প্রিমো এন৫ : তুফানি সেল অফারে থাকছে বিশাল ডিসকাউন্ট

মে ০২, ২০২১

প্রিমো এন সিরিজের অধিনে ওয়ালটন বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন বাজেট লাইনআপের স্মার্টফোন প্রিমো এন৫। যারা ১২-১৩ হাজার টাকার ভেতর একটি ভালো স্মার্টফোন কিনতে চাচ্ছিলেন, তারা অবশ্যই এই স্মার্টফোনের দিকে তাকাতে পারেন, কেননা প্রিমো এন৫ স্মার্টফোনটির ৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম ভেরিয়েন্টের অফিশিয়াল মূল্য ১২৪৯৯ টাকা। তবে বিশেষ অনলাইন প্রিসেলে স্মার্টফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে ২০০০ টাকা ছাড়ে মাত্র ১০৪৯৯ টাকায়।

 

প্রিমো এন সিরিজ বরাবরই বড় ডিসপ্লের জন্য জনপ্রিয়, এই প্রিমো এন৫ স্মার্টফোনটিতেও পাবেন ৬.৮ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে! কেবল যে বিশাল ডিসপ্লে তা নয়! ফোনটিকে ব্যাকআপও দিবে ৫৫০০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি। স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে পেয়ে যাবেন ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ।

  একনজরে নতুন প্রিমো এন৫ স্মার্টফোনটিঃ
  • ফুল ৪জি কানেক্টিভিটি
  • এন্ড্রয়েড ১১ সংস্করণ
  • হেলিও জি২৫ চিপসেট (২ গিগাহার্জ অক্টা-কোর)
  • হাইপার ইঞ্জিন প্রযুক্তি
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম (২৫৬ জিবি পর্যন্ত অতিরিক্ত এসডি কার্ড সাপোর্ট)
  • ৬.৮২ ইঞ্চি ডিসপ্লে
  • ১৩+৫+২ মেগাপিক্সেল সেন্সর মিলে ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ
  • ১৩ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ৫৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি
স্মার্টফোনটি ফিচারের ইক দিয়ে যেমন অনবদ্য! তেমনই ডিজাইন এর দিক দিয়েও। স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে পাবেন দারুন এক গ্লসি আউটলুক। প্রিমো এন৫ স্মার্টফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে ৪ টি একের পর এক আকর্ষণীয় কালারে! আর এই কালারগুলো হচ্ছেঃ লাল, কালো, নীল এবং সবুজ; কোন কালারও কনটির চাইতে কম নয়! আপনার রুচির সাথে সেই কালারটি যায় সেটাই লুফে নিন, নিঃসন্দেহে!

 ক্যামেরা লাভারদের জন্যেও এগিয়ে থাকবে প্রিমো এন৫ স্মার্টফোন। কেননা, স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে পাবেন শক্তিশালী ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ, যার মেইন সেন্সর হিসেবে থাকছে একটি ১৩ মেগাপিক্সেল সনি সেন্সর এবং মেইন সেন্সরটির এপারচার এফ২.০। পাশাপাশি সেকেন্ডারি হিসেবে থাকছে একটি ৫ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর; ব্যাকগ্রাউন্ডকে ব্লার করার জন্য এতে থাকবে একটি ২ মেগাপিক্সেল পোর্টরেইট সেন্সর। পাশাপাশি যারা সেলফি তুলতে ভালবাসেন, তাদের জন্য ফ্রন্টে থাকছে ১৩ মেগাপিক্সেল সেলফি শুটার!
    তো দারুন এই 
স্মার্টফোনটি বিশেষ অফারে ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই লুফিয়ে নিন এখনই। আর স্মার্টফোনটির রিভিউ ভিডিও দেখে আসুন এই লিঙ্ক থেকে।

পুড়োটা পড়ুন

ভিটামিন সি এর আবিষ্কার

এপ্রিল ২৬, ২০২১

 কয়েক শতাব্দী আগে, জাহাজে অবস্থানরত নাবিকেরা মুখে ঘা, ত্বকের রক্তক্ষরণ, ক্ষতস্থানের ধীরগতিতে নিরাময়সহ বিভিন্ন উপসর্গে ভোগে। এর ফলে অনেকের মৃত্যু ঘটে। মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় ধর্মযুদ্ধের ইতিহাসে নাবিকদের এ রোগে ভোগার ও মৃত্যুর হার ছিল ব্যাপক। কুলম্বের আটলান্টিক সমুদ্রযাত্রা ও স্টিম ইঞ্জিন উৎপত্তির মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ২ মিলিয়ন নাবিক এ রোগে ভোগে। বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ভাস্কো- ডা-গামা, ম্যাগালান, জর্জ অ্যানসন প্রমুখও এ রোগের কবল থেকে রেহাই পাননি।



কী ছিল এ রোগের কারণ? প্রকৃতপক্ষে জাহাজিদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন 'সি' এর সরবরাহ কম হওয়ায় তারা স্কার্ভিতে ভোগে। ১৭৫৩ সালে ব্রিটিশ মেডিকেল কমিউনিটি  এ রোগকে বিশদভাবে খাদ্যতালিকাগত ঘাটতির সাথে সম্পর্যুক্ত রোগ হিসেবে  স্বীকৃতি দেয়।

