স্মার্টফোন এবং আজকের শিশু

মার্চ ০২, ২০২১

আমার ২ বছর বয়সের মামতো ভাই খুব কান্নাকাটি করছিল, সে ভাত খাবে না। এমন সময় তার হাতে একটি এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনে একটি গেমস ওপেন করে দেয়া হল, অতঃপর সে দিব্যি খুশি হয়ে গেম খেলার সাথে সাথে তার খাওয়াটাও সেরে নিলো। এখন স্মার্টফোনে গেম খেলা আর খাওয়া তার একটি অভ্যাস। ভাবার বিষয় হচ্ছে যে আজকের সময়ে এরকম ঘটনা গুটিকয়েক নয়, সব জায়গাতেই চোখে পরবে।




লক্ষ্য করার মত বিষয় হল,আজকের দিনে সকল মানুষের কারনে-অকারণে স্মার্টফোন স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে ওই আবছা আলোয় বুদ হয়ে থাকা যেন মহামারীতে রূপ নিয়েছে। আমরা একা নয়, বর্তমানে প্রায় ১.৮ বিলিয়নের বেশি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। আর অনেক গবেষণা ফলাফল থেকে পাওয়া গিয়েছে একজন স্বাভাবিক মানুষ দিনে প্রায় ১৫০ বার তার স্মার্টফোন স্ক্রিনের দিকে কোননাকোনো কারনে তাকায়।

আরও পড়ুনঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নাকি সমাজ থেকে বের হওয়ার পথ! 

আর বিশ্বব্যাপী এই প্রযুক্তি ডিভাইসটির বিস্তৃত ব্যবহারের প্রভাব এখন পরিবারের সবচেয়ে ছোটো সদস্যদের ওপরও পড়ছে, আর তারা হচ্ছে শিশু। ব্রিটেইন এর একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, প্রায় ৬০% শিশু যাদের বয়স ১১-১২ বছরের ভেতর তারা নানা কারনে প্রত্যক্ষভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার করে। আর ৯০% স্মার্টফোন ব্যবহার করে যাদের বয়স ১৪ বা তার উপরে। আন্তর্জাতিক পত্রিকা  ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এর কিছুদিন আগের একটি সংবাদে দেখা যায় যে, আমেরিকার ৫৯% শিশু যাদের বয়স ১১ বছর তাদের নিজস্ব স্মার্টফোন রয়েছে। আর ৬৯% শিশুর নিজস্ব স্মার্টফোন আছে, যাদের বয়স ১২। 

এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আজকের শিশুদের ইচ্ছের তালিকায় ক্রিকেট, ফুটবল, পুতুল এবং খেলার মাঠের স্থান দখল করেছে এই স্মার্টফোন। ২-৫ বছরের শিশুরা বাবা-মার স্মার্টফোনে গেমস খেলা,ভিডিও দেখার জন্য যে জেদ করে তা খুবই ভাবিয়ে তোলে; আর একারনে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরই আমাদের দেশে শিশুদের স্মার্টফোন প্রাপ্তির চাহিদা শুরু হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে নিম্ন মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুকিশোরদের হাতেও নিজস্ব স্মার্টফোন দেখতে পাওয়া যায়।

শিশুকিশোররা ছোটবেলা থেকেই এই স্মার্টফোনের নেশায় পরে। এক পর্যায়ে তাদের নিজেদের স্মার্টফোন কেনার আকাংখ্যা জাগ্রত হয়। আমাদের দেশে দেখা যায় কি, তারা বাবা মার কাছে প্রাইভেট এর টাকা,বই এবং নানারকম ফি এর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। অতঃপর এসব টাকা নিয়ে তারা পুরাতন, এমনকি অনেকসময় অবৈধ চোরাই স্মার্টফোন কিনে থাকে। এসব স্মার্টফোন তারা তাদের ব্যাগে অথবা কোনো বন্ধুর বাসায় সংরক্ষন করে। এভাবে অনেক শিশুদের স্মার্টফোনের প্রতি নেশা এবং এটিকে প্রাপ্তির লোভ তাদের ভেতর ছোটোবেলাতেই একটি নেতিবাচক গুণাবলী সঞ্চার করছে।

