিশিষ্ট

এই বাজেট রেঞ্জে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটি যা অফার করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্মার্টফোনটির আমার দিক থেকে সবচেয়ে ভালোলাগা যে দিক সেটি হচ্ছে এর বিগ ব্যাটারি লাইফ। এই স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা ৫৯৫০ প্রায় প্রায় ৬০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি নিঃসন্দেহে বাজেরে এই দামের দামের আশেপাশে অন্যসকল স্মার্টফোন থেকে আরএম৪ কে এগিয়ে রাখবে, তাছাড়াও এগিয়ে থাকার ফ্যাক্টর এর দারুন স্পেসিফিকেশন তো আছেই! স্মার্টফোনটির সাথে পাবেন ৩০ দিনের রিপ্লেস্মেন্ট ওয়ারেন্টি, ১০১ দিনে প্রায়োরিটি সার্ভিস, ১ বছরের রেগুলার সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং চার্জার, কেবল এবং ব্যাটারিতে ৬ মাসের ওয়ারেন্টি।

পুড়োটা পড়ুন

বিশাল ব্যাটারি, শক্তিশালী র‌্যাম-রমের ওয়ালটন ফোনের প্রি-বুকে ছাড়

নভেম্বর ০৫, ২০২০

 স্মার্টফোন বাজারে একের পর এক চমক দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বাধুনিক ফিচারে সমৃদ্ধ হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে ওয়ালটন অর্জন করেছে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আস্থা।

এরই ধারাবাহিকতায় নতুন মডেলের আরেকটি মিড রেঞ্জের ফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলো ওয়ালটন। ফোনটির মডেল: প্রিমো আরএমফোর। এতে রয়েছে বড় পর্দা, বিশাল ব্যাটারি, ট্রিপল ব্যাক ক্যামেরা, শক্তিশালী র‌্যাম-রমসহ নজরকাড়া সব ফিচার। ফোনটির প্রি-বুকে থাকছে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়।

ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন বিক্রয় বিভাগের প্রধান আসিফুর রহমান খান জানান, ‘প্রিমো আরএমফোর’ ফোনের দাম ধরা হয়েছে ১০,৫৯৯ টাকা। এখন নেয়া হচ্ছে প্রি-বুক। প্রি-বুক দেয়া ক্রেতাদের জন্য থাকছে ১০০০ টাকা মূল্যছাড়। ফলে এর দাম পড়বে মাত্র ৯,৫৯৯ টাকা।

তিনি জানান, অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই ওয়ালটন ই-প্লাজা (eplaza.waltonbd.com) থেকে বিনামূল্যে ফোনটির প্রি-বুক দেয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, মোবাইলের ব্র্যান্ড ও রিটেইল আউটলেটে ১ হাজার টাকা জমা দিয়ে ফোনটির আগাম ফরমায়েশ দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

ওয়ালটন সূত্রে জানা গেছে, দুর্দান্ত পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য ‘প্রিমো আরএমফোর’ মডেলের ওই ফোনে ব্যবহৃত হয়েছে ৫৯৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। যাতে রয়েছে রিভার্স চার্জিং সুবিধা। ফলে এটির মাধ্যমে পাওয়ার ব্যাংক হিসেবে অন্য ডিভাইসে চার্জ দেয়া যাবে।

স্মার্টফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৬.৫ ইঞ্চির ১৯.৫:৯ রেশিওর ভি-নচ ডিসপ্লে। এইচডি প্লাস পর্দার রেজ্যুলেশন ১৬০০ বাই ৭২০ পিক্সেল। আইপিএস প্রযুক্তির স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ধূলা ও আঁচররোধী ২.৫ডি কার্ভড গ্লাসও। ফলে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার এবং ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বই পড়া বা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন গ্রাহক।

