ট্রিপল ক্যামেরা, ৪জিবি র‍্যাম নিয়ে 'সাড়ে নয় হাজার' টাকায় প্রিমো এইচ৯ প্রো

আগস্ট ৩০, ২০২০


 বিগত বেশ কিছু সময় ধরে, কম বাজেটে দারুন দারুন সব স্মার্টফোন নিয়ে এসে বাজারে ওয়ালটন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কিছুদি আগের প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনের পর ওয়ালত্ন বাজারে নিয়ে আসল তাদের আরেকটি বাজেট ফোন প্রিমো এইচ৯ প্রো। প্রিমো এইচ৯ এর সিকুয়াল এই এইচ৯ প্রো স্মার্টফোনটির দারুন কিছু সুবিধার ভেতর আপনি পাবেন; ৬৪ জিবি রম, ৪ জিবি র‍্যাম, ১.৮ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর, ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ সহ আরো অনেককিছু। আজকের আর্টিকেলে স্মার্টফোন্টি নিয়ে আলোচনা থাকবে বিস্তারিত।

এক নজরে প্রিমো এইচ৯ প্রো স্মার্টফোনটি,

  • ৪জি ভোএলটিই নেটওয়ার্ক সাপোর্ট
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম (২৫৬ জিবি পর্যন্ত এক্সটারনাল মেমরি সাপোর্ট)
  • হেলিও এ২০ চিপসেট
  • ৬.১ ইঞ্চি ১৯ঃ৯ রেসিও আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল
  • ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ফাস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • দাম ৯৫৯৯ টাকা

স্মার্টফোনটির বক্স খুলে ভেতরে যা যা পাবেন,

হার্ডওয়্যার ও পারফর্মেন্স

প্রিমো এইচ৯ প্রো স্মার্টফোনটিতে পাচ্ছেন মিডিয়াটেক এর ১২ ন্যনোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হেলিও এ২০ চিপসেট। এটি একটি ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের কোয়াড কোর সিপিইউ। এনটুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ৮১১৯২। গিকবেঞ্চ অ্যাপে সিঙ্গেল কোরে এসেছে ১৫৪ এবং মাল্টি কোরে রেজাল্ট এসেছে ৫১৮। স্মার্টফোনটির গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটে থাকছে ‘পাওয়ার ভিআর রগ জিই৮৩০০’ জিপিইউ।

এই বাজেটে প্রিমো এইচ৯ প্রো এর অন্যতম আকর্ষণ হল, এর সিস্টেম ব্যাকআপ দিবে একটি ৪ জিবি র‍্যাম। এর সাথে ডিভাইসটিতে ইন্টারনাল স্টোরেজ পাওয়া যাবে ৬৪ জিবি। স্মার্টফোনটিতে পাবজি এবং ফ্রিফায়ারের মত গেমস খেলা যাবে দারুন ভাবে। আর ইন্টারনাল স্টোরেজ বেশি হবার কারনে মাল্টিটাস্কিং এও স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে শান্তি পাবেন। সিম ট্রের সাথে এর ডেডিকেটেড এসডি কার্ড স্লটে স্মার্টফোনটিতে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

ক্যামেরা

স্মার্টফোনটির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক এর রিয়ার প্যানেলের ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল। এই ট্রিপল ক্যামেরা মডিউলের মেইনে আপনি পাবেন একটি ১৩ মেগাপিক্সেল সনি সেন্সর। মেইন সনি সেন্সরের সাথে সেকেন্ডারি হিসেবে পাবেন একটি ৫ মেগাপিক্সেল অয়াইড এঙ্গেল সেন্সর। আর ডেপথ সেন্সিং এর জন্য সর্বশেষ পাবেন একটি ২ মেগাপিক্সেল সেন্সর। আর এই ফোনটিতে পাবেন বেশ কতগুলো শুটিং মোড।

ক্যামেরার লেন্সের ফোকাল লেন্থ এর অপর এর ছবির মান অনেকটা নির্ভর করে থাকে। এই ফোকাল লেন্থকে প্রকাশ করা হয় এপারচার দ্বারা। এপারচার নাম্বার যত ছোটো হবে ক্যামেরার ওপেনিং তত বড় হবে। আর এই ফোনটির ডুয়াল ক্যামেরা মডিউলে আপনি পাচ্ছেন এপারচার এফ২.০। যা আপনাকে অবজেক্টকে তুলনামূলক ভালো ফোকাস পয়েন্টে রেখে খুব দারুন কিছু ছবি তুলতে সহায়তা করবে।

ফ্রন্ট প্যানেলে সেলফি এবং সেলফ/ভিডিও কলিং এর জন্য পাচ্ছেন ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। সেলফি লাভারদের জন্য এটি সত্যিই এই দামে অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট। এতে থাকা বেশ কিছু শুটিং মোড ছবি এবং ভিডিওগ্রাফির ক্ষেত্রে আপানাকে বেশ ভাল কোয়ালিটি উপহার দিবে। আর ডে লাইটে তো দুর্দান্ত বটেই, লো-লাইটেও এর পারফর্মেন্স এই বাজেটের অন্য ফোনগুলোকে হার মানাতে সক্ষম।

ডিসপ্লে ও ডিজাইন

স্মার্টফোনটিতে পাবেন ৬.১ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে। ডিসপ্লেটির উপরে আপনি একটি ইউ শেপড নচ পাবেন। পুরো ব্রাইটনেসে সূর্যের সরাসরি আলো ব্যাতিত আর তেমন সমস্যা হবেনা। আর ডিসপ্লের কালার-কনট্রাস্ট লেভেল গুলোও চলনসই। ডিসপ্লেটির এস্পেক্ট রেশিও ১৯ঃ৯। আর এই ডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১৫৬০*৭২০ পিক্সেল। স্মার্টফোনটিতে ভিউইং এঙ্গেলও যথেষ্ট ভালো এবং কালার শিফটিং একদম নেই বললেই চলে।

স্মার্টফোনটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বিল্ডে তৈরি এবং যথেষ্ট সুন্দর। আপনি খুব সহজেই এক হাতে স্মার্টফোনটি অনায়াসে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। স্মার্টফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে ৪টি কালারে, এগুলো হলঃ মিডনাইট সায়ান, পার্পেল, ব্ল্যাক এবং আমাদের আজকের রিভিউ করা ক্রিস্টাল স্কাই। তবে সবগুলো কালারের চাইতে ক্রিস্টাল স্কাই কালারটি আমাদের কাছে বেশি অনন্য মনে হয়েছে।

হাতে নিয়ে আপনার ডিভাইসটিকে বেশ হালকাই মনে হবে, কেননা এর ওজন মাত্র ১৭৩ গ্রাম। আর স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেল কার্ভড হওয়ার ফলে হাতে খুব ভালোভাবেই গ্রিপ হবে। স্মার্টফোনটির অপরে পাবেন ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক, বাম পাশে পাবেন সিম কার্ড ট্রে, ডান পাশে পাওয়ার অন-অফ কি এবং ভলিউম রকার আর নিচে পাবেন একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও মাইক্রোফোন- স্পিকার গ্রিল।