১৭৬৯ সালে উইলিয়াম স্টার্ক নামের একজন ব্রিটিশ চিকিৎসক খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। ৩১ দিন ব্যাপী রুটি ও পানি খাওয়ার পর তিনি একে একে অন্যান্য খাদ্য তার তালিকায় যোগ করেন। খাদ্যতালিকা ছিল মাংস ও স্টার্চপূর্ণ আর সবজি ও সাইট্রাসযুক্ত ফল বর্জিত। ৭ মাস পর সম্ভবত স্কার্ভির কারণে তার মৃত্যু হয়।

স্টার্কের পরীক্ষার ১২ বছর পূর্বে স্কটল্যান্ডের চিকিৎসক জেমস লিন্ড সাইট্রাযুক্ত ফলের প্রতিরোধমূলক শক্তি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এসময় তিনি জাহাজে সার্জন হিসেবে নিয়জিত ছিলেন। তিনি লক্ষ করেন যে, যেসকল রোগী সাইট্রাযুক্ত ফল গ্রহণ করেছিল তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করছিল। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ নাবিকদের লেবুর রস গ্রহণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সুপারিশ করে একটি গ্রন্থ লিখেন। ১৯৭৫ সালের দিকে, এ প্রচারের ফলে ব্রিটিশ নাবিকদের লেবুর শরবত ইস্যুকরণ চালু হয় এবং এ রোগের প্রাদুর্ভাব কমে আসে। তবে তখন পর্যন্ত কেউই ভিটামিন 'সি' এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত না। এদিকে দুই বিজ্ঞানী অ্যাক্সেল হোলস্ট ও আল্ফ্রেড ফ্রহ্লিচ পূর্বেই  ভিটামিন  'সি' এর অস্তিত্ব অনুমান করলেও প্রতিনিধির অভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি।

তাহলে পরবর্তীতে কীভাবে আবিষ্কৃত হলো সাইট্রাযুক্ত ফলের সেই গুপ্ত রহস্য ভিটামিন 'সি? এর আবিষ্কারের মূল নায়ক ছিলেন  অ্যালবার্ট জেন্ট গিয়র্গি নামের একজন হাঙ্গেরিয়ান গবেষক। জন্মসূত্রেই একজন বিজ্ঞানী পরিবারে জন্মগ্রহণকারী গিয়র্গি অল্প বয়স থেকেই বিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন।

বুডাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও ১ম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ প্রকোপে তার লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে। তবে থেমে যাননি। যুদ্ধবিরোধী গিয়র্গী যুদ্ধ এড়ানোর জন্য নিজেই নিজেকে আঘাত করেন এবং ১৯১৭ সালে লেখাপড়া শেষ করার জন্য  নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। বিজ্ঞানের প্রতি তার এতই আগ্রহ ছিল যে, তিনি যুদ্ধ এড়াতে রিভলবার দিয়ে নিজ বাহুতে গুলি করেন। তিনি মূলত বৈজ্ঞানিক পেশা শুরু করেন কোষের বিভিন্ন খাদ্য উপাদান গ্রহণ ও দহনের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন পরীক্ষার মাধ্যমে।

এ সময় তিনি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে একটি অণু আবিষ্কার করেন যেটি হাইড্রোজেনের বাহক ও ৬টি কার্বনের  ধারক এবং চিনি ও এসিডের মতো বৈশিষ্ট্য দেখায়। তিনি এর নামকরণ করেন 'হেক্সইউরনিক এসিড'। এদিকে ১৯২০ সালে উদ্ভিদের শ্বসন ও শক্তি উৎপাদন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, সাইট্রাস রস ব্যবহারের মাধ্যমে  উদ্ভিদের বাদামীকরণ বিলম্বিত করা সম্ভব। তিনি ধারণা করেন, হেক্সইউরনিক এসিড সাইট্রাস  রসে অবস্থান করে। এ থেকে পরবর্তীতে সাইট্রাস রসে থাকা এ এসিড পৃথকীকরণের  পথ সুগম হয়। 

১৯৩০ সালে গিয়র্গি  মেডিসিনাল কেমিস্ট্রির   অধ্যাপক হিসেবে জেগ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরু করেন। এ অবস্থায় তিনি জে. এল. স্মারবেলির সাথে উক্ত এসিডের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করেন। দুই শ্রেণির গিনিপিগ দিয়ে এই পরীক্ষা করা হয় - 

  • শুধুমাত্র সেদ্ধ করা খাবার গ্রহণ করে। 
  •  হেক্সইউরনিক এসিডযুক্ত খাবার গ্রহণ করে এমন প্রাণী
  • ১ম গ্রুপ স্কার্ভি উপসর্গের কারণে মারা যায়। পরবর্তীতে তারা এই এসিডের  নামকরণ করেন 'অ্যাসকরবিক এসিড'। এবার অ্যাসকরবিক এসিডের উৎস অনুসন্ধানের পালা।