অ্যান্ড্রয়েড ১০ অপারেটিং সিস্টেম চালিত হওয়ায় এই ফোনের কার্যক্ষমতা ও গতি হবে অনেক বেশি। এতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যন্ত স্লিম (১২ ন্যানোমিটার) ৬৪ বিটের ১.৮ গিগাহার্জ গতির এআরএম কোর্টেক্স-এ৫৩ অক্টাকোর প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে ৪ জিবি র‌্যাম এবং আইএমজি পাওয়ার ভিআর জিই৮৩২০ গ্রাফিক্স। ফলে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, থ্রিডি গেমিং এবং দ্রুত ভিডিও লোড ও ল্যাগ-ফ্রি ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধা পাওয়া যাবে। ফোনটির অভ্যন্তরীণ মেমোরি ৬৪ জিবি। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ফোনটির পেছনে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত এফ ২.০ অ্যাপারচার সমৃদ্ধ পিডিএএফ প্রযুক্তির ৫পি লেন্সযুক্ত অটোফোকাস ট্রিপল ক্যামেরা। এর ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে সনি ১/৩.০৬ ইঞ্চির সেন্সর। যা দেবে উজ্জ্বল, ঝকঝকে রঙিন ছবি। ৫ মেগাপিক্সেলের দ্বিতীয় ক্যামেরায় ওয়াইড-অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা যাবে। আর ০.৩ মেগাপিক্সেলের তৃতীয় ক্যামেরায় আছে ডেপথ সেন্সর। আকর্ষণীয় সেলফির জন্য সামনে রয়েছে এফ ২.২ অ্যাপারচার সমৃদ্ধ পিডিএএফ প্রযুক্তির ৪পি লেন্সযুক্ত ৮ মেগাপিক্সেলের সনি ক্যামেরা। যা অল্প আলোতেও দেবে নিখুঁত সেলফি। উভয় ক্যামেরায় ফুল এইচডি ভিডিও ধারণ করা যাবে। রয়েছে বিএসআই সেন্সর, বোকেহ, বিউটি, কিউট, টাচ ফোকাস, টাচ ক্যাপচার, ভলিউউম ক্যাপচার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্যাপচার, সেলফ টাইমার, গ্রিড লাইন, হোয়াইট ব্যালান্স,ফেস ডিটেকশন, ডিজিটাল জুমসহ অসংখ্য আকর্ষণীয় ফিচার।

কানেক্টিভিটি হিসেবে আছে ওয়াই-ফাই ৮০২.১১, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, ওয়ারলেস ডিসপ্লে, ল্যান হটস্পট, ওটিএ এবং ওটিজি। সেন্সর হিসেবে রয়েছে প্রক্সিমিটি, ওরিয়েন্টেশন, লাইট (ব্রাইটনেস), অ্যাক্সিলারোমিটার (থ্রিডি), ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, জিপিএস, এ-জিপিএস নেভিগেশন ইত্যাদি।

হ্যান্ডসেটটি ডার্ক গ্রিন, নাইট ব্লু এবং ব্ল্যাক এই তিনটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে আসছে। এর অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ভিওএলটিই বা ভোল্টি সাপোর্টসহ ডুয়াল ৪জি সিম, মেমোরি কার্ডের জন্য আলাদা স্লট, রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও, ফুল এইচডি ভিডিও প্লে-ব্যাক, স্মার্ট ওয়েক আপ, মোশন জেসচার, ডার্ক মোড, ফোকাস মোড, ফুল স্ক্রিন জেসচার নেভিগেশন ইত্যাদি।

দেশে তৈরি এই স্মার্টফোনে রয়েছে বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন কেনার ৩০ দিনের মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়লে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেয়া হবে। এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে প্রায়োরিটি বেসিসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাছাড়া, স্মার্টফোনে এক বছরের এবং ব্যাটারি ও চার্জারে ছয় মাসের বিক্রয়োত্তর সেবা তো থাকছেই।

পুড়োটা পড়ুন

৯৪৯৯ টাকায় 'প্রিমো এইচএম৫' স্মার্টফোনের ৪জিবি র‍্যাম ভার্সন!

অক্টোবর ৩১, ২০২০

 


ওয়ালটন বাজারে বেশ কিছু মাস আগে লঞ্চ করে তাদের বাজেট রেঞ্জে দারুন একটি স্মার্টফোন প্রিমো এইচএম৫। যারা ১০ হাজারের নিচের বাজেটে একটি স্মার্টফোন চাচ্ছিলেন, যেটিতে মাল্টি টাস্কিং করা যাবে, গেমিং করা, তাছাড়াও করা যাবে অন্য সবরকম কাজ যা একটি স্মার্টফোনে করতে হয়, তাদের জন্য প্রিমো এইচএম৫ ছিল অনবদ্য। আর আজকের আর্টিকেলে আমি প্রিমো এইচএম৫ এর ৪ জিবি র‍্যাম ভার্সন নিয়ে আলোচনা করব। প্রিমো এইচএম৫ এর ৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম ভার্সনের বাজার মূল্য ৯৪৯৯ টাকা।

