বাংলাদেশের 'রোগী নং ৩১' হবেন না প্লিজ!

এপ্রিল ১৩, ২০২১

দক্ষিণ কোরিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর একটি। সেই দেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে দাবানলের মত। কিভাবে? একটু পিছনে তাকিয়ে দেখা যাক।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে জানুয়ারির ২০ তারিখে, একজন ৩৫ বছর বয়স্ক নারী উহান থেকে সিউল বিমানবন্দরে অবতীর্ণ করলে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে সেলফ কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। এর পরের এক মাসে গোটা দেশে মাত্র ৩০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। সো ফার, সো গুড, তাই না? এক মাসে মাত্র ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে, খারাপ না। কিন্তু এরপর...

ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে একজন মধ্যবয়স্ক নারী একটি ছোট ট্রাফিক এক্সিডেন্টে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ডায়গু শহরে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ফেব্রুয়ারির ৯ এবং ১৬ তারিখে তিনি স্থানীয় এক চার্চে দুবার যান উপাসনায় অংশগ্রহণ করতে। এর মাঝে কিন্তু ১৫ তারিখে তাঁর জ্বর ধরা পড়ে, এবং ডাক্তাররা তাঁকে করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করতে পরমার্শ জানান এবং একই সাথে সেলফ আইসোলেশনে থাকার জন্যও। ডাক্তারদের পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি শুধু ১৬ তারিখে চার্চেই যান নাই, এরপর বন্ধুর সাথে এক রেস্তরাঁতেও যান লাঞ্চ বাফে খেতে। 

১৭ তারিখের মধ্যে ভদ্রমহিলার অবস্থার অবনতি হলে তিনি অবশেষে করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করান। ১৮ তারিখে ফলাফল আসেঃ পজিটিভ, এবং তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার করোনাভাইরাস রোগী নম্বর ৩১। 

এর কিছুদিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা রীতিমত জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সেই চার্চেরই সদস্যা, যেখানে রোগী নম্বর ৩১ একবার নয়, দুবার গিয়েছিলেন। 

কোরিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (কেসিডিসি) -র উপাত্ত অনুযায়ী, 'রোগী ৩১' যেই দুবার চার্চে গিয়েছিলেন, সে দুইবার মোট ৯,৩০০ জন মানুষ ছিলেন সেখানে, যাদের মধ্যে ১,২০০ জন পরবর্তীতে ফ্লু এর মত উপসর্গ ধরা পড়ে পরবর্তী দিনগুলোতে। রোগী ৩১ যেই রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন, সেখানে কত মানুষ ছিল, সেই হিসাব অবশ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া, এই একই চার্চের বেশ কিছু সদস্য জানুয়ারি ৩১ - ফেব্রুয়ারির ২ তারিখের মাঝে ডায়গুর কাছেই আরেক শহর চেওংডুর এক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে।

এই ডায়গু আর চেওংডু, এই দুই শহরেই কিন্তু সমগ্র দক্ষিণ কোরিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের ৮০ ভাগ অবস্থিত। যদি কেসিডিসির উপাত্ত সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে বলা যেতে প্রায় এই যে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাস বিস্ফোরণ, তার পিছনে এই চার্চ, এবং বিশেষ করে রোগী ৩১ এর বিশাল হাত রয়েছে। 

এত কথা বলার কারণ একটাই, এই এক রোগী ৩১ এর গাফিলতি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মত উন্নত একটা দেশে করোনাভাইরাস কিভাবে ছড়িয়ে পড়লো, সেটা থেকে আমাদের বাংলাদেশের মানুষরা যাতে কিছু শিক্ষা নেয়, সেই আশায়। সোশ্যাল আইসোলেশন, সেলফ কুয়ারান্টাইন, কোন ফাইজলামির বিষয় না। সরকার তাঁদের দায়িত্ব পালন করছে কি করছে না, সেটা একটা বিষয় বটে। কিন্তু একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের নিজেদের উপরেও কিছুটা দায়িত্ব এসে বর্তায়, নিজের জন্য, নিজেদের প্রিয়জনদের জন্য, আশেপাশের অচেনা আগন্তুকদের জন্য।

আপনি বাংলাদেশে বড় হয়েছেন বৃষ্টির কাদামাটিতে ফুটবল খেলে, ড্রেনের পানি দিয়ে বানানো টক দিয়ে চটপটি খেয়ে। সেজন্য আপনার ইম্মিউন সিস্টেম অনেক শক্ত, করোনাভাইরাসে আপনার কিছুটাই করতে পারবে না, এই সুখস্বপ্ন দেখে বড়াই করা ছাড়ুন। আর আপনার ইম্মিউন সিস্টেম নাহয় শক্ত হতেই পারে, কিন্তু করোনাভাইরাসের উপসর্গ প্রকটভাবে দেখা না দিয়েও আপনি যে এই রোগের জীবাণুর বাহক হিসেবে অন্যদের ঝুঁকির দিকে ফেলে দিতে পারেন, সেটা একটু মাথায় রাখবেন।

আপনার জন্য যেটা মামুলি 'সর্দি, কাশি এবং একটু জ্বর' সেটার আপনার বৃদ্ধ বাবা যার কিছুদিন আগে বাইপাস সার্জারি হয়েছে, বা পাশের বাসার দাদী যিনি শ্বাসকষ্টে ভুগেন, অথবা আপনার বন্ধুদের সাথে কফি হাউজে বসে 'ক্যান্ট মিস' আড্ডায় সেলফি তুলার সময় পিছনের টেবিলে বসা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অচেনা আঙ্কেলটির জন্য জীবননাশক হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এই যে নাকে তেল দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এটা করার সময় আরো কয়জনকে আপনার মতই বাহক বানিয়ে ফেলছেন, নিজের সাথে আরো অনেককে পোটেনশিয়াল নিঃশব্দ আততায়ীতে পরিণত করছেন, সেটা বুঝতে পারছেন? 