একটি শিশুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক বয়সে মানসিক বিকাশের জন্য মুখোমুখি/সামনাসামনি যোগাযোগ বা কথোপকথন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যাকে বলা হয় ফেস-টু-ফেস ইন্টারঅ্যাকশন। বর্তমানে সময়ে যখন একজন শিশুর তার বাবা মার সাথে যোগাযোগের দূরত্ব সৃষ্টি হয়, এই দূরত্বের ভেতর তখন শিশুর সময় কাটানোর জন্য ঢুকে পরে স্মার্টফোন। আর এখান থেকে  সারাজীবনের জন্য তৈরি হয় স্মার্টফোন আসক্তি। শহরে যেসব বাবা-মা সন্তানকে বাসায় রেখে চাকরিতে সারাদিন ব্যস্ত থাকেন, তাদের শিশুদের ভেতর এই ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করা যায়। 

একজন শিশু তার জন্মের পর ২-৫ বছর বয়সে বড়দের (বিশেষ করে বাবা-মা) দেখে কথা বলা শেখে,  তারা তাদের নিজের আবেগ সম্পর্কে শেখে, তারা আরও শেখে কিভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রন করতে হয়। আর যদি শিশু বয়সেই এই চিরাচলিত প্রক্রিয়া থেকে তারা ব্যাহত হয়, তবে তারা তাদের মানসিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক থেকে তারা বঞ্চিত হয়ে গেল। যার প্রতিক্রিয়া বড় হলেও তাদের আচরনে পরিলক্ষিত হবে। আর শিশুর উঠতি বয়সে এই চিরাচলিত বিকাশ ধারায় বাধা সৃষ্টি করার জন্য অন্যতম দায়ি এই আজকের স্মার্টফোন।

স্মার্টফোন অনেক নতুন প্রযুক্তি। বিশ্বব্যাপী এই স্মার্টফোনের প্রসার বড়জোর ১২-১৩ বছর হল। আর আমাদের দেশে এর প্রসার ৭-৮ বছর হল। যেহেতু নতুন প্রযুক্তি তাই আগে স্মার্টফোনের প্রভাবে কোন কোন শিশুর ক্ষতি হয়েছে তা খুঁজতে গেলে হয়ত ভুল হবে। হতে পারে, এই স্মার্টফোনের ক্ষতিটা পরিলক্ষিত হতে শুরু করল আমাদের প্রজন্মের শিশুদের ভবিষ্যত সময়ে! সুতরাং, আমাদের বাবা-মা দের অবশ্যই শিশুদের নাগালের ভেতর স্মার্টফোন রাখা না রাখা নিয়ে ভাবা উচিত। যেন এবয়সেই তারা স্মার্টফোন আসক্তিতে না পরে। আর আমাদের উচিত আমাদের ছোটো ভাই বোনের হাতে স্মার্টফোনে গেম তুলে না দিয়ে, তাদের সাথে নানা রকম খেলায় মেতে ওঠা। লুকোচুরি, গোল্লাছুট, বউচি, ফুটবল, ক্রিকেট আর এই শীতে ব্যাডমিন্টন সহ আরো কতোকি…!

পুড়োটা পড়ুন

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যাঃ যেখানে পড়াশোনার সবকিছু কেবল মানুষকে নিয়ে

মার্চ ০২, ২০২১

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যাঃ যেখানে পড়াশোনার সবকিছু কেবল মানুষকে নিয়ে

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ব এমন একটি বিষয় যেখানে মূলত পড়াশোনা করা হয় মানুষের ব্যাপারে। আমরা সাইন্সের কিছু বিষয় পড়ি, বোটানি বা জুলজি। বোটানি বা উদ্ভিদবিজ্ঞানে আমরা উদ্ভিদ সম্পর্কে পড়াশোনা করি, আবার একইভাবে প্রানিবিজ্ঞানে বা জুলজিতে পড়ি জীবজগত সম্পর্কে। এনথ্রোপলজি ঠিক এমন একটি সাইন্স যেখানে কেবল পড়াশোনা করা হয় মানুষ নিয়ে। এই এনথ্রোপলজি সামগ্রিক ভাবে মানুষ এবং মানুষের আচরন নিয়ে কথা বলে। এনথ্রোপলজি একটি বিষয় যেখানে মানুষ নিয়ে খুবই গভীর এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা এবং গবেষণা করা হয়। আমরা যদি এনথ্রোপলজি শব্দটিকে বিশ্লেষণ করি, তাহলেই এই বিষয়টি সম্পর্কে খুব সহজেই মিল ধারনা পেতে পারব। এনথ্রোপলজি নামটি এসেছে গ্রিক শব্দ এনথ্রোপো (anthropo) থেকে যার মানে হচ্ছে মানুষ। আর লজি (logy) মানে আমরা জানি পড়াশোনা। একজন মানুষের উৎপত্তি, তার আচরন, তার মানুষিক আচরন, তার সামাজিক আচরন সবকিছু এই এনথ্রোপলজির আলোচ্য অংশ।