পরিশিষ্ট

স্মার্টফোনটিতে যথেষ্ট ফাস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, এবং মুহূর্তেই এটি ফিঙ্গার রিড করে যেকোনো একশন খুবি দ্রুতই সম্পন্ন করতে পারে । সম্পূর্ণ ফোনটি পরিচালিত হবে একদম লেটেস্ট এন্ড্রয়েড ১০ অপারেটিং সিস্টেমে, যারা স্টক এন্ড্রয়েডকে বেশি পছন্দ করেন তাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট, কেননা এতে আপনি স্টক ‘এন্ড্রয়েড ১০’ এর মজাটা খুব ভালোভাবেই পাবেন। সম্পূর্ণ ডিভাইসকে ব্যাকআপ দেয়ার জন্য ওয়ালটন এতে দিয়েছে ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যা দিয়ে মোটামটি ভালভাবে ব্যবহার করেও স্মার্টফোনটি দিয়ে পুরো দিনের ব্যাকআপ পাওয়া যাবে অনায়াসেই।

ওয়ালটনের অন্যসকল স্মার্টফোনের মতই এই ‘প্রিমো এইচ৯ প্রো’ এও পাবেন ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং ৩০ দিনের রিপ্লেস্মেন্ট গ্যারান্টি।

আপনি যদি ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকার ভেতর ভালো একটি স্মার্টফোন খোঁজেন, তবে এই প্রিমো এইচ৯ প্রো এর কথা অবশ্যই ভেবে দেখতে পারেন। এই দামের হিসেবে স্মার্টফোনটিতে যা যা পাওয়া যাচ্ছে তাকে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না। এর ৪ জিবি র‍্যাম স্পেসিফিকেশন, তুলনামুলক ভালো চিপসেট, দারুন ক্যামেরা, ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি অবশ্যই আপনার কষ্টের টাকার মূল্য রাখবে।

পুড়োটা পড়ুন

অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় কেমন ওয়ালটনের রিভারাইন সিরিজের ২ টনের এসি!

আগস্ট ২৮, ২০২০

 


অসম্ভব এই গরমের মৌসুমে নিজের ঘরে এসি লাগানোর কথা ভাবছেন? তবে সকল চিন্তা চলে আসে সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত একটি এসি কেনার কাজ আসলে। এসি কিনতে গিয়ে অনেকেরই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কি এসি, কত ক্যাপাসিটির এসি এরকম আনুসাঙ্গিক অনেক প্রশ্ন আসে। অনেক মানুষ আবার কেবল ব্র্যান্ডমুগ্ধতা থেকে এসি কিনে বসেন। অনেক বিষয় বিবেচনা না করে এসি কেনার ফলে দিনশেষে ঠকতে হয়, পরে এতো দামি একটি বিনিয়োগকে ফিরিয়েও নেয়া যায় না।

এই আর্টিকেলের অন্যতম উদ্দেশ্য আপনাকে ন্যায্য দামে একটি ভালো এসি কেনার ক্ষেত্রে একটি সিন্ধান্ত দেয়া। আমরা যদি ন্যায্য এবং সাশ্রয় দামে দেশীয় তৈরি এসি পাই, এবং সেগুলো সুবিধার দিক দিয়ে যদি বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোকে টেক্কা দিতে সক্ষম এবং অনেকাংশে ভালো হয়; তবে কেনো আমরা কেনো সেটি কিনব না?

আপনার ঘর যদি ১৮০ থেকে ২৪০ স্কয়ার ফিটের মধ্যে হয়, তবে আপনার জন্য ২ টন তথা ২৪০০০ বিটিইউ ক্যাপাসিটির এসি প্রয়োজন। অনেকে আবার ১টন বা ২টন বলতে এসির সাইজকে বুঝি; তবে ১ টন মানে ১২০০০ বিটিইউ/আওয়ার একইভাবে ২ টন মানে ২৪০০০ বিটিইউ/আওয়ার। ২ টনের এসি প্রতি ঘণ্টায় ঘর থেকে ২৪০০০ বিটিইউ তাপ শোষণ করতে পারে। সেইহিসেবে যত বেশি টন ; তত বেশি তাপ শোষণ ক্ষমতা। বাইরের এসি আমাদের দেশের আবহাওয়ার উপর বিবেচনা করে একটি এসি সঠিক পরিমান তাপ শোষণ করতে পারবে কিনা, সেই বিষয়টিও এসি কেনার পূর্বে বিবেচনা করে নিতে হবে।

এই আর্টিকেলে আমরা ওয়ালটনের “WSI-RIVERINE-24C [Smart]” রিভারাইন সিরিজের এই দুই টনের এসিটির সাথে বিদেশি কিছু ব্র্যান্ড যেমন শার্প, প্যানাসনিক এবং জেনারেলের একই ২ টন এসির তুলনা করব, ধারনা দেয়ার চেষ্টা করব খুবই সাশ্রয়ী দামে কোন এসিটি আপনার জন্য কেনা ভালো হবে।

WSI-RIVERINE-24C [Smart]76400
AH-XP24SHVE ‘Sharp’ 84500
CU-US24SKD ‘Panasonic’96000
AOGR24AAT ‘General’ 104000

দুই টন ক্যাপাসিটির WSI-RIVERINE-24C [Smart] স্প্লিট এসির দাম ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা। এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। এসিটি আইওটি বেইজড, সেকারনে ঘরে বসে এমনকি পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে একে একটি মোবাইল অ্যাপ দ্বারাই নিয়ন্ত্রন করা যাবে। শার্পের জে-টেক ইনভার্টার প্রযুক্তির মত ওয়ালটনের রিভারাইন সিরিজের এই এসিতে পাওয়া যাবে টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তি। বাংলাদেশে দুই টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি কিনলে এর কমপ্রেসরে ১০ বছর এবং সার্ভিসে ৩ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে।

AH-XP24SHVE মডেলটি শার্পের ২টন ক্যাপাসিটির একটি স্প্লিট ইনভার্টার এসি। ওয়ালটন যেমন তাদের রিভারাইন সিরিজের এসিতে টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, তেমনই শার্প তাদের এই এসিতে ব্যবহার করেছে জে-টেক ইনভার্টার প্রযুক্তি। এই এসিটির সাথে পাওয়া যাবে ২ বছরের সেলার ওয়ারেন্টি। বাংলাদেশে ২ টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি পাওয়া যাবে ৮৪ হাজার ৫০০ টাকায়। CU-US24SKD মডেলটি প্যানাসনিকের ২টন তথা ২৪০০০ বিটিইউ ক্যাপাসিটির স্প্লিট এসি। এই এসিটিও ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি। বাংলাদেশে ২ টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি পাওয়া যাবে ৯৬ হাজার টাকায়।

একইভাবে AOGR24AAT জেনারেলের ২ টন ক্যাপাসিটির স্প্লিট এসি। তবে এই এসিটি ইনভার্টার প্রযুক্তির নয়। এই এসিটির বাজার মূল্য বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা।