বাদ থাকে প্রবাস ফেরত বাঙালীদের কথা। ভাই, আপনাদের জন্য এই দেশ কৃতজ্ঞ। আপনাদের খেটে খাওয়া রেমিট্যান্সের টাকাতেই এই দেশ চলে। এইটা অস্বীকার করার উপায় নাই। কিন্তু এই যে হুট করে দেশে ফিরে আসছেন, ফিরে এসে কুরান্টাইনে থাকতে অনুরোধ করলেও মানতে চাচ্ছেন না, উল্টো বিরক্তি প্রকাশ করছেন, সরকার কুয়ারাইন্টাইনে রাখতে চাইলেও কুয়ারাইন্টাইন ক্যাম্পের তালা ভেঙ্গে বিক্ষোভ করছেন 'আই ফাক ইউ' বলে ইংরেজিতে গাল মেরে নিজের জাত দেখাচ্ছেন, বাসায় যেতে দিলেও নিজেকে আলাদা করে না রেখে দাওয়াত খেয়ে বেড়াচ্ছেন, সাজেকে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন, ভাই আপনাদের বুদ্ধি এবং দায়িত্বজ্ঞান কোথায়, ভাই?

সরকার তাদের কাজ ঠিকমত যদি করতে না পারে, তাদের গালি প্রাপ্য, কিন্তু আপনারা এসব করে নিজেদের এবং অন্যান্যদের এমন ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন সেটার দায়ভার কার? পরে আপনি বা আপনার প্রিয়জন আক্রান্ত হলে, খোদা না করুক কেউ মারা গেলে তখন তো সরকারকেই গালি মেরে নিজের দায় দায়িত্ব থেকে হাত ধুয়ে ফেলবেন। সেলফ কুয়ারান্টাইন, সব স্কুল কলেজ ভার্সিটি বন্ধ করে দেয়া, এসব কি আপনাদের পার্টি/ভ্যাকেশন ট্যুর/মউজমাস্তি আর ফেসবুকে সেলফি/চেক-ইন এর জন্য করা হয়েছে? 

বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ একটা দেশে জনসাধারণের গাফিলতি এবং ন্যূনতম দায়দায়িত্ব নিয়ে চলাফেরার করার অনীহার মাশুল যে কি বাজেভাবে দিতে হতে পারে, সেটা দয়া করে অনুধাবন করুন। আমি বাংলাদেশে থাকি না, বলতে পারেন আমার এত ঠ্যাকা পড়েছে কেন আপনাদের লেকচার দিতে? ভাই, দিতাম না, কিন্তু আমার ঠ্যাকা আছে। আমার বৃদ্ধ বাবা-মা, শ্বশুর শাশুড়ি, নানি, এবং অগণিত মুরুব্বি আত্মীয় স্বজন প্রিয়জন দেশেই থাকেন। আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয় বন্ধুবান্ধবেরও অভাব নাই। আমি এবং আমার স্ত্রী তাদের প্রত্যেকের জন্য দারুণভাবে শঙ্কিত। তাই হ্যাঁ, আপনারা কি করছেন, না করছেন, কিভাবে চলাফেরা করছেন, সেসব নিয়ে আমার অবশ্যই ঠ্যাকা আছে।
 
হয়তো ইতিমধ্যেই দেরি হয়ে গেছে অনেক। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী মাত্র তিনজন, তাদের মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়ে গেছে বলে লাফানোর দিন আর নাই, কারণ আজকে পড়লাম আরো বেশ কিছু মানুষের মধ্যে ধরা পড়েছে। এই হার আগামী দিনগুলোতে আরো হয়তো বাড়বে। কিন্তু তারপরেও সবার কাছে মিনতি, আরেকটু সচেতন হন, আরেকটু দায়িত্ববান হন। এটা কোন ফাইজলামি না। 

For god's sake, don't be Bangladesh's Patient 31.

পুড়োটা পড়ুন

প্রতারণার স্বীকার? ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করুন!

এপ্রিল ১২, ২০২১


ই-কমার্স থেকে সময়মতো পণ্য না পেয়ে ভোগান্তিতে আছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ হুংকার দেন ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়ার। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে কতটুকু জানেন? কিভাবে অনলাইনেই ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়া যায়?

জাবেদ কিছুদিন হলো একটা চাকরিতে জয়েন করেছেন। আগের মতো তাই তার হাতে বাড়তি সময় থাকে না। তাই এখন তিনি কেনাকাটার জন্যে অনলাইনের উপর কিছুটা নির্ভরশীল হতে চান। এজন্যে তিনি বাংলাদেশের ই-কমার্সগুলো থেকে মাঝে মধ্যে প্রোডাক্ট অর্ডার দেন।

অফিসের কাজে প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। তাই ফোন চার্জের জন্যে একবার তিনি একটা পাওয়ার ব্যাংক অর্ডার দিলেন। দুইদিন বাদেই পাওয়ার ব্যাংকটা ডেলিভারি পেলেন। জাবেদ মোটামুটি খুশি। এরপর সে আরেকটি ই-কমার্স থেকে একটা ব্যাগপ্যাক অর্ডার দিলেন। কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও ব্যাগপ্যাকটি ডেলিভারি হচ্ছিলো না। আর যখন ব্যাগপ্যাক পেলেন তখন খেয়াল করলেন ডিজাইনে মিল নেই। যেরকমটা দেখে অর্ডার দিয়েছিলেন, প্রোডাক্ট এসেছে তার ব্যতিক্রম।

একবার কার্গো প্যান্ট দিয়েও বিরুপ অভিজ্ঞতা পেলেন। প্যান্ট ডেলিভারি পাওয়ার পর তার মনে হলো এই প্যান্ট কোনো ক্রমেই নতুনের মতো দেখতে না। দ্বিতীয়ত প্যান্টটা থ্রি কোয়ার্টার, যা তিনি চান নি। এই প্রোডাক্ট রিটার্ন দিতে গিয়ে তার আরো বেগ পোহাতে হলো। রিফান্ড আসতে আসতে ১১ দিন লাগলো প্রায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন দিতে হয়েছে কাস্টমার কেয়ারে।

জাবেদ তবুও টুকটাক কেনাকাটা করতে থাকলেন ই-কমার্স থেকে। একবার বিশেষ অফারে তিনি একটি দামি ফোন অর্ডার দিলেন সাহস করে। তিনি পণ্যের দামও আগেই দিয়ে দিলেন অফারের শর্ত মোতাবেক। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও ফোন আসলো না। এক মাস পর তিনি যখন ফোন হাতে পেলেন তখন দেখলেন, তার পছন্দের কালার দেয়া হয় নি। তিনি চেয়েছিলেন সাদা, দেয়া হয়েছে গ্রে কালারের ফোন। সেলারের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানলেন, তার পছন্দের কালারের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। জাবেদের এতে খুব মন খারাপ হলো।

বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে। বিশেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যা এখন তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো। ফেসবুকের এফ-কমার্স তো বটেই বাংলাদেশে ই-কমার্সের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। কিন্তু, এতোগুলো ই-কমার্স মিলেও এই খাতকে আস্থাশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে নি। মূলধারার যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তাদের সবারই কিছু না কিছু ত্রুটি লক্ষণীয়।

প্রথমত প্রোডাক্টের মান তারা নিশ্চিত করতে পারছে কিনা, দ্বিতীয়ত সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারছে কিনা, তৃতীয়ত কোনো সমস্যা হলে যোগাযোগ রক্ষায় তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়। এবং এই প্রশ্নগুলোতে এখনো দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো লেটার মার্কস পাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে নি এখনো। এটা ঠিক নতুন ইন্ডাস্ট্রি, তাই সময় দেয়া উচিত তাদের। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যখন কিছু ক্ষেত্রে তারা পাস মার্কসই তুলতে পারেন না সার্ভিসে, কোয়ালিটিতে তখন। মানুষ কেনো তাহলে ই-কমার্সকে বিশ্বাস করবে?

ভোক্তাকে ঠকিয়ে কিংবা অন্ধকারে রেখে বা বিভ্রান্ত করে অন্তত এই ২০২০ সালে কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে তা হবার নয়। কারণ, এই মুহুর্তে অনলাইনে সচেতন একটি শ্রেণীরও বিকাশ হতে দেখছি আমরা। যারা নিয়ম মানেন, আইন পছন্দ করেন। যারা অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। এই সচেতন শ্রেণীর গ্রাহকরা যখনই প্রতারিত হন, তারা গালাগালির আশ্রয় নেন না। বরং যথাযথ নিয়মে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযোগ প্রদান করেন।

২০০৯ সালে দেশে ভোক্তা অধিকার আইন প্রণীত হয়। এই আইনের অধীনে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষার মোট ৮২টি ধারা আছে। কিছু কিছু ধারার কথা উল্লেখ করতে পারি। যেমন- ৪৪ ধারায় উল্লেখ আছে, পণ্যের মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করলে অনধিক ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অনলাইনের কেনাকাটায় অনেক সময় আমরা খেয়াল করি, বিজ্ঞাপনে এক রকমের পণ্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে পরে অন্য পণ্য ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে কিংবা যে পণ্য দেখানো হচ্ছে, তার সাথে মিল থাকছে না ডেলিভারি হওয়া পণ্যের।

এই আইনের ৪৫ নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইভ্যালি নামক একটি জন-আলোচিত ই-কমার্সের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। দারুণ অফার দিয়ে আলোচনায় আসা এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সমালোচনার মুখে পড়েছে তাদের ডেলিভারি সিস্টেমের কারণে। প্রতিশ্রুত পণ্য সময়মতো দেয়ার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। সবচেয়ে যেখানে তাদের নিয়ে সমালোচনা তা হলো, গ্রাহকের সমস্যা তারা তাদের মূল ফেসবুকে গ্রুপে এপ্রুভ করেন না। কাস্টমার কেয়ার থেকে জবাব আসে না। এপসে ইস্যু রিপোর্ট করেও উত্তর মেলে না। এধরণের কেইসে প্রতিশ্রুত পণ্য / সেবা যথাযথভাবে সরবারাহে ব্যর্থ হলে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৫ ধারা গ্রাহকের পক্ষে কাজ করতে পারে।

আরেকটি সুন্দর ধারার কথা জেনে রাখতে পারেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারা বলছে, "কোন সেবা প্রদানকারী অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতা দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য বা জীবনহানী ঘটাইলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।" কোনো ভোক্তা যদি মনে করেন, সেবা প্রদানকারী কোম্পানির অবহেলা, দায়িত্বহীনতার কারণে ভোক্তার অর্থ, স্বাস্থ্যের হানি ঘটছে তিনি এই ধারায় অভিযোগ দায়ের কর‍তে পারেন।

কেবল অনলাইনে কেনাকাটা নয় অফলাইনেও আপনি যেকোনো ধরণের প্রতারণার মুখে পড়লে এই আইনে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন। কোনো দ্রব্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখছে, ভেজাল পণ্য দিচ্ছে এরকম কেইসে অনায়াসে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে জরিমানা ধার্য হবে তার ২৫% অভিযোগকারী ভোক্তা পাবেন। অর্থাৎ, ১ লাখ জরিমানা হলে ২৫ হাজার টাকা পাবেন ভোক্তা।

এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে অভিযোগ জানানো যায় এটা অনেকেই জানেন না বলে, অভিযোগ করতে পারেন না। অথচ, এখন স্রেফ অনলাইনে ঘরে বসেই এতো সহজভাবে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি আছে যে মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়ে যে কেউ ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। এজন্যে আপনাকে অনলাইনে ভোক্তা অধিকারের ফরমে অভিযোগের বিবরণ লিখতে হবে। যুক্ত করতে হবে আনুসঙ্গিক প্রমাণ, ক্রয়ের রসিদ। ঠিকভাবে পূরণ করে জমা দেয়ার পর আপনাকে অনলাইনেই একটি আবেদন রশিদ নাম্বার দেয়া হবে। আপনি সেই নাম্বার দিয়ে আবার যাচাইও করতে পারবেন যে আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।

ই-কমার্স থেকে কেনাকাটা একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা সময়ের সাথে সাথে আরো সুখকর হবে বলে আশা করা যায়। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই "আনচেকড" এবং "আনকোয়েশ্চেনড" ব্যবস্থা উন্নতির প্রধান অন্তরায়। আজকের দিনে ই-কমার্সের কেনাকাটায় যেসব ভোগান্তির তথ্য আমরা দেখতে পাই তাকে প্রশ্ন ছাড়াই এভাবে চলতে দিলে সিস্টেম আরো নিম্নগামী হতে পারে। আর এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ভোক্তাদের ভোগান্তির প্রতিকারে এগিয়ে আসতে পারে। তবে তার জন্যে ভোক্তাকেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।

ভোক্তা অধিকার আইন- http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1014.html

অনলাইনে অভিযোগের ফরম- http://online.forms.gov.bd/onlineApplications/apply/MTMyLzMzLzI2

পুড়োটা পড়ুন

জীবনানন্দ দাশকে বাঁচাতে পারেনি তার সমাজ!