১৯৩৩ সালে জেন্ট অ্যাসকরবিক এসিডের  প্রাকৃতিক উৎসের অনুসন্ধান শুরু করেন। কমলা ও লেবুর রসে উচ্চমাত্রায় অ্যাসকরবিক এসিড থাকলেও এর বিশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। তবে কীভাবে বিশোধন করা হলো? একটি মজার ঘটনার মাধ্যমে পরবর্তীতে এ  সমস্যার সমাধান হয়। এক রাতে স্ত্রী তার খাবারে পাপড়িকা পরিবেশন করেন। হঠাৎ তার মনে হয়, পাপড়িকার উপর কখনো পরীক্ষা চালানো হয়নি। তাই তিনি একে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে পরীক্ষা করেন। ফলস্বরূপ কাকতালীয়ভাবে তিনি এতে  ভিটামিন 'সি' এর নিদর্শন পান।

কয়েক সপ্তাহ পর তিনি ৩ পাউন্ড বিশুদ্ধ অ্যাসকরবিক এসিড প্রস্তত করতে সক্ষম হন। ভিটামিন সি ঘাটতিযুক্ত গিনিপিগদের খাওয়ানোর মাধ্যমে বুুঝতে পারেন, এটি  ভিটামিন সি এর সমতুল্য। ১৯৩৭ সালে এ কাজের জন্য তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় এবং ওয়াল্টার নরম্যান হাওরথ রসায়নে নোবেল পুরষ্কার পান। 


পুড়োটা পড়ুন

প্রতারণার স্বীকার? ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করুন!

এপ্রিল ২৬, ২০২১


ই-কমার্স থেকে সময়মতো পণ্য না পেয়ে ভোগান্তিতে আছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ হুংকার দেন ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়ার। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে কতটুকু জানেন? কিভাবে অনলাইনেই ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়া যায়?

জাবেদ কিছুদিন হলো একটা চাকরিতে জয়েন করেছেন। আগের মতো তাই তার হাতে বাড়তি সময় থাকে না। তাই এখন তিনি কেনাকাটার জন্যে অনলাইনের উপর কিছুটা নির্ভরশীল হতে চান। এজন্যে তিনি বাংলাদেশের ই-কমার্সগুলো থেকে মাঝে মধ্যে প্রোডাক্ট অর্ডার দেন।

অফিসের কাজে প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। তাই ফোন চার্জের জন্যে একবার তিনি একটা পাওয়ার ব্যাংক অর্ডার দিলেন। দুইদিন বাদেই পাওয়ার ব্যাংকটা ডেলিভারি পেলেন। জাবেদ মোটামুটি খুশি। এরপর সে আরেকটি ই-কমার্স থেকে একটা ব্যাগপ্যাক অর্ডার দিলেন। কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও ব্যাগপ্যাকটি ডেলিভারি হচ্ছিলো না। আর যখন ব্যাগপ্যাক পেলেন তখন খেয়াল করলেন ডিজাইনে মিল নেই। যেরকমটা দেখে অর্ডার দিয়েছিলেন, প্রোডাক্ট এসেছে তার ব্যতিক্রম।

একবার কার্গো প্যান্ট দিয়েও বিরুপ অভিজ্ঞতা পেলেন। প্যান্ট ডেলিভারি পাওয়ার পর তার মনে হলো এই প্যান্ট কোনো ক্রমেই নতুনের মতো দেখতে না। দ্বিতীয়ত প্যান্টটা থ্রি কোয়ার্টার, যা তিনি চান নি। এই প্রোডাক্ট রিটার্ন দিতে গিয়ে তার আরো বেগ পোহাতে হলো। রিফান্ড আসতে আসতে ১১ দিন লাগলো প্রায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন দিতে হয়েছে কাস্টমার কেয়ারে।

জাবেদ তবুও টুকটাক কেনাকাটা করতে থাকলেন ই-কমার্স থেকে। একবার বিশেষ অফারে তিনি একটি দামি ফোন অর্ডার দিলেন সাহস করে। তিনি পণ্যের দামও আগেই দিয়ে দিলেন অফারের শর্ত মোতাবেক। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও ফোন আসলো না। এক মাস পর তিনি যখন ফোন হাতে পেলেন তখন দেখলেন, তার পছন্দের কালার দেয়া হয় নি। তিনি চেয়েছিলেন সাদা, দেয়া হয়েছে গ্রে কালারের ফোন। সেলারের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানলেন, তার পছন্দের কালারের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। জাবেদের এতে খুব মন খারাপ হলো।

বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে। বিশেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যা এখন তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো। ফেসবুকের এফ-কমার্স তো বটেই বাংলাদেশে ই-কমার্সের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। কিন্তু, এতোগুলো ই-কমার্স মিলেও এই খাতকে আস্থাশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে নি। মূলধারার যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তাদের সবারই কিছু না কিছু ত্রুটি লক্ষণীয়।

প্রথমত প্রোডাক্টের মান তারা নিশ্চিত করতে পারছে কিনা, দ্বিতীয়ত সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারছে কিনা, তৃতীয়ত কোনো সমস্যা হলে যোগাযোগ রক্ষায় তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়। এবং এই প্রশ্নগুলোতে এখনো দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো লেটার মার্কস পাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে নি এখনো। এটা ঠিক নতুন ইন্ডাস্ট্রি, তাই সময় দেয়া উচিত তাদের। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যখন কিছু ক্ষেত্রে তারা পাস মার্কসই তুলতে পারেন না সার্ভিসে, কোয়ালিটিতে তখন। মানুষ কেনো তাহলে ই-কমার্সকে বিশ্বাস করবে?