আজকের তুলনায় আলোচিত সকল ব্র্যান্ডের এসিগুলোর ভেতর কেবল ওয়ালটন তাদের এসিতে আইওটি সুবিধা প্রদান করছে। যার মানে কেবল এসির সাথে থাকা আইআর রিমোট নয়, ওয়ালটনের এই এসিটি নিয়ন্ত্রন করা যাবে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত মোবাইল অ্যাপ দিয়ে, তাও আবার পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে।
বর্তমান সময়ে একটি মানসম্মত এসি কেনার ক্ষেত্রে ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যাতিত এসি কেনার কোনো বিকল্প একদম নেই বললেই চলে। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে। আজকের তালিকায় ওয়ালটন, শার্প এবং প্যানাসনিক এসিতে ইনভার্টার প্রযুক্তিতো ব্যবহার করার হয়েছেই, তাও এখানে কিছুতে অত্যাধুনিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন ওয়ালটনে টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তি, একইভাবে শার্পে জে-টেক ইনভার্টার। অন্যদিকে যদি আমরা জেনারেলের দিকে তাকাই, তবে সেটি একটি নন-ইনভার্টার এসি।

বৈশ্বিক পরিবর্তনের আজকের দিনে আমাদেরকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়েও ভাবতে হবে, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনায় রাখা অতীব জরুরি। বাতাসে তাপ তৈরির দিক দিয়ে 'আর-৪১০এ' এর চাইতে 'আর-২২' এগিয়ে। তাছাড়াও 'আর-৪১০এ' রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস 'আর-২২' এর চাইতে বেশি বিদ্যুত সাশ্রয়ীও বটে! 'আর-২২' রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস সমৃদ্ধ এসিতে সিস্টেম ওভারহিটিং এর সমস্যাও বেশি হয়। শার্প, প্যানাসনিক এবং আমাদের দেশীয় ওয়ালটনে যুগোপযোগী 'আর-৪১০এ' রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হলেও, জেনারেল এসিতে ব্যবহার করা হয়েছে 'আর-২২' রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস।

যদি এখন আমরা এসিগুলোর দামের দিকে তাকাই, তবে জেনারেলের ২ টন এসির বাজার মূল্য সবচেয়ে বেশি, ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। প্যানাসনিক ৯৬ হাজার টাকা এবং শার্পের দাম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে ওয়ালটনের রিভারাইন ২ টন এসির দাম পরছে অন্যসবের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ে, মাত্র ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা। সব দিক বিবেচনায় ওয়ালটনের রিভারাইন সিরিজের দুই টনের এই ইনভার্টার এসিটি দারুন ভাবে বাকিসব ব্র্যান্ডের এসির সাথে টেক্কা দিতে সক্ষম, আর সেই হিসেবে তালিকার অন্য এসিগুলোর চাইতে এটি অনেক বেশি সাশ্রয়ও হচ্ছে। আর ওয়ালটন এসির জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে বিক্রয়ত্তর সার্ভিসিং সেবাও দিচ্ছে। যদি আদৌ কোন সমস্যার সম্মুখীন হন কেউ, যা অন্যসব ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি, আর এটি ওয়ালটনে আস্থা রাখার জন্য অন্যতম একটি কারন।

অন্যান্য এসির কমপ্রেসর বাইরের দেশে বিদ্যুত এবং তাদের আবহাওয়ার জন্য তৈরি করা হলেও, ওয়ালটন এসির কমপ্রেসর বিশেষায়িতভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং আমাদের দেশের বিদ্যুৎ এর হিসেবে তৈরি করা। এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কম্পোনেন্ট কমপ্রেসর, অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় অন্তত আমাদের দেশে ওয়ালটনের কমপ্রেসরই বেশি টেকসই এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ী হবে, এটা বাস্তবিক। সুতরাং পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, দেশের টাকা বাইরে না পাঠিয়ে অত্যান্ত উপকারী এই ইলেকট্রনিকস অ্যাপ্লায়েন্স কেনার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের সঙ্গী হয়ে আমরা ওয়ালটন এসিকেই পছন্দ করতে পারি।

পুড়োটা পড়ুন

WSI-KRYSTALINE-18C [Smart Defender] : অন্যসকল ব্র্যান্ডের তুলনায় কেমন ওয়ালটন!

আগস্ট ২৮, ২০২০

 

বর্তমান মৌসুমের পরিবর্তনের এই সময়টাতে গরম খুব বাড়াবাড়ি রকমের, আর এমন প্রচণ্ড এক উত্তাপের সময়ে জীবনযাপনে শান্তি এনে দিতে পারে একটি এয়ার কন্ডিশনার। এসি কিনতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হন। কোন ধরনের, কত সাইজের এসি কিনবেন অনেক প্রশ্ন আসে। অনেকে শুধু ব্র্যান্ডমুগ্ধতা দেখে এসি কিনে বসেন। অনেক বিষয় বিবেচনা না করে এসি কেনার ফলে দিনশেষে ঠকতে হয়, পরে এতো দামি একটি বিনিয়োগকে ফিরিয়েও নেয়া যায় না।

অনেকে আবার ১টন,১.৫টন কিংবা ২টন বলতে এসির সাইজকে বোঝেন; তবে ১ টন মানে ১২০০০ বিটিইউ/আওয়ার একইভাবে ১.৫ টন মানে ১৮০০০ বিটিইউ/আওয়ার। ১ টনের এসি প্রতি ঘণ্টায় ঘর থেকে ১২০০০ বিটিইউ তাপ শোষণ করতে পারে। সেইহিসেবে যত বেশি টন ; তত বেশি তাপ শোষণ ক্ষমতা। আমাদের দেশের আবহাওয়ার উপর বিবেচনা করে একটি এসি সঠিক পরিমান তাপ শোষণ করতে পারবে কিনা, সেই বিষয়টিও এসি কেনার পূর্বে বিবেচনা করে নিতে হবে।

এই আরটিকেলে আমরা ওয়ালটনের ১.৫ টন ক্যাপাসিটির ক্রিস্টালাইন সিরিজের WSI-KRYSTALINE-18C [Smart Defender] এসির সাথে এলজি, প্যানাসনিক, জেনারেল এবং স্যামসাং এর একই ক্যাপাসিটির এসির তুলনা করে দেখবো। পরিশেষে আমরা বোঝার চেষ্টা করব, কোন এসিটি কিনে আমাদের সাশ্রয় হচ্ছে,পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে মিলিয়ে ওয়ালটনে আমাদের জন্য সকল সুবিধা পাচ্ছি কিনা, সেটিও বিবেচনা করব।

 

WSI-KRYSTALINE-18C [Smart Defender]66000
LG S4UQ18KL27B MA92900
Panasonic CU-US18SKD87000
General ASG-18ABC-W96000

S4UQ18KL27B MA মডেলটি এলজির ১৮০০০ বিটিইউ তথা ১.৫ টন ক্যাপাসিটির একটি এসি। বাজারে ৯২৯০০ টাকায় পাওয়া যাবে দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি। এটি একটি ইনভার্টার প্রযুক্তির স্প্লিট এসি। এই এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। বাংলাদেশে দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি কিনলে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে।