এপ্রিল ১১, ২০২১


ধরুন আপনি দেখলেন একটা শালিক মাঠের ঘাসে পা ডুবিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে, হঠাৎ উড়ে গিয়ে পাশেই একটা হিজল গাছের ডালে গিয়ে বসলো। প্রথমেই, ধরে নিতে হচ্ছে আপনি আসলেই ব্যাপারটা লক্ষ করছেন। কারণ ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা যে, আপনি ব্যাপারটা লক্ষই করেননি। তো এই গোটা ঘটনাটা আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন? হয়তো বলবেন, "আমি দেখলাম একটা শালিক মাঠে হাঁটছিল, হঠাৎ সে উড়ে গিয়ে হিজল গাছে বসলো।"

আসুন দেখি, জীবনানন্দ ঘটনাটা বর্ণনা করছেন কীভাবে- "দেখিব খয়েরি ডানা শালিকের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে, ধবল রোমের নীচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে নেচে চলে- একবার- দুইবার- তারপর হঠাৎ তাহারে বনের হিজল গাছ ডাক দিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে;" 

জীবনানন্দের কবিতার ভাষা খুব কঠিন নয়, আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত শব্দগুলোই সেখানে এসেছে। কিন্তু এসেছে অদ্ভূতভাবে। অদ্ভূত সুন্দরভাবে। শালিকের উড়ে গিয়ে গাছে বসার মতো সাধারণ একটা ব্যাপার, কিন্তু কী অতিমানবিকভাবেই না সেটা প্রকাশ করেছেন। দেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন 'সবচেয়ে সুন্দর করুণ'। করুণ এর সাথে সুন্দর যোগ করে মাত্র দুটি শব্দেই তিনি এই দেশের প্রকৃতিটা বুঝিয়ে দিলেন। তিনিই বলেছিলেন 'উপমাই কবিতা'। উপমার এমন অদ্ভুত, অসাধারণ এবং সৃজনশীল প্রয়োগ বাংলার খুব কম কবিই করতে পেরেছেন।

"চারি দিকে এখন সকাল- রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!" "চারি দিকে নুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল, তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল!" "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; " "তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!" এমন অসংখ্য অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যায়, এর থেকে আরো চমৎকার সব উদাহরণ দেয়া যায়। আমি শুধু হাতের কাছে থাকা কয়েকটি তুলে দিলাম মাত্র।

শুধু কি উপমার কারণে জীবনানন্দের কবিতা অসাধারণ? না, শুধু উপমাই মূল কারণ হলে সেটা উপমার ডিপো হতো ঠিকই, কিন্তু কালোত্তীর্ণ হতো না। আমি আপনাদের 'আট বছর আগের একদিন' কবিতাটা পড়তে বলবো, যারা পড়েননি। যারা পড়েছেন, তারা জানেন, এটা কী অদ্ভুত একটা কবিতা। কী পরাবাস্তব এক অনুভূতি হয় এই কবিতাটা পড়লে। জীবনানন্দের কবিতা সুদৃশ্য সাজানো লেকের জল নয়, উত্তাল সমুদ্র। কবিতা পড়তে পড়তে হঠাৎ করে কোনো এক লাইনে এসে আপনি চমকে উঠবেন। চমকে গিয়ে থমকে যাবেন। বইয়ের পাতা থেকে মাথা তুলে একবার ভাববেন 'এটা কী বলল!' এরপর ঐ লাইনটা আবার পড়বেন, ভাববেন, আলোড়িত হবেন।

বাংলায় আধুনিক কবিতার দিকপাল ত্রিশের দশকের পাঁচ মহৎ কবি- জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে- এঁদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশকে আমার শ্রেষ্ঠ মনে হয়। অবশ্য, এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত মত, হয়তো জীবনানন্দের প্রতি পক্ষপাতিত্বের ফল। বুদ্ধদেব বসুর কথাও বলা যায়, তবে তিনি সাহিত্যের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পারদর্শী ছিলেন। সেদিক থেকে জীবনানন্দ ছিলেন 'বিশুদ্ধ কবি'। বুদ্ধদেব বসুই তাঁকে 'শুদ্ধতম কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। জীবনানন্দ যদিও কিছু উপন্যাস লিখেছেন, লিখেছেন ছোট গল্প এবং কিছু প্রবন্ধ- তবে তাঁর কবিতার কাছে সেগুলো জৌলুশহীন।

অসাধারণ প্রতিভাবান এই মানুষটিকে সারাটা জীবন কাটাতে হয়েছে ভীষণ অভাব-অনটনের সাথে, অনেক কষ্টে। এই মানুষটি যদি রবীন্দ্রনাথের মতো পরিবেশ পেতেন, তাহলে হয়তো তিনিই হতেন বাংলার প্রধানতম কবি। জীবনানন্দের জীবন সম্পর্কে জানতে সহায়ক বই হিসেবে শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু' বইটি পড়তে অনুরোধ করব। মানুষ জীবনানন্দকে তাহলে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যাবে। 

ব্যক্তিগতভাবে আঞ্চলিকতা নিয়ে আমি কখনো মিথ্যে গর্ব প্রদর্শন করি না। কিন্তু বরিশালে 'জীবনানন্দ দাশ সড়ক' দিয়ে হেঁটে যাবার সময় এক ধরণের আনন্দ হয়। আহা! এই মাটিতে একদা জীবনানন্দ ছিলেন। তবে কষ্টও হয়। বরিশালে তাঁর স্মরণে যেরকম আয়োজন থাকার কথা ছিল, সেটা একদমই নেই। এই অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ-প্রতিভাটিকে এখানকার মানুষ ঠিকভাবে চেনে না। আমি বরিশালে গেলে অতি আগ্রহ নিয়ে বারবার জীবনানন্দের পৈত্রিক বাড়ি, বিএম কলেজে যেখানে জীবনানন্দ পড়াতেন এবং বরিশাল মহাশশ্মানে যেখানে 'আট বছর আগের একদিন' এর সেই লাশকাটা ঘরটা ছিল- সেখানে যাই। কেন যাই জানি না, তবে এক ধরণের রোমাঞ্চ হয়- এখানে জীবনানন্দ ছিলেন!