 Human To Study

 এনথ্রোপলজি’কে বলা হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট, কেননা নানা দিক থেকে এনথ্রোপলজি সাইন্সের তথা বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়াদির সাথে যুক্ত। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, মানুষ এর সাথে জড়িত বিজ্ঞানের আরও কিছু বিষয় যেমন, এনাটমি, ইকোলজি, জেনেটিক্স এসবের সাথে এনথ্রোপলজি খুব ভালভাবে জড়িত। এনাটমি মানুষের দেহের ভেতরকার অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে তুলনা করে, জেনেটিক্স তুলনা করে মানুষের আগের প্রজন্ম এবং বর্তমান প্রজন্ম আবার ইকলজি তুলনা করে বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানুষের সার্বিক অবস্থান, আর এমন সকল বিষয়কেই এনথ্রোপলজি তুলে ধরে। এনথ্রোপলজি এমন একটি সাইন্স যা মানুষের সবদিকেই সমানভাবে ফোকাস করে, বাকি সাইন্স যেমন এনাটমি, ইকোলজি, জেনেটিক্স, সাইকলজি এর মত কেবল একটি দিক নিয়ে থাকে না।

 যে বিষয়গুলো নিয়ে এনথ্রোপলজি এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ব

  •  এনাটমি:  এনাটমি মানুষের দেহের ভেতরকার অঙ্গপ্রতঙ্গের ভেতর অবস্থান এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে।
  • ইকোলজি: ইকোলজি বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং তার অবস্থান নিয়ে কথা বলে। 
  • জেনেটিক্স : জেনেটিক্স মানুষের বংশপরম্পরার ভেতর আচরণগত মিল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করে।  
  • সাইকলজি: সাইকলজি একজন মানুষের মানুষিক অবস্থা কেমন এবং তার মস্তিষ্কের পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা দেয়। 
  •  প্যাথলজি : প্যাথলজি মানুষের শরীরের সাথে তার রোগের সম্পর্ক এবং রোগের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করে।
  •  ইকোনমিক্স: ইকোনমিক্স আলোচনা করে মানুষের অর্থবিত্ত এবং সম্পদের ব্যাপারে। 
  • সোসিয়ালজি : সোসিয়ালজি আলোচনা করে সমাজে সেই মানুষটির অবস্থা কেমন, এবং সে সমাজের সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত, এ বিষয়ে। 


 আসলে আমরা মানুষ দেখতে কেনো এরকম, তা যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তার নাম এনথ্রোপলজি। কয়েকটি কারণে এনথ্রোপলজিকে একটি জটিল বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রথমত, সময় এবং কাল হিসেবে আলাদা আলাদা জনপদে বিভিন্ন মানবসভ্যতার ভেতর কি কি পরিবর্তন এসেছিল, এনথ্রোপলজি তা নিয়ে গবেষণা করে। সময় এবং কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন মানবসভ্যতার কেনো পরিবর্তন এসেছিল, তা থেকে তারা কিভাবে উত্তরিত হয়েছে সার্বিক বিষয় নিয়ে নৃতত্ত্ববিদ্যা তথা এনথ্রোপলজিতে পড়াশোনা এবং গবেষণা করতে হয়।

 দ্বিতীয়ত, একে বলা হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট। বা কম্বাইন্ড হিউম্যান সাইন্সেস বলতে পারি। এখানে উপরে উল্লেখিত সকল বিষয়াদি থেকে নানা সময় সঠিক রেফারেন্স টানতে হয়। আর সেকারনে এটি সাইন্সের অন্যান্য বিষয়ের মত একমুখী নয়, বহুমুখি এই কারনেও এটি একটি কমপ্লেক্স তথা জটিল বিষয়। বলা হয় বানর থেকে মানুষের উৎপত্তি। কিন্তু বানর তো চারপায়ে চলতো, সেখান থেকে আধুনিক মানুষ কিভাবে উৎপত্তি পেলো, তা আলোচনা করা হয় এনথ্রোপলজিতে। তৃতীয়ত, এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যা এমন একটি বিষয়, যা আলোচনা করে মানবজাতির উৎপত্তি সম্পর্কে। মানুষের উৎপত্তি কোথায় হল এবং কিভাবে মানব জাতি বিবর্তিত হয়ে আজকের আধুনিক মানুষে পরিনত হয়েছে তা আলোচনা করা হয় এনথ্রোপলজিতে। সময়ের পরিক্রমায় আসলে কি পরিবর্তন এসেছিল যা কালে কালে মানুষকে পরিবর্তন করেছে সবদিক দিয়ে তা গবেষণা করা হয়। 