একনজরে প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটিঃ

  • ৬.১ ইঞ্চি আইপিএস প্যানেল ডিসপ্লে
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম
  • ১৩ মেগাপিক্সেলের সনি প্রাইমারি সেন্সর সহ ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট সেলফি ক্যামেরা
  • মিডিয়াটেক হেলিও এ২০ চিপসেট

আনবক্স করলে ফোনটির ভেতরে যা যা পাবেনঃ

ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

বাজেট ডিভাইস হলেও প্রিমো এইচএম৫ এর ডিজাইন দারুন। স্মার্টফোনটি একটি প্লাস্টিক ইউনি-বডি ডিজাইনে তৈরি। নিচে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এর একপাশে স্পিকার এবংঅন্যপাশে মাইক্রোফোন, ডানপাশে পাওয়ার এবং ভলিউম পোর্ট, উপরে অডিও পোর্ট এবং বামপাশে একটি সিম ডেডিকেটেড এসডি কার্ড ট্রে পাবেন। স্মার্টফোনটির তিনটি কালার ভেরিয়েন্ট বাজারে পাওয়া যাবে, আর এগুলো হলঃ ব্ল্যাক, ব্লু(মিডনাইট সায়ান) এবং পার্পেল। ব্ল্যাক কালার ভেরিয়েন্টে রিয়ার প্যানেল গ্লিটার এর মত চিকচিক করবে। আর বাকি দুই কালার ভেরিয়েন্ট রিয়ার প্যানেলে আপনাকে গ্র্যাডিয়েন্ট কালার ফিনিস দেবে। স্মার্টফোনটির ফিনিসিং গ্লসি, তাই কিছুটা পিচ্ছিল লাগতে পারে। তবে একহাতে স্মার্টফোনটিকে খুব সহজে ব্যবহার করা যাবে।

স্মার্টফোনটিতে পাবেন ৬.১ ইঞ্চি উপ্লাস আইপিএস ডিসপ্লে। পুরো ব্রাইটনেসে সূর্যের সরাসরি আলো ব্যাতিত আর তেমন সমস্যা হবেনা। আর ডিসপ্লের কালার-কনট্রাস্ট লেভেল গুলোও চলনসই। ডিসপ্লেটির এস্পেক্ট রেশিও ১৯ঃ৯। আর এই ডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১৫৬০*৭২০ পিক্সেল। স্মার্টফোনটিতে ভিউইং এঙ্গেলও যথেষ্ট ভালো এবং কালার শিফটিং একদম নেই বললেই চলে।

হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার

স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এন্ড্রয়েড ১০ পাই এডিশন। আর এর কাস্টম রমটি পুরোপুরি স্টক, আর ইউআই ট্রানজেকশনও যথেষ্ট স্মুথ। আপনি স্টক লাভার হয়ে থাকলে আশা করি ফোনটি ব্যবহার করে পুরো স্টক রম এর মজাটি পাবেন।

প্রিমো এইচএম৫ ডিভাইসকে হার্ডওয়্যার এর দিক দিয়ে ব্যাকআপ দিবে মিডিয়াটেক এর ১২ ন্যনোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হেলিও এ২০ চিপসেট। এটি একটি ১.৮ গিগাহার্জ ক্লকস্পিডের কোয়াড কোর সিপিইউ।

স্মার্টফোনটিকে সিস্টেম ব্যাকআপ দিবে একটি ৪ জিবি র‍্যাম। এর সাথে ডিভাইসটিতে ইন্টারনাল স্টোরেজ পাওয়া যাবে ৬৪ জিবি। স্মার্টফোনটিতে পাবজি এবং ফ্রিফায়ারের মত গেমস খেলা যাবে দারুন ভাবে। আর ইন্টারনাল স্টোরেজ বেশি হবার কারনে মাল্টিটাস্কিং এও স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে শান্তি পাবেন। এর ডেডিকেটেড স্লটে স্মার্টফোনটিতে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

ক্যামেরা

প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটির অনন্য একটি ফিচার বলা যেতে পারে এর ক্যামেরা সেকশনকে। কেননা ফোনটিতে প্রাইমারি সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সনির ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর। স্মার্টফোনটির ক্যামেরা অনেক মিড বাজেট শক্তিশালী স্মার্টফোনের ক্যামেরার সাথেও টেক্কা দিতে সক্ষম। কালার, শার্পনেস, ডিটেইলস দাম হিসেবে দারুন। তবে আলো কমে গেলে এর পারফর্মেন্স একটু কমে আসতে শুরু করে এবং ছবিতে হালকা নয়েস চলে আসে, তবে স্বাভাবিক আলোতে স্মার্টফোনটি দিয়ে দারুন সব ছবি ধারন করা যায়। আর এই ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেসনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। আর ক্যামেরার দিক দিয়ে এই বাজেট সেকশনে সবচেয়ে সেরা স্মার্টফোন ক্যামেরার কথা বলা হলে সেখানে প্রিমো এইচএম৫ থাকবে।