শত বছরের ইতিহাসে একজন মাত্র মানুষ কলকাতায় ট্রামের তলায় পড়ে মারা গিয়েছে, তিনি জীবনানন্দ। অনেকে মনে করে এটা আত্মহত্যা ছিল। সে সময়ে তাঁর যে দূরাবস্থা ছিল, তাতে সেটা অস্বাভাবিক নয়। আত্মহত্যা না হলেও তিনি অবশ্যই অন্যমনস্ক ছিলেন। সেই অন্যমনস্কতা কিন্তু কবি-সুলভ অন্যমনস্কতা নয়, একজন অভাবী সংগ্রামী মানুষের অন্যমনস্কতা।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই প্রতিভাটিকে সে সময়ের মানুষেরা, সেই সমাজ রক্ষা করতে পারেনি। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৪ অক্টোবর। এর কিছুদিন পর ২২ অক্টোবর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে উজ্জ্বলতম এই নক্ষত্রটি ঝড়ে পড়ে। 

"মানুষেরও আয়ু শেষ হয়! পৃথিবীর পুরানো সে পথ মুছে ফেলে রেখা তার- কিন্তু এই স্বপ্নের জগৎ চিরদিন রয়! সময়ের হাত এসে মুছে ফেলে আর সব,- নক্ষত্রেরও আয়ু শেষ হয়।" কিন্তু জীবনানন্দ দাশ নামের নক্ষত্রটির আয়ু অসীম। যতদিন বাংলার আকাশ থাকবে, ততদিন জীবনানন্দ থাকবে। বারবার ফিরে আসবে আরো 'সুন্দর করুণ' ভাবে।

পুড়োটা পড়ুন

১৯৭১ থেকে ২০২০: জীবন দিয়ে জীবন বাঁচানোর গল্প!

এপ্রিল ১১, ২০২১

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জালাল নামে আরেকজন পুলিশ সদস্য মারা গেলেন। এ নিয়ে করোনায় সাতজন পুলিশ সদস্যে জীবন দিলেন। ৭১ এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছিল পুলিশ সদস্যরা। করোনা সংকট মোকাবেলাতেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও প্রাণহানি পুলিশের।



আগেও বলেছি, এখনো বলি। এই করোনা সংকটকালে আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সালাম। এই সুযোগে বাকিদেরও শ্রদ্ধা জানাই।

বিশেষ করে সংকট মোকাবেলায় আন্তরিকতা নিয়ে যারা কাজ করছেন সেই ডাক্তার-নার্সসহ সব স্বাস্থ্য কর্মীদের শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা এই দেশের জনপ্রশাসনের প্রত্যেক কর্মীর জন্য। মাঠ প্রশাসনে‌ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেভাবে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন এক কথায় অসাধারণ। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মানুষের পাশে থাকছেন অব্যাহতভাবে।

এ দেশের অনেক সাধারণ মানুষও স্বেচ্ছাসেবীরা যেভাবে লড়াই করছেন সেগুলোও দারুন সব গল্প বিস্ময় নিয়ে দেখছি বিদ্যানন্দকে। দেখছি আরো অনেকের আরও অনেক ভালো কাজ। ধন্যবাদ দায়িত্বশীল সব সাংবাদিকদের।

তবে আমাদের সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সামনের দিনগুলোতে। এর মধ্যে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের সমন্বয়টা আরেকটু ভালো হতে হবে, সাধারণ মানুষেরা বা সব রোগীরা যেন একটু ভালো চিকিৎসা পায়। অনেক কিছুই খুলছে এখন। এই সময়টাতে সর্তকতা ও স্বাস্থ্য বিধি মানা খুব জরুরী। জরুরী জরুরী আমাদের আচরণগত পরিবর্তন।

সংকটময় এই সময়ে আফসোস সেইসব লোকেদের জন্য যাদের অনেক সম্পদ ও ক্ষমতা থাকার পরেও মানুষের পাশে আসছেন না। করুণা সেইসব জনপ্রতিনিধিদের জন্য, সেইসব ব্যবসায়ীদের জন্য, সেইসব সুশীলদের জন্য যারা এই সংকটকালে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না।

তবে চারপাশে অনেক আশার গল্পও রয়েছে। এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৈকত গত দুই মাস ধরে সাধারণ মানুষকে খাওয়ানোর অসাধারণ কাজটা করে যাচ্ছে ভালোবাসা তার জন্য। আমি জানি সারা দেশে এমন অনেক গল্প আছে।

এইসব গল্প গুলো জুড়ে দিয়েই আজকের বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সম্মিলিত লড়াইয়ে সুদিন আসবেই। কৃষ্ণচূড়া আর জারূলে ভোরের আলো ফুটবেই। আমি সেই অপেক্ষায় আছি। শুভ সকাল বাংলাদেশ।

পুড়োটা পড়ুন

একজন অতিরিক্ত সচিবকেই যদি এভাবে মরে যেতে হয়...

এপ্রিল ০৯, ২০২১

বাংলাদেশ সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব তিনি। কিডনির জটিলতায় অসুস্থ হয়ে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে ও চিকিৎসা পাননি। বাধ্য হয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে মারা যান।


ওই অতিরিক্ত সচিবের মেয়ে সুস্মিতা একজন চিকিৎসক। যে ৩৩৩ হটলাইন নম্বর থেকে সরকার স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সুম্মিতা। আফসোস করে তিনি বললেন, “বাবার আইসিইউ সাপোর্টটা খুব দরকার ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। বাবার চিকিৎসাই হল না, তিনি মারা গেলেন। আমি ডাক্তার হয়েও কিছু করতে পারলাম না।”

সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব যার মেয়েও চিকিৎসক তাদের যদি এই অবস্থা হয় সাধারণ মানুষের কি দুর্ভোগে বুঝতে খুব একটা কষ্ট হয় না। এই সমস্যার সমাধান কি? কিভাবে বন্ধ হবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ? 