ভোক্তাকে ঠকিয়ে কিংবা অন্ধকারে রেখে বা বিভ্রান্ত করে অন্তত এই ২০২০ সালে কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে তা হবার নয়। কারণ, এই মুহুর্তে অনলাইনে সচেতন একটি শ্রেণীরও বিকাশ হতে দেখছি আমরা। যারা নিয়ম মানেন, আইন পছন্দ করেন। যারা অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। এই সচেতন শ্রেণীর গ্রাহকরা যখনই প্রতারিত হন, তারা গালাগালির আশ্রয় নেন না। বরং যথাযথ নিয়মে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযোগ প্রদান করেন।

২০০৯ সালে দেশে ভোক্তা অধিকার আইন প্রণীত হয়। এই আইনের অধীনে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষার মোট ৮২টি ধারা আছে। কিছু কিছু ধারার কথা উল্লেখ করতে পারি। যেমন- ৪৪ ধারায় উল্লেখ আছে, পণ্যের মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করলে অনধিক ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অনলাইনের কেনাকাটায় অনেক সময় আমরা খেয়াল করি, বিজ্ঞাপনে এক রকমের পণ্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে পরে অন্য পণ্য ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে কিংবা যে পণ্য দেখানো হচ্ছে, তার সাথে মিল থাকছে না ডেলিভারি হওয়া পণ্যের।

এই আইনের ৪৫ নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইভ্যালি নামক একটি জন-আলোচিত ই-কমার্সের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। দারুণ অফার দিয়ে আলোচনায় আসা এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সমালোচনার মুখে পড়েছে তাদের ডেলিভারি সিস্টেমের কারণে। প্রতিশ্রুত পণ্য সময়মতো দেয়ার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। সবচেয়ে যেখানে তাদের নিয়ে সমালোচনা তা হলো, গ্রাহকের সমস্যা তারা তাদের মূল ফেসবুকে গ্রুপে এপ্রুভ করেন না। কাস্টমার কেয়ার থেকে জবাব আসে না। এপসে ইস্যু রিপোর্ট করেও উত্তর মেলে না। এধরণের কেইসে প্রতিশ্রুত পণ্য / সেবা যথাযথভাবে সরবারাহে ব্যর্থ হলে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৫ ধারা গ্রাহকের পক্ষে কাজ করতে পারে।

আরেকটি সুন্দর ধারার কথা জেনে রাখতে পারেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারা বলছে, "কোন সেবা প্রদানকারী অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতা দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য বা জীবনহানী ঘটাইলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।" কোনো ভোক্তা যদি মনে করেন, সেবা প্রদানকারী কোম্পানির অবহেলা, দায়িত্বহীনতার কারণে ভোক্তার অর্থ, স্বাস্থ্যের হানি ঘটছে তিনি এই ধারায় অভিযোগ দায়ের কর‍তে পারেন।

কেবল অনলাইনে কেনাকাটা নয় অফলাইনেও আপনি যেকোনো ধরণের প্রতারণার মুখে পড়লে এই আইনে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন। কোনো দ্রব্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখছে, ভেজাল পণ্য দিচ্ছে এরকম কেইসে অনায়াসে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে জরিমানা ধার্য হবে তার ২৫% অভিযোগকারী ভোক্তা পাবেন। অর্থাৎ, ১ লাখ জরিমানা হলে ২৫ হাজার টাকা পাবেন ভোক্তা।

এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে অভিযোগ জানানো যায় এটা অনেকেই জানেন না বলে, অভিযোগ করতে পারেন না। অথচ, এখন স্রেফ অনলাইনে ঘরে বসেই এতো সহজভাবে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি আছে যে মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়ে যে কেউ ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। এজন্যে আপনাকে অনলাইনে ভোক্তা অধিকারের ফরমে অভিযোগের বিবরণ লিখতে হবে। যুক্ত করতে হবে আনুসঙ্গিক প্রমাণ, ক্রয়ের রসিদ। ঠিকভাবে পূরণ করে জমা দেয়ার পর আপনাকে অনলাইনেই একটি আবেদন রশিদ নাম্বার দেয়া হবে। আপনি সেই নাম্বার দিয়ে আবার যাচাইও করতে পারবেন যে আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।