এনথ্রোপলজিতে আগের সময়কার তত্ত্ব গবেসনার জন্য দরকার হয় প্রমান, কেননা এখানে তো আর আগের সময়ে ফিরে যাওয়া যাচ্ছে না। এনথ্রোপলজিতে এই এভিডেন্স বা প্রমান হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফসিল। অর্থাৎ এমন কিছু মানব অঙ্গ, আমরা উদাহরন হিসেবে হাড়, মাথার খুলি। যা বহু বছর আগে থেকে মাটির নিচে ছিল। এই সব ফসিল থেকে সেই মানুষের বেচে থাকার সময় এবং তাদের দৈহিক অবস্থা সম্পর্কে জানান পাওয়া যায়। এসব ফসিল মাটির কোন লেয়ার থেকে পাওয়া যায়, তার অপর ধারনা পাওয়া যায় এসি ফসিলটি আসলে কোন সময়কালের, আর সেই সময়কালের সাথে আমাদের সম্পর্কটা কোথায়।

পুড়োটা পড়ুন

সম্পর্ক বিচ্ছেদ হলে কি পরস্পর শ্রদ্ধাবোধও হারিয়ে ফেলতে হবে?

মার্চ ০১, ২০২১

আজকালকার প্রেমিক-প্রেমিকাদের একটা কাজ করতে প্রায়ই দেখি। নিজেদের মধ্যে যেকোনো কারণে মনোমালিন্য কিংবা সাময়িক ব্রেকআপ হলেই, পরিচিত মহলে পরস্পরের নামে যাচ্ছেনাতাই কথা ছড়াতে শুরু করে দেয় তারা।


হয়তো বলে, "জানিস, ও কত বড় চিটার! আমাকে রেখে অমুকের সাথে তমুকের সাথে ফ্লার্ট করে বেড়ায়।" কিংবা হয়তো শুধু মুখের কথাতেই থেমে না গিয়ে, নিজেদের একান্ত গোপন চ্যাট কনভার্সেশনের স্ক্রিনশটও জনে জনে বিলি করতে থাকে। প্রমাণ করে দেয়, তাদের প্রেমিক/প্রেমিকা আসলেই কত খারাপ।

তবে মজার ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন প্রেমিক-প্রেমিকারা কদিনের মধ্যেই আবার এক হয়ে যায়। পুরনো সব বিভেদ ভুলে গিয়ে, তারা আবার চুটিয়ে প্রেম করতে শুরু করে দেয়। সবখানে ফের তাদেরকে একসাথে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অন্যকে ট্যাগ করে বিভিন্ন রোমান্টিক ছবি কিংবা স্ট্যাটাসও তারা পোস্ট করতে থাকে।

এই জায়গাটায় এসেই আমার বড় একটা খটকা লাগে। এরাই না মাত্র কিছুদিন আগে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্রকাশ্যে একে অন্যের চরিত্রকে উলঙ্গ করে দেয়ার নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল? এরাই না হেন বাজে কথা নেই যা একে অন্যের নামে বলেনি? তাহলে আজ এরাই কীভাবে আবার প্যাচআপ করে ফেলল, এমন ভাব দেখাতে শুরু করে দিল যে কোনোকালে এদের মাঝে কিছু হয়ইনি!

না, একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে সকল মান-অভিমান পিছনে ফেলে নতুন করে সম্পর্ক শুরু করতে দেখে আমার হিংসা হয় না। বরং ভালোই লাগে। কিন্তু যে জিনিসটা খারাপ লাগে, কিংবা বলা যায় যে জিনিসটা দেখে প্রচণ্ড ঘেন্না হয়, বিবমিষার ভাব হয়, সেটা হলো তাদের সম্পর্কের হিপোক্রেসি। তাদের সম্পর্কের ভিত কি এতটাই ঠুনকো যে, কিছু একটা হলেই তারা আশেপাশের সবার কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব-বিবাদের কথা অতিরঞ্জিত করে বলে বেড়াতে পারে! আবার তাদের এই অতিরঞ্জনও কি এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে, দুদিন পরেই পুনরায় তারা সেই দুই দেহে এক প্রাণ হয়ে যেতে পারে!