আমার মনে হয় আমরা যদি এই মুহূর্তে সব সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি সব হাসপাতালগুলো খোলা রাখতে পারতাম! সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে এই ই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হবে। আর এই হাসপাতালে অন্যসব রোগীরা যাবেন। অন্যান্য রোগের রোগীরা যেখানে যাবেন সেই হাসপাতালেও তৎক্ষণাৎ করোনা টেস্টের ব্যবস্থা থাকতে পারলে ভালো। 

আমার নিজের ধারণা গত দুই মাসে করো না যত লোক করোনায় মারা গিয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বা করো না উপসর্গ নিয়ে তার চেয়ে বেশি লোক মারা গেছে। করোনা এসেছে মানে এই নয় যে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হবে না‌। কিডনি রোগী থাকবে না। মানুষের দুর্ঘটনা ঘটবে না। গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতাল লাগবে না‌। বরং অন্য সব রোগ আরও বেশি হচ্ছে।

আমি মনে করি, আমাদের সরকারি-বেসরকারি যত হাসপাতাল রয়েছে একটা সুষ্ঠু সমন্বয় করতে পারলে সব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। আশা করছি আমাদের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন যাতে একজন মানুষকেও এভাবে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে মারা যেতে না হয়। স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে নিতে না হয় কোন পরিবারকে। ভাল থাকুন সবাই। ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ।

পুড়োটা পড়ুন

Primo RX8 : ৩২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট, রিয়ারে কোয়াড ক্যামেরা, ৪ জিবি র‍্যাম, ১২৮ জিবি স্টোরেজ

এপ্রিল ০৮, ২০২১

নিত্যনতুন স্মার্টফোন আনার জন্য আমাদের দেশীয় মার্কেটে অনেক জনপ্রিয় একটি নাম ওয়ালটন। ওয়ালটন বলতে গেলে প্রতিমাসেই দেশের বাজেট গ্রাহকদের জন্য নানান ফিচার এবং মডেলের স্মার্টফোন নিয়ে আসে। সম্প্রতি ওয়ালটন তাদের আরএক্স সিরিজের অধীনে নতুন একটি স্মার্টফোন নিয়ে এসেছে, আর সেটি হচ্ছে প্রিমো আরএক্স৮। ওয়ালটনের আরএক্স সিরিজ বরাবরই অনেক ফিচারফুল স্মার্টফোনের জন্য বাজারে জনপ্রিয়। শেষবার আরএক্স সিরিজের বাজার কাঁপানো স্মার্টফোন ছিল প্রিমো আরএক্স৭ মিনি। আরএক্স৭ মিনির পরে প্রায় বছরখানেক বিরতি দিয়ে আরএক্স সিরিজে এই নতুন স্মার্টফোন প্রিমো আরএক্স ৮ লঞ্চ হল। এই আর্টিকেলে আমরা আরএক্স৮ স্মার্টফোনটি নিয়ে আলোচনা করব।

একনজরে প্রিমো আরএক্স৮ স্মার্টফোন

  • এন্ড্রয়েড ভার্সন ১০
  • ১২ ন্যানোমিটার ফিনটেক প্রযুক্তির ২ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর (হেলিও পি২২)
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ১২৮ জিবি রম/ ইন্টার্নাল স্টোরেজ
  • ২৫৬ জিবি পর্যন্ত এক্সট্রা মেমরি কার্ড সাপোর্ট
  • পাঞ্চ-হোল ক্যামেরা বিশিষ্ট ৬.৫৫ ইঞ্চি LTPS ডিসপ্লে প্যানেল
  • ১৬+২+৮+৫ মেগাপিক্সেল সেন্সর নিয়ে কোয়াড ক্যামেরা সেটাপ
  • ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ৪০০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি
  • ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট

ডিসপ্লে এবং গর্জিয়াস ডিজাইন

আরএক্স সিরিজের স্মার্টফোন মানেই প্রিমিয়ামনেস! আরএক্স৮ এর আগেও আরএক্স৭ মিনি স্মার্টফোনটির ডিজাইন ছিল যথেষ্ট প্রিমিয়াম। আরএক্স৭ মিনির মত নতুন এই আরএক্স৮ ডিভাইসটিও সম্পূর্ণ গ্লাস বডিতে তৈরি, যাকে ওয়ালটন বলছে গ্লাসব্যাক স্যান্ডউইচড ডিজাইন। আরএক্স৮ এর রিয়ার প্যানেলের কোয়াড ক্যামেরার সাথে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর মিলে মেইন রিয়ার বাম্প, স্মার্টফোনটিকে দিয়েছে একটি গর্জিয়াস লুক! রিয়ার প্যানেলে এর ক্যামেরা বাম্পের নিচেই দেখা মিলবে রাউন্ডেড কর্নার বক্স বর্ডারের ভেতর ওয়ালটনের ব্র্যান্ডিং, যা ওয়ালটনের আগের সকল স্মার্টফোনের ব্র্যান্ডিং থেকে আরএক্স৮ কে ইউনিক করেছে। গ্লাসবডির হলেও স্মার্টফোনটি স্ক্র্যাচ রেজিস্ট্যান্ট। ফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে বাম পাশে উপরে দেখা মিলবে একটি পাঞ্চ-হোল সেলফি ক্যামেরা। আরএক্স৮ স্মার্টফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে দুইটি কালারে; একটি হচ্ছে অল্ভিও গ্রীন এবং আরেকটি হচ্ছে অক্সফোর্ড ব্ল্যাক। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে লো-টেম্পারেচার পলি-সিলিকন তথা এলটিপিএস ডিসপ্লে প্যানেল। সাধারন আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে এর চাইতে এই এলটিপিএস ডিসপ্লের একক ক্রিস্টাল ইলেকট্রন গুলোর মুভমেন্ট অনেক বেশি ফাস্ট! যার দরুন এলটিপিএস ডিসপ্লেতে রেজুলেসন এবং ভিউইং এঙ্গেল দুটোই পাওয়া যায় বেশি। আর ডিসপ্লে সিলিকন ক্রিস্টালগুলোর মুভমেন্ট তুলনামুলক ফাস্ট হবার কারনে এসব ডিসপ্লেতে রিফ্রেশ রেট’ও পাওয়া যায় অনেক বেশি। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৫৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, যার এস্পেক্ট রেসিও ২০ঃ৯। স্মার্টফোনটির ডিসপ্লের রেজুলেশন ১৬০০*৭২০ পিক্সেল। এলটিপিএস ডিসপ্লে হবার কারনে এটি অন্যান্য সাধারন আইপিএস ডিসপ্লেএর চাইতে ২০ শতাংশ বেশি ব্যাটারি সাশ্রয়ী!