CU-US18SKD মডেলটি প্যানাসনিকের ১৮০০০ বিটিইউ তথা ১.৫ টন ক্যাপাসিটির একটি এসি। বাজারে ৮৭০০০ টাকায় পাওয়া যায় দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি। এই এসিটিতে পাবেন একটি টেম্পারেচার ইনডিকেটর। এটি একটি ইনভার্টার প্রযুক্তির স্প্লিট এসি। এই এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। বাংলাদেশে দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি কিনলে এর কমপ্রেসরে ২ বছর এবং সার্ভিসে ১ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে। যা ওয়ালটনের তুলনায় কম।

ASG-18ABC-W মডেলটি জেনারেলের ১৮০০০ বিটিইউ তথা ১.৫ টন ক্যাপাসিটির একটি এসি। বাজারে ৯৬০০০ টাকায় পাওয়া যাবে দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি। এই এসিটিতে পাওয়া যাবে এন্টি ব্যাক্টেরিয়াল ফিল্টার। তবে এটি একটি নন-ইনভার্টার এসি। এই এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-২২ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। বাংলাদেশে দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি কিনলে এর কমপ্রেসরে ৩ বছর এবং স্পেয়ার পার্টস ও সার্ভিসে ২ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে। যা কিনাও ওয়ালটনের তুলনায় অনেক কম।

এখন আসি ওয়ালটনের ক্রিস্টালাইন সিরিজের WSI-KRYSTALINE-18C [Smart Defender] মডেলে। এটি একটি দেড় টন তথা ১৮০০০ বিটিইউ ক্যাপাসিটির স্প্লিট এসি। এই এসিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আর-৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। বাতাস বিশুদ্ধকরণ এবং ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার মত ক্ষতিকারক মাইক্রো এলিমেন্ট বাতাস থেকে দূরীকরণের জন্য এসিটিতে পাওয়া যাবে ডুয়াল ডিফেন্ডার এবং আইওনাইজার প্রযুক্তি। আর এটি আইওটি বেইজড, সেকারনে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে একে একটি মোবাইল অ্যাপ দ্বারাই নিয়ন্ত্রন করা যাবে। এলজির ডুয়াল ইনভার্টার প্রযুক্তির মত ওয়ালটনের ক্রিস্টালাইন সিরিজের এই এসিতে পাওয়া যাবে টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তি। বাংলাদেশে দেড় টন ক্যাপাসিটির এই এসিটি কিনলে এর কমপ্রেসরে ১০ বছর এবং সার্ভিসে ৩ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে।

বর্তমান সময়ে একটি মানসম্মত এসি কেনার ক্ষেত্রে ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যাতিত এসি কেনার কোনো বিকল্প একদম নেই বললেই চলে। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে। আজকের তালিকায় ওয়ালটন, এলজি এবং প্যানাসনিক এসিতে ইনভার্টার প্রযুক্তিতো ব্যবহার করার হয়েছেই, তাও এখানে কিছুতে অত্যাধুনিক ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন ওয়ালটনে টুইনফোল্ড ইনভার্টার প্রযুক্তি, একইভাবে এলজিতে ডুয়াল ইনভার্টার। অন্যদিকে যদি আমরা জেনারেলের দিকে তাকাই, তবে সেটি একটি নন-ইনভার্টার এসি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়েও ভাবতে হবে, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাতাসে তাপ তৈরির দিক দিয়ে 'আর-৪১০এ' এর চাইতে 'আর-২২' এগিয়ে। তাছাড়াও 'আর-৪১০এ' রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস 'আর-২২' এর চাইতে বেশি বিদ্যুত সাশ্রয়ীও বটে! 'আর-২২' রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস সমৃদ্ধ এসিতে সিস্টেম ওভারহিটিং এর সমস্যাও বেশি হয়। এলজি, প্যানাসনিক এবং আমাদের দেশীয় ওয়ালটনে যুগোপযোগী 'আর-৪১০এ' রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হলেও, জেনারেল এসিতে ব্যবহার করা হয়েছে 'আর-২২' রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস।

যদি এখন দামের দিকে আসি, ওয়ালটনের ক্রিস্টালাইন সিরিজের দেড় টনের এসিটির বাজার মূল্য ৬৬ হাজার টাকা। নন-ইনভার্টার জেনারেল ৯৬ হাজার টাকা। এলজি প্রায় ৯৩ হাজার টাকা এবং প্যানাসনিক ৮৭ হাজার টাকা। সকল সুবিধার বিবেচনায় ওয়ালটন এর ক্রিস্টালাইন সিরিজের দেড় টনের এই ইনভার্টার এসিটি দারুন ভাবে বাকিসব ব্র্যান্ডের এসির সাথে টেক্কা দিতে সক্ষম, আর সেই হিসেবে তালিকার অন্য এসিগুলোর চাইতে এটি অনেক বেশি সাশ্রয়ও হচ্ছে। আর ওয়ালটন এসির জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে বিক্রয়ত্তর সার্ভিসিং সেবাও দিচ্ছে। যদি আদৌ কোন সমস্যার সম্মুখীন হন কেউ, যা অন্যসব ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি, আর এটি ওয়ালটনে আস্থা রাখার জন্য অন্যতম একটি কারন।

অন্যান্য এসির কমপ্রেসর বাইরের দেশে বিদ্যুত এবং তাদের আবহাওয়ার জন্য তৈরি করা হলেও, ওয়ালটন এসির কমপ্রেসর বিশেষায়িতভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং আমাদের দেশের বিদ্যুৎ এর হিসেবে তৈরি করা। এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কম্পোনেন্ট কমপ্রেসর, অন্যান্য ব্র্যান্ডের তুলনায় অন্তত আমাদের দেশে ওয়ালটনের কমপ্রেসরই বেশি টেকসই এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ী হবে, এটা বাস্তবিক। সুতরাং পরিশেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, দেশের টাকা বাইরে না পাঠিয়ে অত্যান্ত উপকারী এই ইলেকট্রনিকস অ্যাপ্লায়েন্স কেনার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের সঙ্গী হয়ে আমরা ওয়ালটন এসিকেই পছন্দ করতে পারি।

পুড়োটা পড়ুন

ভাইরাস প্রতিরোধী ইনভার্টার প্রযুক্তির আইওটি সুবিধাসম্পন্ন ১টনের স্মার্ট এসি

আগস্ট ২৭, ২০২০


 নিত্যনতুন প্রযুক্তি সম্বলিত উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রন যন্ত্র তথা এসির জন্য আমাদের দেশে অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। বিগত বহু বছর ধরেই ওয়ালটন আধুনিক সকল চাহিদার মান এবং সকল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় রেখে দেশেই বিভিন্ন মডেলের এসি উৎপাদন করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক নামীদামী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসিগুলোর সাথেও প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুত। আজকে আলোচনা করব ওয়ালটনের নতুন ‘WSI-KRYSTALINE-12A [Smart Defender]’ স্মার্ট এসিটি নিয়ে।