ই-কমার্স থেকে কেনাকাটা একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা সময়ের সাথে সাথে আরো সুখকর হবে বলে আশা করা যায়। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই "আনচেকড" এবং "আনকোয়েশ্চেনড" ব্যবস্থা উন্নতির প্রধান অন্তরায়। আজকের দিনে ই-কমার্সের কেনাকাটায় যেসব ভোগান্তির তথ্য আমরা দেখতে পাই তাকে প্রশ্ন ছাড়াই এভাবে চলতে দিলে সিস্টেম আরো নিম্নগামী হতে পারে। আর এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ভোক্তাদের ভোগান্তির প্রতিকারে এগিয়ে আসতে পারে। তবে তার জন্যে ভোক্তাকেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।

ভোক্তা অধিকার আইন- http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1014.html

অনলাইনে অভিযোগের ফরম- http://online.forms.gov.bd/onlineApplications/apply/MTMyLzMzLzI2

পুড়োটা পড়ুন

জীবনানন্দ দাশকে বাঁচাতে পারেনি তার সমাজ!

এপ্রিল ২৬, ২০২১


ধরুন আপনি দেখলেন একটা শালিক মাঠের ঘাসে পা ডুবিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে, হঠাৎ উড়ে গিয়ে পাশেই একটা হিজল গাছের ডালে গিয়ে বসলো। প্রথমেই, ধরে নিতে হচ্ছে আপনি আসলেই ব্যাপারটা লক্ষ করছেন। কারণ ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা যে, আপনি ব্যাপারটা লক্ষই করেননি। তো এই গোটা ঘটনাটা আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন? হয়তো বলবেন, "আমি দেখলাম একটা শালিক মাঠে হাঁটছিল, হঠাৎ সে উড়ে গিয়ে হিজল গাছে বসলো।"

আসুন দেখি, জীবনানন্দ ঘটনাটা বর্ণনা করছেন কীভাবে- "দেখিব খয়েরি ডানা শালিকের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে, ধবল রোমের নীচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে নেচে চলে- একবার- দুইবার- তারপর হঠাৎ তাহারে বনের হিজল গাছ ডাক দিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে;" 

জীবনানন্দের কবিতার ভাষা খুব কঠিন নয়, আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত শব্দগুলোই সেখানে এসেছে। কিন্তু এসেছে অদ্ভূতভাবে। অদ্ভূত সুন্দরভাবে। শালিকের উড়ে গিয়ে গাছে বসার মতো সাধারণ একটা ব্যাপার, কিন্তু কী অতিমানবিকভাবেই না সেটা প্রকাশ করেছেন। দেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন 'সবচেয়ে সুন্দর করুণ'। করুণ এর সাথে সুন্দর যোগ করে মাত্র দুটি শব্দেই তিনি এই দেশের প্রকৃতিটা বুঝিয়ে দিলেন। তিনিই বলেছিলেন 'উপমাই কবিতা'। উপমার এমন অদ্ভুত, অসাধারণ এবং সৃজনশীল প্রয়োগ বাংলার খুব কম কবিই করতে পেরেছেন।

"চারি দিকে এখন সকাল- রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!" "চারি দিকে নুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল, তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল!" "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; " "তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!" এমন অসংখ্য অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যায়, এর থেকে আরো চমৎকার সব উদাহরণ দেয়া যায়। আমি শুধু হাতের কাছে থাকা কয়েকটি তুলে দিলাম মাত্র।

শুধু কি উপমার কারণে জীবনানন্দের কবিতা অসাধারণ? না, শুধু উপমাই মূল কারণ হলে সেটা উপমার ডিপো হতো ঠিকই, কিন্তু কালোত্তীর্ণ হতো না। আমি আপনাদের 'আট বছর আগের একদিন' কবিতাটা পড়তে বলবো, যারা পড়েননি। যারা পড়েছেন, তারা জানেন, এটা কী অদ্ভুত একটা কবিতা। কী পরাবাস্তব এক অনুভূতি হয় এই কবিতাটা পড়লে। জীবনানন্দের কবিতা সুদৃশ্য সাজানো লেকের জল নয়, উত্তাল সমুদ্র। কবিতা পড়তে পড়তে হঠাৎ করে কোনো এক লাইনে এসে আপনি চমকে উঠবেন। চমকে গিয়ে থমকে যাবেন। বইয়ের পাতা থেকে মাথা তুলে একবার ভাববেন 'এটা কী বলল!' এরপর ঐ লাইনটা আবার পড়বেন, ভাববেন, আলোড়িত হবেন।

বাংলায় আধুনিক কবিতার দিকপাল ত্রিশের দশকের পাঁচ মহৎ কবি- জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে- এঁদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশকে আমার শ্রেষ্ঠ মনে হয়। অবশ্য, এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত মত, হয়তো জীবনানন্দের প্রতি পক্ষপাতিত্বের ফল। বুদ্ধদেব বসুর কথাও বলা যায়, তবে তিনি সাহিত্যের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পারদর্শী ছিলেন। সেদিক থেকে জীবনানন্দ ছিলেন 'বিশুদ্ধ কবি'। বুদ্ধদেব বসুই তাঁকে 'শুদ্ধতম কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। জীবনানন্দ যদিও কিছু উপন্যাস লিখেছেন, লিখেছেন ছোট গল্প এবং কিছু প্রবন্ধ- তবে তাঁর কবিতার কাছে সেগুলো জৌলুশহীন।