স্মার্টফোনটির ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরাও সেলফি লাভারদের নিরাশ করবে না। আর ফ্রন্ট সেলফি ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি ফোন কোন রিটাচ করবে না, একদম Raw ছবিটিই উঠবে। আর স্টেবলভাবে ফোনটির ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললে আপনি খুব ভালো শার্পনেস যুক্ত ছবি ধারন করতে সক্ষম হবেন।

পরিশেষে

ওয়ালটনের অন্যসকল স্মার্টফোনের মতই এই ‘প্রিমো এইচএম৫’ এও পাবেন ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং ৩০ দিনের রিপ্লেস্মেন্ট গ্যারান্টি।

অবশ্যই প্রশ্ন আসবে, ওয়ালটন প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটি কেমন? ৯৪৯৯ টাকায় ৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম এক কথায় অসাধারন! স্মার্টফোনটির সামনে এবং পিছে দুটোতেই ক্যামেরা কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো। এক হাতে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন খুবি সহজে, আর ৪৯০০ এমএএইচ ব্যাটারি থাকার ফলে ফুল চার্জে ২ দিনের মত ব্যাটারি ব্যাকআপও পেতে পারেন। আর এই বাজেট এর ভেতর যদি আপনাকে স্মার্টফোন কিনতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে ওয়ালটন প্রিমো এইচএম৫ আপনার সেরা পছন্দ হতে পারে।

পুড়োটা পড়ুন

বেভেলিন সিরিজের দেড় টন ইনভার্টার এসিঃ দামেও সেরা সাশ্রয়েও সেরা!

অক্টোবর ৩০, ২০২০

 


অসম্ভব এই গরমের মৌসুমে নিজের ঘরে এসি লাগানোর কথা ভাবছেন? তবে সকল চিন্তা চলে আসে সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত একটি এসি কেনার কাজ আসলে। এসি কিনতে গিয়ে অনেকেরই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কি এসি, কত ক্যাপাসিটির এসি এরকম আনুসাঙ্গিক অনেক প্রশ্ন আসে। অনেক মানুষ আবার কেবল ব্র্যান্ডমুগ্ধতা থেকে এসি কিনে বসেন। অনেক বিষয় বিবেচনা না করে এসি কেনার ফলে দিনশেষে ঠকতে হয়, পরে এতো দামি একটি বিনিয়োগকে ফিরিয়েও নেয়া যায় না।

ওয়ালটন বাজারে নিয়ে এসেছে দেড় টন ক্যাপাসিটির বেভেলিন সিরিজের একদম নতুন একটি এসি WSI-BEVELYN-18C। দারুন ডিজাইন এবং সুবিধার এই এসিটি বাজারে পাওয়া যাবে মাত্র ৬৩ হাজার টাকায়। এসিটিতে যেমন উন্নত ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি এসিটি যথেষ্ট পরিবেশ বান্ধব, কেননা এতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আমরা আজকে দারুন এইটির কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব,

  • এসিটির কম্প্রেসর প্রযুক্তি
  • এসিটিতে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস
  • তাছাড়া এর আনুসাঙ্গিক আরো সুবিধাদি

এসিটির কম্প্রেসর প্রযুক্তি

এসিটিতে পাওয়া যাবে রোটারি ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসর। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসির থেকেও অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে।

একটি এসির কার্যক্ষমতা কতটা ভালো এবং সেটি বাতাসে ঠিক কি পরিমাণে তাপ ছড়াচ্ছে তা নিরূপণের অনেকগুলো বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে এসির COP তথা কো-ইফিসিয়েন্ট অফ পাওয়ার। COP রেটিং যত বেশি হবে সেই এসির পারফর্মেন্স তত বেশি ধরা হবে, COP রেটিং পয়েন্ট মূলত ১.৫ থেকে ৪ এর ভেতর হয়। মূলত COP রেটিং ৩ এর ওপর হলে সেই এসিকে সাশ্রয়ী এবং কার্যক্ষমতার দিক দিয়ে তুলনামূলক ভালো ধরা হয়। আর এই এসির COP রেটিং পয়েন্ট ৩.৭। সবমিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কমপ্রেসর লাইফ, সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ খরচ, উন্নত মোটর নিয়ে এসিটি ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এসিটিতে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস

এসি কতটা সাশ্রয়ী, সেটিও অনেকটা নির্ভর করে এসিটিতে কোন রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর। এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৩২ নামক রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহারের জন্য আর৪১০এ হল একটি মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আগে আর২২ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই মারাত্তক।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স এপ্লায়েন্স, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি নিয়ামক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

তাছাড়া এর আনুসাঙ্গিক আরো সুবিধাদি

'বেভেলিন' এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন। 'বেভেলিন' এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে 'বেভেলিন' এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে।

পরিশেষে

ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি, ৪ স্তরে নানা দিক থেকে অনেক বেশি কার্যক্ষম বলে এসিটি এমনিতেও ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আর তাছাড়াও এসিটির কমপ্রেসর বিশেষ করে আমাদের দেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে আমাদের দেশের সাপেক্ষে তা অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে অন্যান্য বাইরের এসির তুলনায়।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। অথবা কিনতে এবং দেখে আসতে পারেন ওয়ালটন ইপ্লাজা থেকে। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।

পুড়োটা পড়ুন

স্বল্পমূল্যে বাজারে ৩ জিবি র‍্যামের স্মার্টফোনগুলো!

অক্টোবর ২৮, ২০২০


 বর্তমান সময়ে অনলাইন ক্লাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে একটি তুলনামূলক মানসম্মত স্মার্টফোন সবারই প্রয়োজন! তবে সমস্যাটা আমাদের বাজেট এর সাথে। বর্তমান সময়ে একটি তুলনামূলক ভালো স্মার্টফোন বলতে তাতে ৩ জিবি র‍্যাম থাকা চাই! বাজারে আমাদের সাধ্যের ভেতর বেশিরভাগ সময়ই ভালো কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি পাওয়া যায় না। তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল, আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব, সল্প মূল্যে বাজারে ৩ জিবি র‍্যামের সেরা স্মার্টফোনগুলো নিয়ে।

প্রিমো আরএক্স৭ মিনি

বাজেট এর ভেতর যারা দারুন একটি গেমিং স্মার্টফোন চান, তাদের জন্য বিগত বছর লঞ্চ হওয়া ওয়ালটন এর পক্ষ থেকে একটি যুগান্তকারী স্মার্টফোন হচ্ছে প্রিমো আরএক্স৭ মিনি। স্মার্টফোনটি ছিল একসময়কার বাজারের টপ সেলার, আর এক সময়কার টপ সেলার মানে স্মার্টফোনটি অবশ্যই দামের সাথে পারফরমেন্সের দিক দিয়ে অনবদ্য ছিল তা একদম আর বলতে! স্মার্টফোন্টির স্পেসিফিকেশন থেকে এর বিল্ট কোয়ালিটি দুটোই এর দামের হিসেবে একদম পয়সা অসুল!

একনজরে প্রিমো আরএক্স৭ মিনি

  • ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৩২ জিবি রম
  • ১৯ঃ৯ রেসিও সম্পন্ন ৫.৯ ইঞ্চি এইচডি+ আইপিএস ইনসেল ডিসপ্লে
  • মিডিয়াটেক হেলিও পি৬০, ১.৮ গিগাহার্জ অক্টাকোর চিপসেট
  • ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, টাইপ সি পোর্ট
  • ১৩ মেগাপিক্সেল এবং সেকেন্ডারি ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা

প্রিমো আরএক্স৭ মিনি স্মার্টফোনটির রিভিউ

প্রিমো এইচএম৫

অসাধারন ডিজাইন এবং দারুন স্পেসিফিকেশনে ৮৫৯৯ টাকায় ওয়ালটনের আরেকটি অনবদ্য স্মার্টফোন হচ্ছে প্রিমো এইচএম৫। প্রিমো এইচএম৫ এর দারুন লুক এবং এর স্পেসিফিকেশন স্মার্টফোনটির দামের সাথে গ্রাহকদের ভেতর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছিল এবং নিয়েছে। এইচএম সিরিজের এই ফোন এইচএম৫ এর অন্যতম আকর্ষণ এর ৩ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম, ৪৯০০ এমএএইচ ব্যাটারি, হেলিও এ২০ চিপসেট সহ আরো অনেক কিছু।