একনজরে WSI-KRYSTALINE-12A [Smart Defender]

  • বিটিইউঃ ১২০০০
  • ওয়াটঃ ৩৪১৭
  • রেফ্রিজারেন্টঃ আর-৪১০এ
  • কম্প্রেসর ধরনঃ রোটারি-ইনভার্টার
  • দামঃ ৪৮০০০

WSI-KRYSTALINE-12A [Smart Defender] এটি একটি স্মার্ট আইওটি বেইজড এসি। যার ফলে এই এসিটিকে রিমোট ছাড়াও একটি অ্যাপ এর মাধ্যমে কন্ট্রোল করা যাবে। এসিটি বাসার বা অফিসের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত থাকবে। আর এই অ্যাপ দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকেই এই এসিটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এসিটিতে বাতাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য পরপর দুটি দারুন কার্যকরী সুবিধা দেয়া হয়েছে, একটি আইওনাইজার এবং আরেকটি অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার। আইওনাইজার সুবিধা সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি, এটি এসির মাধ্যমে বাতাসে নেগেটিভ আয়ন উন্মুক্ত করে দিয়ে বাতাসের খারাপ কিছু উপাদানকে বিনষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে এর পাশাপাশি এসিটিতে থাকা অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার এর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাতাসকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। আর এই অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার ০.৩ মাইক্রন আকৃতি পর্যন্ত ব্যক্টেরিয়া, ভাইরাস অনুকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসি থেকে অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিটিতে ব্রাসলেস ডিসি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এটি খুবই স্মুথ এবং নিঃশব্দের সাথে কাজ করতে সক্ষম। এতে করে রাতে ঘুমানোর সময় এই এসি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কোন যান্ত্রিক শব্দ আসবে না, যা আপনার ঘুমকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই এই এসিটি তার নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করে যাবে একদম নিঃশব্দে পূর্ণ দক্ষতার সাথে। আর ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফলে কম্প্রেসর এর নিয়ন্ত্রণ এই এসিটিতে অনেক পরিকল্পিত, যা এসিটিকে অন্যসব ইনভার্টার এসির থেকে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করেছে।

ক্রিস্টালাইন স্মার্ট এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে ক্রিস্টালাইন এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে।

ক্রিস্টালাইন স্মার্ট এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন।

আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের জন্য আর৪১০এ হল একটি মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত গ্যাস। আগে আর২২ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই মারাত্তক।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স এপ্লায়েন্স, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি নিয়ামক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

বাংলাদেশের মত দেশে এসির মত হাই ইলেকট্রিসিটি কনজিউমিং ডিভাইসের ক্ষেত্রে এটি কতটা বিদ্যুত সাশ্রয়ী তা বিবেচনা করা খুবই জরুরী। ক্রিস্টালাইন এসিটির ইনপুট পাওয়ারও তুলনামূলকভাবে কম, আর এসিটি ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির হওয়ার ফলে, তুলনামূলকভাবে অনেকটা বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।

পুড়োটা পড়ুন

ভাইরাস প্রতিরোধী প্রযুক্তির ক্রিস্টালাইন সিরিজের ১টন ক্যাপাসিটির নতুন ইনভার্টার এসি

আগস্ট ২৭, ২০২০

 


সবজায়গায় প্রচন্ড এই উত্তাপের সময় আমাদের প্রিয় আবাস্থল কিংবা কর্মস্থলে প্রয়োজন যে জিনিসটি তা হচ্ছে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। আর একটি এসি কেনা কিন্তু মোটেও সহজ কাজ নয় অনেক বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। ওয়ালটন আন্তর্জাতিক সকল মান খুব ভালোভাবে বজায় রেখে দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে বহু বছর হল মানসম্মত মানের দারুণ সব মডেল ও প্রযুক্তির এসি বাজারে নিয়ে আসছে। আজকে আলোচনা করব ওয়ালটনের ক্রিস্টালাইন সিরিজের ডুয়াল ডিফেন্ডার এবং ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির নতুন এসি WSI-KRYSTALINE-12A [Defender] সম্পর্কে। ২৪০০০ বিটিইউ তথা ১ টন ক্যাপাসিটির এই এসির বাজার মূল্য রাখা হয়েছে ৪৬০০০ টাকা।

একনজরে WSI-KRYSTALINE-12A [Defender]

  • ওয়াটঃ ৩৫১৭
  • রেফ্রিজারেন্ট টাইপঃ আর-৩২
  • কমপ্রেসর ধরনঃ ইনভার্টার (রোটারি)
  • দামঃ ৪৬০০০ টাকা

এসিটিতে বাতাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য পরপর দুটি দারুন কার্যকরী সুবিধা দেয়া হয়েছে, একটি আইওনাইজার এবং আরেকটি অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার। আইওনাইজার সুবিধা সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি, এটি এসির মাধ্যমে বাতাসে নেগেটিভ আয়ন উন্মুক্ত করে দিয়ে বাতাসের খারাপ কিছু উপাদানকে বিনষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে এর পাশাপাশি এসিটিতে থাকা অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার এর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাতাসকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। আর এই অ্যান্টি ভাইরাল ফিল্টার ০.৩ মাইক্রন আকৃতি পর্যন্ত ব্যক্টেরিয়া, ভাইরাস অনুকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি সাধারন ইনভার্টার এসি থেকে অনেক বেশি কার্যকর। নন-ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে। এখানে এসি পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক অবস্থায় এলে এসির কমপ্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গেলে, তখন চালু হয়। এভাবে বারবার এসি চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে, এসি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি প্রথমে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। পরে রুমের পরিবেশের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসিটি শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে কম শক্তিতে চলার কারণে কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিটিতে ব্রাসলেস ডিসি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এটি খুবই স্মুথ এবং নিঃশব্দের সাথে কাজ করতে সক্ষম। এতে করে রাতে ঘুমানোর সময় এই এসি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কোন যান্ত্রিক শব্দ আসবে না, যা আপনার ঘুমকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই এই এসিটি তার নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করে যাবে একদম নিঃশব্দে পূর্ণ দক্ষতার সাথে। আর ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফলে কম্প্রেসর এর নিয়ন্ত্রণ এই এসিটিতে অনেক পরিকল্পিত, যা এসিটিকে অন্যসব ইনভার্টার এসির থেকে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করেছে।

ক্রিস্টালাইন স্মার্ট এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে ক্রিস্টালাইন এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে।

ক্রিস্টালাইন স্মার্ট এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন।

আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের জন্য আর৪১০এ হল একটি মানসম্মত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, আর ৩২ তার থেকেও পরিবেশসম্মত গ্যাস। আগে আর২২ ব্যবহার করা হত যা ছিল অজোন স্তর জন্য খুবই মারাত্তক।