অনবদ্য ক্যামেরায় বাজিমাত!

স্মার্টফোনটির অন্যতম চমক হচ্ছে এর ক্যামেরা সেকশনে। আরএক্স৮ এর রিয়ার প্যানেলে দেখা মিলবে কোয়াড তথা ৪ টি ক্যামেরা বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী সেটাপ। স্মার্টফোনটির মেইন শুটার হচ্ছে একটি ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর, ওয়াইড এঙ্গেলের থাকছে ৮ মেগাপিক্সেল সেন্সর; ফোনটি দিয়ে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি সম্ভব করার জন্য এই সেটাপে থাকছে একটি ৫ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো সেন্সর আর পরিশেষে ডেপ্থ সেন্সিং এর জন্য ২ মেগাপিক্সেল সেন্সর তো থাকছেই! সব মিলিয়ে ক্যামেরা নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করার জন্য ওয়ালটন আরএক্স৮ প্রস্তুত করেছে। ফোনটির মেইন ১৬ মেগাপিক্সেল সেন্সরের এপার্চার হচ্ছে এফ২.০। ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর থাকার ফলে, খুব অনায়াসে স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে দারুন সব প্যানারমিক শট নিতে পারবেন, আর যাদের ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি পছন্দের তাদের জন্যেও প্লাস পয়েন্ট হিসেবে ৫ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো সেন্সর থাকছে। ওয়ালটন দ্বিতীয় চমক এনেছে স্মার্ট ফোনটির ফ্রন্ট ক্যামেরায়; আরএক্স৮ স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে দেখা মিলবে একটি ৩২ মেগাপিক্সেল সেন্সর। ফ্রন্টে ছোট্ট কিউট একটি পাঞ্চ হোলের ভেতর এই ৩২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সরের অবস্থান। সর্বোপরি, ভ্লগার কিংবা সেলফি লাভারদের জন্য এই ফ্রন্ট ক্যামেরা দারুন কাজে দিবে। আর ৩২ মেগাপিক্সেল সেন্সর থাকার ফলে স্মার্টফোনটির ফেস আইডি সিকিউরিটি সুবিধাটি বেশ ভালই কাজে দিবে।

সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং স্টোরেজ

আরএক্স৮ স্মার্টফোনটি বাজারে পাওয়া যাবে এন্ড্রয়েড ১০ কিউ সংস্করণ এর সাথে। আর এই স্মার্টফোনে এন্ড্রয়েড কিউ এর সকল স্টক সুবিধাই উপভগ করতে পারবেন। যারা স্টক এন্ড্রয়েড লাভার তাদের জন্য এই স্মার্টফোনটির ইউআই প্লাস পয়েন্ট। ওয়ালটন এর আগের প্রিমো আরএক্স ৭ মিনিতে বেশ কয়েকটি ওটিএ আপডেট প্রদান করেছে, এই ফোনটিতেও প্রয়োজনের সাথে সাথে ওয়ালটন সফটওয়্যার আপডেট প্রদান করবে। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক এর ১২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকৃত হেলিও পি২২ চিপসেট। হেলিও পি২২ চিপসেটকে তুলনা করা হয় কুয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৬৩২ চিপসেটের সাথে। আরএক্স৮ এ ব্যবহার করা হেলিও পি২২ একটি ২ গিগাহার্জ বাজস্পিডের অক্টাকোর প্রসেসর! আর স্মার্টফোনটিতে সিপিইউ এর গ্রাফিক্স অংশ হিসেবে থাকছে ‘আইএমজি পাওয়ারভিআর জিই৮৩২০’ জিপিইউ। স্মার্টফোনটিকে সিস্টেম ব্যকআপ দিবে এতে থাকা ৪ জিবি র‍্যাম। তবে ব্যবহারকারিদের আরএক্স৮ এর স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা; কেননা আরএক্স৮ ডিভাইসটিতে বিল্টইন হিসেবে পাওয়া যাবে ১২৮ জিবি স্টোরেজ। আর তার থেকেও বেশি যদি লাগে তবে এক্সট্রা মেমরিকার্ড লাগিয়ে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ এক্সটেন্ড করা যাবে। সম্পূর্ণ ডিভাইসকে পাওয়ারআপ করবে একটি ৪০০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি।

পরিশেষ

এই ছিল প্রিমো আরএক্স৮ স্মার্টফোন নিয়ে আজকের আলোচনা! আর স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার ব্যবহার করা হয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট; পাশাপাশি ফোনটি ১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করবে। মূলত এটি ওয়ালটনের ফিচাররিচ সিরিজ আরএক্স এর একদম নতুন সংযোজন। ওয়ালটন ১৫৫৯৯ টাকায় এই স্মার্টফোনটিতে অনেক বেশি ফোকাস করেছে ক্যামেরা, ডিসপ্লে এবং দারুন ডিজাইনে! আপনি যদি এই বাজেটে একটি প্রিমিয়াম লুকিং, স্টোরেজ এবং ভালো ক্যামেরা কোয়ালিটিকে ফোকাস করে থাকেন তবে প্রিমো আরএক্স৮ এর দিকে যেতে পারেন। স্মার্টফোনটিকে বাস্তবে অভিজ্ঞতায় নিতে চলে যেতে পারেন, আপনার পাশের যেকোনো ওয়ালটন স্মার্টজোনে।

পুড়োটা পড়ুন

বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলা: যেভাবে ঘরে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে আক্রান্তদের!