একনজরে প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটি

  • ৬.১ ইঞ্চি আইপিএস প্যানেল ডিসপ্লে
  • ৩ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম
  • ১৩ মেগাপিক্সেলের সনি প্রাইমারি সেন্সর সহ ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট সেলফি ক্যামেরা
  • মিডিয়াটেক হেলিও এ২০ চিপসেট

প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটির রিভিউ

প্রিমো এইচ৯

ওয়ালটনের সাশ্রয় মূল্যের স্মার্টফোন সমগ্রের মধ্যে অন্যতম আরেকটি সংযোজন প্রিমো এইচ ৯। প্রিমো এইচ৯ এর রিয়ার প্যানেলে থাকছে ১৩+২ মেগাপিক্সেলের সেন্সর নিয়ে একটি ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল আর সামনে ফ্রন্ট ক্যামেরা হিসেবে থাকছে একটি ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর। ৩২ জিবি ইন্টারনাল মেমরি এর পাশাপাশি এই স্মার্টরফোনটিতে আপনি অতিরিক্ত ১২৮ জিবি পর্যন্ত এক্সট্রা মাইক্রো এসডি কার্ডও ব্যবহার করতে পারবেন! স্মার্টফোনটির দাম মাত্র ৭৮৯৯ টাকা।

একনজরে প্রিমো এইচ৯ স্মার্টফোনটি

  • ১৯ঃ৯ রেশিও, ৬.১ ইঞ্চি ইউ-নচ সমৃদ্ধ ডিসপ্লে
  • ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর
  • PowerVR Rouge GE8322 জিপিইউ
  • ৩ জিবি ডিডিআর৪ র‍্যাম এবং ৩২ জিবি রম, ১২৮ জিবি পর্যন্ত এসডি কার্ড সাপোর্ট
  • ১৩ মেগাপিক্সেল এবং ২ মেগাপিক্সেল সেন্সর নিয়ে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা মডিউল
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ৩৫০০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি

প্রিমো এইচ৯ স্মার্টফোনটির রিভিউ

স্মার্টফোন গুলো দেখতে অবশ্যই চলে যেতে পারেন আপনার নিকটস্থ ওয়ালটন প্লাজায়; আর সবগুলো স্মার্টফোনের সাথেই আপনি পাবেন ওয়ালটনের রেগুলার ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি। আশা করি আজকের লেখাটি ভালো লাগল, নিচে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না।

পুড়োটা পড়ুন

ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি সহ সেরা দামে সেরা ইনভার্টার এসি!

অক্টোবর ২৮, ২০২০


শরীর এবং মন ঠাণ্ডা থাকা নির্ভর করে পরিবেশের উপর, আর আপনার একান্ত নিজের আশ্রয় কিংবা কর্মস্থলে এই পরিবেশ কিভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন তা নির্ভর করে আপনার অপর। বর্তমান আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি পুর্নাঙ্গ শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা থাকা যেন একদম অত্যাবশ্যকীয়। তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, আপনার ঘরের কৃত্রিম শীতল পরিবেশ ব্যবস্থা যেন আসল পরিবেশের ক্ষতি না করে। একটি এসির এই গুণটি নির্ভর করবে সেই এসির কার্যক্ষমতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ীতা এবং সেটিতে কতটা পরিবেশবান্ধব গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে সেসকল বিচারে।

আর যখন এসব সূচকে একটি এসি যখন পরিপূর্ণ থাকে তবে অবশ্যই আমরা সেই এসিকে একটি ভালো এবং মানসম্মত এসি বলব। আর সেটিও যদি হয় খুবি সাশ্রয়ী দামে, প্রায় সকল মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে, তাহলে তো কথাই নেই! ঠিক প্রতিনিয়ত এমনি সব নিত্যনতুন প্রযুক্তির এসি নিয়ে আসে বাংলাদেশী ইলেক্ট্রনিকস জায়ান্ট ওয়ালটন।তারই ধারাবাহিকতায় ওয়ালটন সম্প্রতি বাজারে উন্মোচন করেছে তাদের নতুন ডায়মন্ড সিরিজ।