অসাধারণ প্রতিভাবান এই মানুষটিকে সারাটা জীবন কাটাতে হয়েছে ভীষণ অভাব-অনটনের সাথে, অনেক কষ্টে। এই মানুষটি যদি রবীন্দ্রনাথের মতো পরিবেশ পেতেন, তাহলে হয়তো তিনিই হতেন বাংলার প্রধানতম কবি। জীবনানন্দের জীবন সম্পর্কে জানতে সহায়ক বই হিসেবে শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু' বইটি পড়তে অনুরোধ করব। মানুষ জীবনানন্দকে তাহলে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যাবে। 

ব্যক্তিগতভাবে আঞ্চলিকতা নিয়ে আমি কখনো মিথ্যে গর্ব প্রদর্শন করি না। কিন্তু বরিশালে 'জীবনানন্দ দাশ সড়ক' দিয়ে হেঁটে যাবার সময় এক ধরণের আনন্দ হয়। আহা! এই মাটিতে একদা জীবনানন্দ ছিলেন। তবে কষ্টও হয়। বরিশালে তাঁর স্মরণে যেরকম আয়োজন থাকার কথা ছিল, সেটা একদমই নেই। এই অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ-প্রতিভাটিকে এখানকার মানুষ ঠিকভাবে চেনে না। আমি বরিশালে গেলে অতি আগ্রহ নিয়ে বারবার জীবনানন্দের পৈত্রিক বাড়ি, বিএম কলেজে যেখানে জীবনানন্দ পড়াতেন এবং বরিশাল মহাশশ্মানে যেখানে 'আট বছর আগের একদিন' এর সেই লাশকাটা ঘরটা ছিল- সেখানে যাই। কেন যাই জানি না, তবে এক ধরণের রোমাঞ্চ হয়- এখানে জীবনানন্দ ছিলেন!

শত বছরের ইতিহাসে একজন মাত্র মানুষ কলকাতায় ট্রামের তলায় পড়ে মারা গিয়েছে, তিনি জীবনানন্দ। অনেকে মনে করে এটা আত্মহত্যা ছিল। সে সময়ে তাঁর যে দূরাবস্থা ছিল, তাতে সেটা অস্বাভাবিক নয়। আত্মহত্যা না হলেও তিনি অবশ্যই অন্যমনস্ক ছিলেন। সেই অন্যমনস্কতা কিন্তু কবি-সুলভ অন্যমনস্কতা নয়, একজন অভাবী সংগ্রামী মানুষের অন্যমনস্কতা।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই প্রতিভাটিকে সে সময়ের মানুষেরা, সেই সমাজ রক্ষা করতে পারেনি। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৪ অক্টোবর। এর কিছুদিন পর ২২ অক্টোবর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে উজ্জ্বলতম এই নক্ষত্রটি ঝড়ে পড়ে। 

"মানুষেরও আয়ু শেষ হয়! পৃথিবীর পুরানো সে পথ মুছে ফেলে রেখা তার- কিন্তু এই স্বপ্নের জগৎ চিরদিন রয়! সময়ের হাত এসে মুছে ফেলে আর সব,- নক্ষত্রেরও আয়ু শেষ হয়।" কিন্তু জীবনানন্দ দাশ নামের নক্ষত্রটির আয়ু অসীম। যতদিন বাংলার আকাশ থাকবে, ততদিন জীবনানন্দ থাকবে। বারবার ফিরে আসবে আরো 'সুন্দর করুণ' ভাবে।

পুড়োটা পড়ুন

আইকিউ এর ইতিবৃত্ত: সত্যিই মানুষের বুদ্ধিমত্তা নির্দেশ করে?

এপ্রিল ২৬, ২০২১



আইকিউ এর ইতিবৃত্ত

১৮৮২ সালে ব্রিটিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রান্সিস গাল্টন প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ের জন্য কিছু সাধারণ পরীক্ষা তৈরি করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফ্রান্সের একটি স্কুলে কোন কোন শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন দরকার, এটি ঠিক করার জন্য কর্তৃপক্ষ মনোবিদ আলফ্রেড বিনে এবং থিওডর সাইমনের শরণাপন্ন হয়। ১৯০৫ সালে আলফ্রেড বিনে এবং থিওডর সাইমন মস্তিষ্কের বিকাশের কিছু প্রকাশমাধ্যম যেমন মৌখিক যুক্তি, কাজের স্মৃতিশক্তি এবং চাক্ষুষ-স্থানিক দক্ষতা ইত্যাদি যাচাই করার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষামালা উদ্ভাবন করেন এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে স্কোরিং করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