যেহেতু গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মত বৈশ্বিক সমস্যার জন্য অন্যতম দায়ী এসির মত ইলেকট্রনিক্স এপ্লায়েন্স, তাই এসিতে সঠিক এবং পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস এর আরেকটি নিয়ামক মাত্রা হল GWP, তথা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল মান। GWP মান যত কম হবে এসিটি বাতাসে তত কম তাপ উৎপন্ন তথা কার্বন ছাড়বে।R-410A রেফ্রিজারেন্ট এর GWP মান ২০৯০। এবং R-32 রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, এটির GWP মান ৬৭৫।

বাংলাদেশের মত দেশে এসির মত হাই ইলেকট্রিসিটি কনজিউমিং ডিভাইসের ক্ষেত্রে এটি কতটা বিদ্যুত সাশ্রয়ী তা বিবেচনা করা খুবই জরুরী। ক্রিস্টালাইন এসিটির ইনপুট পাওয়ারও তুলনামূলকভাবে কম, আর এসিটি ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির হওয়ার ফলে, তুলনামূলকভাবে অনেকটা বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।

পুড়োটা পড়ুন

৮৫৯৯ টাকায় ৬৪ জিবি রম, ৩ জিবি র‍্যাম, ৪৯০০ এমএএইচ ব্যাটারিঃ প্রিমো এইচএম৫ রিভিউ

আগস্ট ২৫, ২০২০

 

মাত্র ৮৫৯৯ টাকায় বাজারকে ব্যাপক গরম করে রেখেছে ওয়ালটন এর নতুন স্মার্টফোন প্রিমো এইচএম৫। এইচএম সিরিজের নতুন এই ফোন এইচএম৫ এর অন্যতম আকর্ষণ এর ৩ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম, ৪৯০০ এমএএইচ ব্যাটারি, হেলিও এ২০ চিপসেট সহ আরো অনেক কিছু। এই আর্টিকেলে জানানোর চেস্টা করব দারুন এই স্মার্টফোনটি সম্পর্কে বিস্তারিত।

একনজরে প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটিঃ

  • ৬.১ ইঞ্চি আইপিএস প্যানেল ডিসপ্লে
  • ৩ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম
  • ১৩ মেগাপিক্সেলের সনি প্রাইমারি সেন্সর সহ ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট সেলফি ক্যামেরা
  • মিডিয়াটেক হেলিও এ২০ চিপসেট

আনবক্স করলে ফোনটির ভেতরে যা যা পাবেনঃ

বাজেট ডিভাইস হলেও প্রিমো এইচএম৫ এর ডিজাইন দারুন। স্মার্টফোনটি একটি প্লাস্টিক ইউনি-বডি ডিজাইনে তৈরি। নিচে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এর একপাশে স্পিকার এবংঅন্যপাশে মাইক্রোফোন, ডানপাশে পাওয়ার এবং ভলিউম পোর্ট, উপরে অডিও পোর্ট এবং বামপাশে একটি সিম ডেডিকেটেড এসডি কার্ড ট্রে পাবেন। স্মার্টফোনটির তিনটি কালার ভেরিয়েন্ট বাজারে পাওয়া যাবে, আর এগুলো হলঃ ব্ল্যাক, ব্লু(মিডনাইট সায়ান) এবং পার্পেল। ব্ল্যাক কালার ভেরিয়েন্টে রিয়ার প্যানেল গ্লিটার এর মত চিকচিক করবে। আর বাকি দুই কালার ভেরিয়েন্ট রিয়ার প্যানেলে আপনাকে গ্র্যাডিয়েন্ট কালার ফিনিস দেবে। স্মার্টফোনটির ফিনিসিং গ্লসি, তাই কিছুটা পিচ্ছিল লাগতে পারে। তবে একহাতে স্মার্টফোনটিকে খুব সহজে ব্যবহার করা যাবে।

স্মার্টফোনটিতে পাবেন ৬.১ ইঞ্চি উপ্লাস আইপিএস ডিসপ্লে। পুরো ব্রাইটনেসে সূর্যের সরাসরি আলো ব্যাতিত আর তেমন সমস্যা হবেনা। আর ডিসপ্লের কালার-কনট্রাস্ট লেভেল গুলোও চলনসই। ডিসপ্লেটির এস্পেক্ট রেশিও ১৯ঃ৯। আর এই ডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১৫৬০*৭২০ পিক্সেল। স্মার্টফোনটিতে ভিউইং এঙ্গেলও যথেষ্ট ভালো এবং কালার শিফটিং একদম নেই বললেই চলে।

স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এন্ড্রয়েড ১০ পাই এডিশন। আর এর কাস্টম রমটি পুরোপুরি স্টক, আর ইউআই ট্রানজেকশনও যথেষ্ট স্মুথ। আপনি স্টক লাভার হয়ে থাকলে আশা করি ফোনটি ব্যবহার করে পুরো স্টক রম এর মজাটি পাবেন।

প্রিমো এইচএম৫ ডিভাইসকে হার্ডওয়্যার এর দিক দিয়ে ব্যাকআপ দিবে মিডিয়াটেক এর ১২ ন্যনোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হেলিও এ২০ চিপসেট। এটি একটি ১.৮ গিগাহার্জ বাজস্পিডের কোয়াড কোর সিপিইউ।

এনটুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ৭৬৫৭৮। গিকবেঞ্চ অ্যাপে সিঙ্গেল কোরে এসেছে ১৫৩ এবং মাল্টি কোরে রেজাল্ট এসেছে ৪৮৭। স্মার্টফোনটির গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটে থাকছে ‘পাওয়ার ভিআর রগ জিই৮৩০০’ জিপিইউ।

স্মার্টফোনটিকে সিস্টেম ব্যাকআপ দিবে একটি ৩ জিবি র‍্যাম। এর সাথে ডিভাইসটিতে ইন্টারনাল স্টোরেজ পাওয়া যাবে ৬৪ জিবি। স্মার্টফোনটিতে পাবজি এবং ফ্রিফায়ারের মত গেমস খেলা যাবে দারুন ভাবে। আর ইন্টারনাল স্টোরেজ বেশি হবার কারনে মাল্টিটাস্কিং এও স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে শান্তি পাবেন। এর ডেডিকেটেড স্লটে স্মার্টফোনটিতে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটির অনন্য একটি ফিচার বলা যেতে পারে এর ক্যামেরা সেকশনকে। কেননা ফোনটিতে প্রাইমারি সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সনির ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর। স্মার্টফোনটির ক্যামেরা অনেক মিড বাজেট শক্তিশালী স্মার্টফোনের ক্যামেরার সাথেও টেক্কা দিতে সক্ষম। কালার, শার্পনেস, ডিটেইলস দাম হিসেবে দারুন। তবে আলো কমে গেলে এর পারফর্মেন্স একটু কমে আসতে শুরু করে এবং ছবিতে হালকা নয়েস চলে আসে, তবে স্বাভাবিক আলোতে স্মার্টফোনটি দিয়ে দারুন সব ছবি ধারন করা যায়। আর এই ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেসনে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। আর ক্যামেরার দিক দিয়ে এই বাজেট সেকশনে সবচেয়ে সেরা স্মার্টফোন ক্যামেরার কথা বলা হলে সেখানে প্রিমো এইচএম৫ থাকবে।