এপ্রিল ০৮, ২০২১

এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪,৬৫৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২২৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ২,৬৫০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ ভাগই ঘরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন আইইডিসিআরের পরিচালক। যে ৩২% রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের অনেকেই ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারেন এবং তাদের হাসপাতালে আসার খুব একটা প্রয়োজনও নেই। এমনটাও বলা হয়েছিলো।



যেসব ব্যক্তিকে আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মনে হয়, কিন্তু সে সুস্থ হতে আবার নাও পারে, তার মধ্যে হয়তো জীবাণু আছে কিন্তু তার মধ্যে কোন ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়নি- এমন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। অর্থাৎ যারা এখনো অসুস্থ না এবং যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

আইসোলেশন হচ্ছে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকবে তখন তাকে আলাদা করে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে তাকে বলা হয় আইসোলেশন। সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আর কোয়ারেন্টিন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য।

যে রোগের জন্য কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে রাখা হয় সেই রোগের জীবাণুর সুপ্তকাল কত দিন সেটার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, ওই রোগের জন্য মানুষকে কতদিন কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে রাখা হবে। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে, এই ভাইরাসটির সুপ্তকাল হচ্ছে ১৪ দিন। অর্থাৎ ১৪ দিন পর্যন্ত কাউকে কোয়ারেন্টিন করে রাখলে যদি তার ভেতরে জীবাণু থাকে তাহলে এই সময়কালের মধ্যে তার উপসর্গ দেখা দেবে।

কিন্তু আইসোলেশনে কতদিন রাখা হবে তার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যত দিন পর্যন্ত তার চিকিৎসা দেয়া হবে ততদিন তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। অর্থাৎ পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। একই সাথে ভাইরাসটি যদি বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন হাঁচি, কাশি, থুতু বা মল-মূত্র ত্যাগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে তাহলেও তাকে ওই সময় পর্যন্ত আলাদা করে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

কিন্তু যেসব রোগ নিজে নিজে সেরে যায়, সেসব রোগের ক্ষেত্রে অনেক সময় রোগীকে বাড়িতে আলাদা থাকতে বলা হয়। শুধু জরুরী স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়। এটাও এক ধরণের আইসোলেশন। কোয়ারেন্টিন অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। রোগটির গুরুত্ব, আক্রান্তের ধাপ, পরিস্থিতি, অবস্থান, সক্ষমতা অনুযায়ী কোয়ারেন্টিন কোথায় করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যেমন, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে, কেউ যদি চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে আসে তাহলে তাকে আলাদা করে সরিয়ে নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিন করা হয়। যাকে বলা হয় নিয়ন্ত্রিত কোয়ারেন্টিন। যেমনটা আশকোনার হজ ক্যাম্পে করা হয়েছিল। স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিন সেসব জায়গাতে করা হয় যেখানে সংক্রমণ তেমন নেই। সেখানে বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট সময় ঘরে থাকতে বলা হয় এবং এই সময়ের মধ্যে কোন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ ভাগই নিজে নিজে ভাল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রোগী যখন অনেক বেশি হয়ে যায় বা ভাইরাসটি যখন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে তখন রোগীদের বাড়িতে আলাদাভাবে থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়। আর জরুরী উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের হাসপাতালে রাখা হয়।

হাসপাতালে নেয়ার পর অবশ্যই তাকে "বেরিয়ার নার্সিং" বা যারা তার দেখাশোনা করবে যা চিকিৎসা সেবা দেবে তারা সব ধরণের সতর্কতা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েই সেটি করতে হবে। কারণ তার মধ্যে যখন উপসর্গ দেখা দেয়, তখন তার থেকে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ায়। তবে বাড়িতে আইসোলেশন তখনই করা হয়, যখন রোগটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে।

অনেকেই রয়েছেন যাদের অল্প উপসর্গ রয়েছে ও বাসায় চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ কোভিড-১৯ রোগীকে এখন ঘরে রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলেও যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ঘরে যারা চিকিৎসা নেন, তাদের ক্ষেত্রে মূলত কয়েকটি বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়। কাশি অনেক বেড়ে যাচ্ছে কিনা, শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে কিনা, জ্বরের তীব্রতা বেড়ে অজ্ঞান ভাব হচ্ছে কিনা এবং শারীরিক অস্বস্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে কিনা - এ বিষয়গুলো নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

কিন্তু ঘরে বসে যারা করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের আসলে কীভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে? করোনাভাইরাসের যেহেতু কোনো প্রতিষেধক বা মেডিসিন নেই, সেহেতু প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কিছু ব্যাপারে নজর দেয়া হচ্ছে। আইসোলেশনের শুরু থেকে আলাদা একটি রুমে থাকা, যেই রুমের সাথে আলাদা বাথরুম এর ব্যবস্থা থাকা। খাবার রুমের বাইরে রেখে যাওয়া এবং ঐ ঘর থেকে কমপক্ষে ১৪ দিন না বের হওয়া।

চিকিৎসকদের সাথে তিনি নিয়মিত ভিত্তিতে যোগাযোগ রাখা। নির্দিষ্ট কয়েকটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকরা খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত উপদেশ দিয়ে থাকেন। পানীয় জাত খাবার নিয়মিত খাওয়া, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি - যেমন লেবু, কমলালেবু - খাওয়া ও বেশিমাত্রায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। পানি, স্যালাইনের মত খাবার বারবার খাওয়ার পেছনে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত গরম খাবার বা গরম পানীয়, পাশাপাশি নাকেমুখে পানির বাষ্প নেয়ার কথাও বলা হয়।

পরিবার বা বাড়িতে ঘরে কোয়ারেন্টিন করার পরিস্থিতি না থাকা, হল বা মেসে থাকায় সেবাযত্ন করার মানুষ না থাকায় এবং অনেকসময় পাড়া প্রতিবেশী বা বাড়িওয়ালার আপত্তিতেও মানুষের ঘরে বসে চিকিৎসার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমাদের মধ্যে যেহেতু করোনা সম্পর্কিত সচেতনতার অভাব, সেহেতু ঘরে থেকে চিকিৎসা কতটুকু কার্যকর সেই প্রশ্ন রয়েই যায়। 

পুড়োটা পড়ুন