প্রতিটি বয়সের শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নমালা তৈরি করে দেখা হয় যে, শিশুটি তার বয়সের বাকি শিশুদের থেকে বেশি, সমান না কম বুদ্ধিমান। তাদের উদ্ধাবিত পদ্ধতিটি বিনে-সিমন টেস্ট নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। এরপর স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম. টারম্যান ১৯১৬ সালে বিনে-সিমন টেস্টকে কিছুটা পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করেন, যা স্ট্যানফোর্ড-বিনে ইন্টেলিজেন্স স্কেল নামে পরিচিতি পায়। এই টেস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বুদ্ধিমত্তা পরিমাপক পদ্ধতি হিসেবে অদ্বিতীয় মর্যাদা পায়। এর আগে ১৯১২ সালে জার্মান মনোবিদ উইলিয়াম স্টার্ন Intelligence এবং Quotient শব্দজোড়া থেকে IQ শব্দটি তৈরি করেন, যা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শব্দ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।


আইকিউ পরীক্ষার অন্ধকার অধ্যায়

যদিও আইকিউ টেস্ট ফ্রান্সের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রথম তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি জনপ্রিয় হতে হতে অনেকটাই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিচারের একমাত্র মাধ্যমে পরিণত হয়। আইকিউ ধীরে ধীরে মানুষকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করার মাধ্যমেও পরিণত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাবাহিনীর নিয়োগের সময় বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা হিসেবে এ পরীক্ষার ব্যবহার করে। সেই সময় অনেক বিজ্ঞানী এবং রাজনীতিবিদরা ইউজেনিকস মতবাদে বিশ্বাস করতেন। ইউজেনিকস অনুযায়ী, যেসব মানুষ পশ্চিমাদের চোখে অধিকতর সুন্দর, বুদ্ধিমান (অর্থাৎ তারা নিজেরা)- তাদের মধ্যেই প্রজনন প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখে মানবজাতির মধ্যে একটি বিশুদ্ধ জাতি তৈরি করা।

মতবাদ পুরো পৃথিবীতেই গণহত্যা এবং জাতিগত বিশুদ্ধিকরণকে উৎসাহিত করে। ইউজেনিকসের সমর্থকরা আইকিউ টেস্টকে বুদ্ধিমত্তার পরিমাপক হিসেবে ধরত। স্বভাবতই তারা সেসময় প্রথাগত পড়াশোনায় এগিয়ে থাকার কারণে আইকিউ টেস্টে ভালো করত এবং একসময় তারা সেটিকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু করল। এমনকি ১৯২৪ সালে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে কম আইকিউধারী মানুষদের সন্তান গ্রহণে অক্ষম করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল, যা পরে আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালতও সে সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে ঘোষণা করে।

ভার্জিনিয়ায় ১৯২৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত নিম্ন আইকিউ'র অজুহাতে প্রায় ৭,০০০ লোককে বিভিন্নভাবে প্রজননে অক্ষম করা হয়। ধীরে ধীরে এর হার কমে আসে এবং ২০০১ সালে এটিকে বর্ণবাদী আখ্যায়িত করে ভার্জিনিয়া। নাৎসি শাসিত জার্মানিতে কম আইকিউ সম্পন্ন শিশুদের হত্যার অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মানবাধিকার আন্দোলনের প্রভাবে আইকিউ বিচার করে মানুষকে শ্রেণিভুক্ত করা কমে আসে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবেই মানুষের গড় আইকিউ বেড়েছে। কিন্তু এর কারণ হিসেবে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ নয়, বরং জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন দায়ী বলে গবেষকরা মত দিয়েছেন। এই ঘটনাটিকে ফ্লিন ইফেক্ট বলা হয়।

আইকিউ কি সত্যিই মানুষের বুদ্ধিমত্তা নির্দেশ করে?

আইকিউ টেস্ট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যা মানুষের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান, গাণিতিক যুক্তি, স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিগত বিশ্লেষণ ক্ষমতা ইত্যাদি বিচার করে ফলাফল নির্ধারণ করে। কিন্তু বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র এ ক'টি বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। যেমন, আবেগ কিংবা সামাজিক বুদ্ধিমত্তা আইকিউ দিয়ে বিচার করা যায় না। আবার উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সচেতনতা, স্বকীয়তা, আধ্যাত্মিক বোধ ইত্যাদি আইকিউ দিয়ে বিচার করা হয় না। কানাডার টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব বিকাশ এবং প্রায়োগিক মনোবিদ্যার অধ্যাপক স্ট্যানোভিচের মতে, আইকিউ পরীক্ষাকে এককভাবে গুরুত্ব দেবার কিছু নেই। তার মতে, আইকিউ পরীক্ষাগুলো কিছু মানসিক অনুষঙ্গকে পরিমাপ করার ক্ষেত্রে খুব ভালো; যেমন- যুক্তি, বিমূর্ত যুক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং কর্ম-স্মৃতি ক্ষমতা সহ মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা ইত্যাদি।