স্মার্টফোনটির ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরাও সেলফি লাভারদের নিরাশ করবে না। আর ফ্রন্ট সেলফি ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি ফোন কোন রিটাচ করবে না, একদম Raw ছবিটিই উঠবে। আর স্টেবলভাবে ফোনটির ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললে আপনি খুব ভালো শার্পনেস যুক্ত ছবি ধারন করতে সক্ষম হবেন।

ওয়ালটনের অন্যসকল স্মার্টফোনের মতই এই ‘প্রিমো এইচএম৫’ এও পাবেন ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং ৩০ দিনের রিপ্লেস্মেন্ট গ্যারান্টি।

অবশ্যই প্রশ্ন আসবে, ওয়ালটন প্রিমো এইচএম৫ স্মার্টফোনটি কেমন? ৮৫৯৯ টাকায় ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম এক কথায় অসাধারন! স্মার্টফোনটির সামনে এবং পিছে দুটোতেই ক্যামেরা কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো। এক হাতে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করতে পারবেন খুবি সহজে, আর ৪৯০০ এমএএইচ ব্যাটারি থাকার ফলে ফুল চার্জে ২ দিনের মত ব্যাটারি ব্যাকআপও পেতে পারেন। আর এই বাজেট এর ভেতর যদি আপনাকে স্মার্টফোন কিনতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে ওয়ালটন প্রিমো এইচএম৫ আপনার সেরা পছন্দ হতে পারে।

পুড়োটা পড়ুন

প্রিমো এস৭ প্রো রিভিউঃ ওয়্যারলেস চার্জিং, ৬ জিবি র‍্যাম, ১২৮ জিবি স্টোরেজ, হেলিও পি৭০, ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা

আগস্ট ২০, ২০২০

 প্রায় ৩-৪ মাস ধরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পর অবশেষে ওয়ালটন কুরবানি ঈদের আগে তাদের ব্যাপক হাইপ তোলা প্রিমো এস৭ প্রো স্মার্টফোনটি লঞ্চ করে। আর তারা তাদের সর্বশেষ এই হাইএন্ড স্মার্টফোনটি লঞ্চ করে দেশীয় ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালির মাধ্যমে। ওয়ারলেস চার্জিং, ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ৬ জিবি র‍্যাম, ১২৮ জিবি স্টোরেজ, হেলিও পি৭০ ইত্যাদি দারুন সব ফিচারস সমৃদ্ধ অনবদ্য এই স্মার্টফোন প্রিমো এস৭ প্রো নিয়ে আজকের আর্টিকেলে জানার চেষ্টা করব পুরোটা বিস্তারিত।

একনজরে প্রিমো এস৭ প্রো

  • ৬.৩ ইঞ্চি এফএইচডি প্লাস আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল
  • হেলিও পি৭০ চিপসেট
  • এনার্জি এফিসিয়েন্ট ৬ জিবি ডিডিআর৪এক্স র‍্যাম
  • ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ
  • ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট
  • ৪৮+৮+২ মেগাপিক্সেল ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ
  • ১০৮ আল্ট্রাপিক্সেল মোড
  • ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ফেস আনলক
  • ৩৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • দামঃ ২০৫০০ টাকা

স্মার্টফোনটি আনবক্স করলে ভেতরে যা যা পাবেনঃ

ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

স্মার্টফোনটির অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে এর ডিজাইন এবং বিল্ট ম্যাটেরিয়াল। স্মার্টফোনটি তৈরি করা হয়েছেউন্নত মানের পিপিএমএ ম্যাটেরিয়াল দিয়ে, যার উদাহরন এর রিয়ার প্যানেলের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কেননা স্মার্টফোনটিতে হালকা আলো পরলেই এর ব্যাক প্যানেল যে সুন্দর রেইনবো ইফেক্ট দেয়, তা এই বাজেটের স্মার্টফোন হিসেবে যথেষ্ট প্রিমিয়াম, তা আর বলতে বাকি থাকে না।

স্মার্টফোনটির দুটি কালার ভেরিয়েন্ট ব্ল্যাক এবং ব্লু; দুটি ভেরিয়েন্টই একটি অন্যটির তুলনায় অনবদ্য। আর রিয়ার প্যানেলের কার্ভড ব্যাক স্মার্টফোনটি গ্রিপ করতে যেমন সুবিধা দেয়, তেমনিভাবে এটি ডিজাইনকেও আর বর্ধন করে।

ডিসপ্লে লাভারদের জন্য প্রিমো এস ৭ প্রো এগিয়ে থাকবে। স্মার্টফোনটিতে আপনি পাচ্ছেন ১৬সেন্টিমিটার তথা ৬.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে মডিউল। এটি ১৯.৫ঃ৯ রেশিও ফুলভিউ ডিসপ্লে। আর এটি একটি এফএইচডি+ আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল, আর যার ব্রাইটনেস লেভেল ৪২০ নিটস।

ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স এর দিক দিয়ে স্মার্টফোনটি যে কতোটা প্রিমিয়াম তা বোঝাই যাচ্ছে। আর ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে প্রজুক্তি বলে এটি সঠিক কালার প্রদর্শনের দিক দিয়েও এগিয়ে! সুতরাং গেমিং এবং কনটেন্ট ওয়াচিং এর দিক দিয়ে স্মার্টফোনটি আপনার কাছে কোন অভিযোগ রাখবে না, নিঃসন্দেহে।

 

হার্ডওয়্যার ও মেমোরি

স্মার্টফোনটির মেইন হার্ডওয়্যার ইউনিটকে পাওয়ার দিচ্ছে একটি ফ্লাগশিপ গ্রেড প্রসেসর। আর এটি হচ্ছে মিডিয়াটেক পি৭০ । মিডিয়াটেক পি৭০, ১২ ন্যানোমিটার ফিনটেক প্রযুক্তিতে তৈরি ২.১ গিগাহার্জ বাজস্পিড সম্বলিত করটেক্স এ৭৩/ এ৫৩ ভিত্তিক অক্টাকোর প্রসেসর। আর এই সিপিইউ ইউনিট এর সাথে আপনি জিপিউ তথা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে পাবেন মালি জি-৭২ এমপি৩ জিপিইউ। আর এই চিপসেটে ট্রিপল কোর আইএসপি এবং ডুয়াল কোর এপিইউ থাকার ফলে একদম Raw এইচ-ডি-আর ছবিগুলো এই ক্যামেরার মাধ্যমে তুলতে পারবেন কোনরকম কোয়ালিটির লস ছাড়াই। আর এটি ১২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি বলে, এটি ১৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি প্রসেসর এর চাইতে ১৫ শতাংশ বেশি পাওয়ার এফিসিয়েন্ট।

এখন আসি স্মার্টফোনটির মেমোরি ইউনিটে। স্মার্টফোনটির সিস্টেম ব্যকআপ দেবার জন্য এতে থাকছে ৬ জিবি ডিডিআর৪এক্স র‍্যাম। র‍্যাম এর পরে, ইন্টারনাল স্টোরেজ পাবেন ১২৮ জিবি! এমনকি আপনি এতে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত এক্সট্রা মাইক্রো এসডি কার্ডও লাগাতে পারবেন। সুতরাং সিস্টেম মেমরি শেষ হয়ে যাওয়া, অনেকগুলো অ্যাপ, গেমস একসাথে ইন্সটল করা এমনকি চালানো নিয়েও আপনার কোন সমস্যাই নেই।