আজকে আমরা এই ডায়মন্ড সিরিজের একটি ১৮০০০ বিটিইউ তথা দেড় টনের ইনভার্টার স্মার্ট এসি সম্পর্কে জানব। এসিটির মডেল নামঃ WSI-DIAMOND-18F [Smart], এসিটির ওয়াটঃ ৫২৭৫, এসিটিতে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেন্টঃ আর-৩২, এসিটিতে ব্যবহৃত কমপ্রেসর টাইপঃ রোটারি-ইনভার্টার, এসিটির দামঃ৬৫০০০ টাকা। WSI-DIAMOND-18F [Smart] এসিটি একটি আইওটি নির্ভর স্মার্ট এসি, যার মানে এটিকে ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত করে, একটি স্মার্টফোন মোবাইল অ্যাপলিকেশন এর মাধ্যমে ঘরে বসে, এমনকি পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে খুব সহজেই।

ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি

এসিটির অন্যতম একটি কার্যকরী প্রযুক্তি হচ্ছে এসিটির ‘ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি’। বেশিরভাগ এসির ইনডোর ইউনিট এর ‘এভাপরেটরে’ ময়লা জমে। এখানে ময়লা জমতে জমতে নানারকম ব্যাকটেরিয়া তথা মাইক্রোঅর্গানিজম’ও জন্ম নেয়। এমনকি সামনের এই অংশে ফাঙ্গাসও জমে! এই জন্য সবাই নিয়মিত এসির ইনডোর ইউনিট খুলে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে WSI-DIAMOND-18F [Smart] এসিতে থাকা এই ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি এসিটির রিমোট কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে চালু করলে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসিটি নিজে থেকেই এই এভাপরেটর’কে পরিষ্কার করার কাজ করবে; একে শুষ্ক এবং ফাঙ্গাসমুক্ত রাখবে।

ইনভার্টার প্রযুক্তি

এসিটিতে পাওয়া যাবে রোটারি ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসর। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসির থেকেও অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে।

একটি এসির কার্যক্ষমতা কতটা ভালো এবং সেটি বাতাসে ঠিক কি পরিমাণে তাপ ছড়াচ্ছে তা নিরূপণের অনেকগুলো বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে এসির COP তথা কো-ইফিসিয়েন্ট অফ পাওয়ার। COP রেটিং যত বেশি হবে সেই এসির পারফর্মেন্স তত বেশি ধরা হবে, COP রেটিং পয়েন্ট মূলত ১.৫ থেকে ৪ এর ভেতর হয়। মূলত COP রেটিং ৩ এর ওপর হলে সেই এসিকে সাশ্রয়ী এবং কার্যক্ষমতার দিক দিয়ে তুলনামূলক ভালো ধরা হয়। আর এই ডায়মন্ড এসিটির COP রেটিং পয়েন্ট ৩.৩৫। সবমিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কমপ্রেসর লাইফ, সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ খরচ, উন্নত মোটর নিয়ে এসিটি ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস

এসি কতটা সাশ্রয়ী, সেটিও অনেকটা নির্ভর করে এসিটিতে কোন রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর। ডায়মন্ড এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনারে আর৪১০এ বেশ মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আগে ‘আর২২’ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই ক্ষতিকর।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দ্বায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা আমাদের জন্য বিবেচনায় নেয়া অতীব জরুরি। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি সূচক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

পরিশিষ্ট

ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি, ৪ স্তরে নানা দিক থেকে অনেক বেশি কার্যক্ষম বলে এসিটি এমনিতেও ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আর তাছাড়াও এসিটির কমপ্রেসর বিশেষ করে আমাদের দেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে আমাদের দেশের সাপেক্ষে তা অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে অন্যান্য বাইরের এসির তুলনায়।

ডায়মন্ড এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন। ডায়মন্ড এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে ডায়মন্ড এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। অথবা কিনতে এবং নানারকম তথ্য দেখে আসতে পারেন ওয়ালটন ইপ্লাজা থেকে। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।

পুড়োটা পড়ুন

ওয়ালটন ইনভার্টার এসি দামেও কম, খরচেও কম!

অক্টোবর ২৬, ২০২০

 


বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেক্ট্রনিক্স এপ্লায়েন্স হল এয়ার কন্ডিশনার তথা এসি। এসিই পারে তীব্র গরমের প্রচণ্ড ক্লান্তি থেকে দারুন এক প্রশান্তি দিতে। সুতরাং বর্তমান দেশের এই আবহাওয়ায় একটি এসি না হলে চলেই না। তবে এসি অবশ্যই হতে হবে নিজের সাশ্রয়ের মধ্যে। সাশ্রয় হতে হবে কেবল এটিকে প্রথম কেনার সময় নয়, সার্বিকভাবে এসিটির পরিচালনা’তেও। ঠিক এমনি সব নিত্যনতুন প্রযুক্তির এসি নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয় প্রতিনিয়ত দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন।