কিন্তু, বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এটি কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, আইকিউ পরীক্ষাগুলো মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিমাপ করে এবং সেটি মোটামুটিভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং কর্মজীবনে সাফল্যের পূর্বাভাস দিতে পারে। তবে সে পূর্বাভাস অসম্পূর্ণ এবং ততটা ভরসার যোগ্য না-ও হতে পারে। স্বাস্থ্যকর মানবিক চিন্তাশৈলী এবং মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ দক্ষতা আইকিউ দ্বারা বিচার করাই যথেষ্ট নয়। তাই বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ে আইকিউ টেস্টই সবকিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুড়োটা পড়ুন

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য পাঠাগার

এপ্রিল ২৬, ২০২১



 ছাপা অক্ষরে লেখা পড়তে যাঁদের সমস্যা হয়, তাঁদের মন খারাপের দিন এবার শেষ। ভারতের The Ministry of Social Justice and Empowerment থেকে Sugamaya Pustakalaya নামের একটি অনলাইন লাইব্রেরী তৈরি করা হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তিজনিত অসুবিধা আছে এমন ব্যক্তিরা সহজেই এই অনলাইন লাইব্রেরীর বিভিন্ন সুলভ পুস্তক বিন্যাসের বই পড়তে পারবেন। নানান ভাষাভাষির প্রায় দুই লাখ বই আছে এই লাইব্রেরীতে। Daisy Forum of India (DFI)-এর সদস্যদের হাত ধরে the Ministry of Social Justice and Empowerment-এর তরফ থেকে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। TCS Access-ও এঁদের সঙ্গে যুক্ত। Daisy Forum-এর দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন এমন সদস্যরা এখানে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এমন সবরকমের ডিভাইস থেকেই পড়া যাবে এই লাইব্রেরীর বই। DAISY প্লেয়াররা এমনকি Braille ব্যবহারকারীরাও এখানে বই পড়তে পারবেন। ছাপার অক্ষর পড়ার সমস্যা আছে যাঁদের তাঁরা মেম্বার অরগাইজেশানগুলোর মারফত Braille কপির জন্য অনুরোধ করতে পারবেন। 

DFI-এর সদস্য হওয়া সহজ। আগ্রহী স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক লাইব্রেরী, NGO, প্রকাশক, কর্পোরেট সংস্থা এরা সকলে এই লাইব্রেরীর গ্রন্থ সংখ্যা এবং আয়তন বাড়ানোর কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। IT ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন অনলাইন লাইব্রেরীর প্রযুক্তিগত উন্নতি আর ভারতীয় প্রাদেশিক ভাষায় ডিজিটাল কনটেন্ট পড়ার বিষয়ে সহায়তা করবেন।


পুড়োটা পড়ুন

একজন অতিরিক্ত সচিবকেই যদি এভাবে মরে যেতে হয়...

এপ্রিল ২৬, ২০২১

বাংলাদেশ সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব তিনি। কিডনির জটিলতায় অসুস্থ হয়ে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে ও চিকিৎসা পাননি। বাধ্য হয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে মারা যান।


ওই অতিরিক্ত সচিবের মেয়ে সুস্মিতা একজন চিকিৎসক। যে ৩৩৩ হটলাইন নম্বর থেকে সরকার স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সুম্মিতা। আফসোস করে তিনি বললেন, “বাবার আইসিইউ সাপোর্টটা খুব দরকার ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। বাবার চিকিৎসাই হল না, তিনি মারা গেলেন। আমি ডাক্তার হয়েও কিছু করতে পারলাম না।”

সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব যার মেয়েও চিকিৎসক তাদের যদি এই অবস্থা হয় সাধারণ মানুষের কি দুর্ভোগে বুঝতে খুব একটা কষ্ট হয় না। এই সমস্যার সমাধান কি? কিভাবে বন্ধ হবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ? 

আমার মনে হয় আমরা যদি এই মুহূর্তে সব সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি সব হাসপাতালগুলো খোলা রাখতে পারতাম! সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে এই ই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হবে। আর এই হাসপাতালে অন্যসব রোগীরা যাবেন। অন্যান্য রোগের রোগীরা যেখানে যাবেন সেই হাসপাতালেও তৎক্ষণাৎ করোনা টেস্টের ব্যবস্থা থাকতে পারলে ভালো। 

আমার নিজের ধারণা গত দুই মাসে করো না যত লোক করোনায় মারা গিয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বা করো না উপসর্গ নিয়ে তার চেয়ে বেশি লোক মারা গেছে। করোনা এসেছে মানে এই নয় যে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হবে না‌। কিডনি রোগী থাকবে না। মানুষের দুর্ঘটনা ঘটবে না। গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতাল লাগবে না‌। বরং অন্য সব রোগ আরও বেশি হচ্ছে।

আমি মনে করি, আমাদের সরকারি-বেসরকারি যত হাসপাতাল রয়েছে একটা সুষ্ঠু সমন্বয় করতে পারলে সব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। আশা করছি আমাদের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন যাতে একজন মানুষকেও এভাবে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে মারা যেতে না হয়। স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে নিতে না হয় কোন পরিবারকে। ভাল থাকুন সবাই। ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ।

পুড়োটা পড়ুন