প্রিমো এস৭ প্রোতে আপনি ফোর্টনাইট এর মত গেমসও খেলতে পারবেন অনায়াসেই। তাই যারা গেমিং লাভার তাদের জন্য প্রিমো এস৭ প্রো নিঃসন্দেহে দারুন একটি পছন্দ হতে পারে। এর এনটুটু বেঞ্চমার্ক স্কোর এসেছে ১৭৯৫০৬। আর গিকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোরে ২৯২ এবং মাল্টি কোরে ১২৯৭।

 

ক্যামেরা

স্মার্টফোনটির আরেকটি দারুন আকর্ষণ এর ক্যামেরা সেকশন। অবশ্যই প্রিমো এস৭ প্রো তে পাবেন একটি ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ, যার মধ্যে একটি মেইন সেন্সর ৪৮ মেগাপিক্সেল । বাকি দুটি একটি ৮ মেগাপিক্সেল অয়াইড এঙ্গেল সেন্সর এবং একটি ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর। আর স্মার্টফোনটির সিস্টেম দারুনভাবে এর ক্যামেরার জন্য অপটিমাইজড বলে আপনি এতে দারুন দারুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা প্রয়োগ করে অনবদ্য সব ছবি তুলতে পারবেন।

স্মার্টফোনটির বিশাল 1/2.25 সাইজের মেইন ৪৮ মেগাপিক্সেল সেন্সরের কারনে আপনার ছবির কোন ডিটেইলসই মিস হবেনা। আর ছবির ব্রাইটনেস এবং দারুন ফোকাল ডিসটেন্সএর জন্য আপনাকে সুবিধা দিবে এর দারুন F/1.79 এপারচার। আর মেইন সেন্সরটির 0.8µm পিক্সেল সাইজের কারনে আপনি এই ক্যামেরা দিয়ে 4000x3000 পিক্সেলে দারুন দারুন সব মোমেন্ট ক্যাপচার করতে পারবেন।

অনেকের কাছে প্রিমো এস৭ প্রো ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার ব্যাপারটা প্রশ্নবিদ্ধ, সবাই বলে এটা কিভাবে সম্ভব! মূলত এখানে হার্ডওয়্যার ৪৮ মেগাপিক্সেল ছবিই তুলবে তবে ফোনটির সফটওয়্যার সেকশনে থাকা এডভান্স ক্যামেরা অল্গরিদম এই 4000x3000 পিক্সেল রেজুলেশনকে বাড়িয়ে নিয়ে 12000*9024 পিক্সেলে রূপান্তর করে। যার ফলে ছবি ৩০ বারের মত জুম করলেও কোন ফাটা চোখে পরেনা, সবকিছু স্পষ্টই থাকে।

স্মার্টফোনটির ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপের সেকেন্ডারি ক্যামেরা সেন্সর হচ্ছে ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর। যে সেন্সরের সাথে একটি ৫পি লেন্স থাকার ফলে এটি দারুনভাবে ১২০ডিগ্রি পর্যন্ত এঙ্গেলে দারুন সব অয়াইড এঙ্গেল ফুটেজ ক্যাপচার করতে সক্ষম হয়।

আর নানারকম মুহূর্ত খুবি দ্রুত ক্যাপচার করার জন্য এই স্মার্টফোনে থাকছে ১০ টার মত এআই scene মোড। যেমন খাবারের ছবি তুললে এর এআই মোড খাবারের কালার কারেকশন করে সেই সেই ছবিকে অনেকটা বেশি এনহান্স করে দিবে কোয়ালিটির দিক দিয়ে।

অল্প আলোতেও খুব দারুন সেলফি তোলার জন্য প্রিমো এস৭ প্রোতে থাকছে F/2.0 এপারচার সমৃদ্ধ ফ্রন্ট ১৬ মেগাপিক্সেল সিঙ্গেল ক্যামেরা সেন্সর। ৫ পি লেন্স সমৃদ্ধ দারুন এই ফ্রন্ট ক্যামেরা সেটাপ উন্নত কোয়ালিটির সাথে আপনার ফ্রন্ট ক্যামেরার সকল চাহিদা খুব ভালোভাবে মিটিয়ে দিবে।

 

সিকিউরিটি

স্মার্টফোনটির প্রাইমারি সিকিউরিটি ফিচার হিসেবে থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলক। আর এর রেপন্স টাইম ১ সেকেন্ডের অর্ধেকেরও কম! আর সেকেন্ডারি সিকিউরিটি অপশন এর দারুন ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নির্ভর ফেস আনলক । F/2.0 এপারচার সমৃদ্ধ ফ্রন্ট ক্যামেরা মডিউল হওয়ার ফলে কম আলোতেও এটি দারুন কাজ করবে।

 

ব্যাটারি

সম্পূর্ণ ডিভাইসটিকে ব্যাকাপ দিবে একটি ৩৯৫০ এমএএইচ ক্ষমতা সম্পন্ন লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি, আর ডিভাইসটির চিপসেট যথেষ্ট পাওয়ার এফিসিয়েন্ট হওয়ার ফলে এই ব্যাটারি দিয়েও আপনি সারাদিনের মত ব্যাকাপ পাবেন। ফুল চার্জে আপনি এটি দিয়ে টানা ৫ ঘন্টা ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারবেন। টানা ৭ ঘন্টা ভিডিও ওয়েব ব্রাউজিং, ৬৯ ঘন্টা গান শুনতে পারবেন, ৩০ ঘণ্টা ভিডিও কলিং এবং টানা ৭ ঘন্টার ভিডিও কলিং ব্যাকআপ পাবেন। আর চার্জিং এর জন্য এতে পাচ্ছেন ১৮ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। আর অন্যতম ফিচার এতে ১অ ওয়াট ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধাও পাওয়া যাবে। আপনি ওয়ারলেস ডক চার্জার এর মাধ্যমে অনায়াসে একে তারবিহীন চার্জ করতে পারবেন।

 

পরিশেষে

২০ হাজার টাকার বাজেট রেঞ্জে যদি কেনার জন্য প্রিমো এস৭ প্রো এর কথা বলা হয়, তবে ফিচারস এক দিক দিয়ে অনবদ্য এই স্মার্টফোনকে কোনভাবেই হেলা করা যাবে না। স্মার্টফোনটির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সকল ফিচার এর দামের যথেষ্ট মূল্য রাখে। তবুও আপনি যদি প্রিমো এস৭ প্রো এর কথা ভেবে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার পরবর্তী স্মার্টফোন হিসেবে একে এক্সপেরিয়েন্স করতে পারেন।

ওয়ালটনের অন্যসকল স্মার্টফোনের মতই এই প্রিমো এস৭ প্রো তেও পাবেন ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং ৩০ দিনের রিপ্লেস্মেন্ট গ্যারান্টি।

পুড়োটা পড়ুন