ওয়ালটন বাংলাদেশের সবচাইতে বড় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়, আর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পণ্য ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের অধীনে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা এসি এবং রেফ্রিজারেটর। সুতরাং মানের দিক দিয়ে ওয়ালটন এসি দেশের বাজারে অন্য যেকোনো এসির থেকে সেরা।

ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি সহ বাতাসের বিশুদ্ধতার জন্য আইওনাইজার, ভাইরাল এবং ডাস্ট ফিল্টার নিয়ে ওয়ালটন বাজারে নিয়ে এসেছে ১২০০০ বিটিইউ তথা ১ টন ক্যাপাসিটির WSI-KRYSTALINE-12A [Defender] মডেলের এসি। আপনার ঘর যদি ১৫০ স্কয়ারফিট এর ছোট হয় তবে এই এসিটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে। এসিটির দাম ৪৬ হাজার টাকা।

আমরা আজকে এই ক্রিস্টালাইন ১ টন এসিটি নিয়ে কিছু বিষয় জানব যেমন,

  • কম্প্রেসর সম্পর্কিত তথ্য
  • বাতাস বিশুদ্ধকরন এবং ভাইরাস প্রতিরোধী সম্পর্কিত তথ্য
  • ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধক রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস সম্পর্কিত তথ্য

এসিটির কম্প্রেসর প্রযুক্তি

এসিটিতে পাওয়া রোটারি ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসর। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসির থেকেও অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে।

একটি এসির কার্যক্ষমতা কতটা ভালো এবং সেটি বাতাসে ঠিক কি পরিমাণে তাপ ছড়াচ্ছে তা নিরূপণের অনেকগুলো বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে এসির COP তথা কো-ইফিসিয়েন্ট অফ পাওয়ার। COP রেটিং যত বেশি হবে সেই এসির পারফর্মেন্স তত বেশি ধরা হবে, COP রেটিং পয়েন্ট মূলত ১.৫ থেকে ৪ এর ভেতর হয়। মূলত COP রেটিং ৩ এর ওপর হলে সেই এসিকে সাশ্রয়ী এবং কার্যক্ষমতার দিক দিয়ে তুলনামূলক ভালো ধরা হয়। আর এই এসির COP রেটিং পয়েন্ট ৩.০১। সবমিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কমপ্রেসর লাইফ, সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ খরচ, উন্নত মোটর নিয়ে এসিটি ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এসিটির বাতাস বিশুদ্ধকরন এবং ভাইরাস প্রতিরোধী প্রযুক্তি

এসিটিতে বাতাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য পরপর দুটি দারুন কার্যকরী সুবিধা দেয়া হয়েছে, একটি আইওনাইজার এবং আরেকটি অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার। আইওনাইজার সুবিধা সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি, এটি এসির মাধ্যমে বাতাসে নেগেটিভ আয়ন উন্মুক্ত করে দিয়ে বাতাসের খারাপ কিছু উপাদানকে বিনষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে এর পাশাপাশি এসিটিতে থাকা অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার এর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাতাসকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। আর এই অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার ০.৩ মাইক্রন আকৃতি পর্যন্ত ব্যক্টেরিয়া, ভাইরাস অনুকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

এসিটিতে ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস

এসি কতটা সাশ্রয়ী, সেটিও অনেকটা নির্ভর করে এসিটিতে কোন রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর। এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৩২ নামক রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহারের জন্য আর৪১০এ হল একটি মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। আগে আর২২ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই মারাত্তক।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স এপ্লায়েন্স, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি নিয়ামক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে। R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

এসিটির সাথে ওয়ারেন্টি সেবা

এই এসিটির কম্প্রেসরে পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।

এসিটির ই-প্লাজা লিঙ্ক। তাছাড়াও ফাস্ট কুলিং মুড, এনার্জি সেভিং ইকো মুড, মাল্টিডাইরেকশন বাতাস প্রবাহএর একটি ভালো এসিতে থাকার মত নিমিত্ত সুবিধা তো থাকছেই। পুরো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমাদের দেশে তৈরি এই ওয়ালটন এসি কিন্তু সুবিধার দিক দিয়ে কোন অংশেই দেশের বাজারে থাকা অন্যসকল এসির থেকে কম নয়। বরং সাশ্রয়ের বিচারে সুবিধার দিক দিয়ে তাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে।

পুড়োটা পড়ুন