এ ধরনের সম্পর্ক দেখলে বাস্তবিকই আমার গা গুলোয়। এ ধরনের সম্পর্কের সততা নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগে। কেননা সত্যিই কি একটা সম্পর্কে কোনো গভীরতা থাকে, যদি সাময়িক মান-অভিমানের ফলেই ভালোবাসার আবেগ ভুলে গিয়ে সবার কাছে একে অপরের বিরুদ্ধে অকথা-কুকথা ছড়ানোর ইচ্ছা জাগে? তাহলে কি এই প্রেমিক-প্রেমিকাদের মাঝে আদৌ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বলতে কিছু আছে? কিংবা এই প্রেমিক-প্রেমিকারা কি আদৌ নিজেদের সম্পর্ককে খুব একটা মূল্য দেয়, যখন তারা নিজেদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতার কথাও জনে জনে উন্মুক্ত করে দিতে দ্বিধাবোধ করে না?

একটা রোমান্টিক সম্পর্ক প্রকাশ্যে হোক, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। প্রেমিক-প্রেমিকা রোজ রোজ ডেটে যাক কী ক্যাম্পাসে সবার সামনে হাত ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াক অথবা ফেসবুকে "আই লাভ ইউ বেবি" ক্যাপশন দিয়ে ছবি আপলোড করুক... এমন যা খুশি তারা করুক। এগুলো তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা। তারা তো প্রেমই করছে, কোনো অপরাধ নয় যে এসব কাজ লুকিয়ে লুকিয়ে করতে হবে। আমার আপত্তি হলো, তাদের যখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ইচ্ছা আছেই, তাহলে একটু কিছু হলেই কেন তারা তাদের ব্যক্তিগত সব হিসাব-নিকাশ সবার সামনে ফাঁস করে দেবে! একটা ওপেন রিলেশনশিপে থাকা মানেই কি তাতে কোনো প্রাইভেসিই থাকবে না? সম্পর্কের উত্থান-পতনের সবটাই সবাইকে দেখিয়ে বেড়াতে হবে?

পুড়োটা পড়ুন

ব্রেইন ক্যান্সার এবং সেলফোন!

মার্চ ০১, ২০২১


এই মুহুর্তে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বস্তু হচ্ছে মোবাইল ফোন। যেখানেই আপনি যান, সাথে আর কিছু না থাকুক, ফোনটা সাথেই থাকেই। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়েও ফোনটা বালিশের পাশেই থাকে। কিন্তু এই প্রিয় বস্তুটির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার যে আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে তা কি জানেন? ক্ষতিটা কেমন তা শুনলে চমকে উঠতে পারেন আপনি। মুঠোফোনের ব্যবহারে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে মানুষের। এইরকম তথ্যই উঠে এসেছে একটি আমেরিকান গবেষণায়।

১৯৯৩ সালের সময়টার কথা বলছি। তখন আমেরিকায় প্রতি একশজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মধ্যে মাত্র ছয়জন মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। যদিও তার এক যুগ আগে থেকেই আমেরিকার মার্কেটে মোবাইল ফোনের প্রচলন হয় এবং তখন কেউ মোবাইল ফোন বাজারে ছাড়ার আগে সেফটি চেকিং রাখার চিন্তাও করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু, ১৯৯৩ সালে ড্যাভিড রেয়নার্ড নামে এক ভদ্রলোক এনইসি মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে দেন। তিনি অভিযোগ করেন এই কোম্পানির ফোন ব্যবহার করার কারণে তার স্ত্রীর মারাত্মক ব্রেইন টিউমার হয়। এই অভিযোগের কথা যখন রেয়নার্ড ন্যাশনাল টেলিভিশনে বলেন তখন এটি নিয়ে চারদিকে বেশ আলোচনার শুরু হয়। সবাই নড়েচড়ে বসেন। 

একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটি অনেকটা আইওয়াশ করার চেষ্টা নেয়। তদন্ত কমিটিতে আবার ছিলেন আমেরিকার সেলুলার কমিউনিকেশন এন্ড ইন্টারনেট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টম হুইলার।

এক সপ্তাহ পর হুইলার তদন্তে কি পেয়েছেন কে জানে, তিনি রিপোর্টারদের জানালেন মোবাইলে কোনো ঝুঁকি নেই। সব কিছুই নিরাপদ। কিন্তু, আরো বিষদ রিসার্চ হবে এই ব্যাপারে, যার ব্যয় তারা বহন করবেন। এই রিসার্চে কিন্তু মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক তিনি বের করে দেখাবেন না, তিনি নিজেই বলেছেন এখন যে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, মোবাইল যে নিরাপদ সেটার স্বপক্ষেই রিসার্চ আরো জোরালো যুক্তি দাঁড় করাবে।

 জনগণের মনে মোবাইল ফোন নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ঢুকেছে, তাদের আইওয়াশ করার জন্য টম হুইলার এই রিসার্চে যুক্ত করলেন জর্জ কারলোকে। এই লোক আবার এমনিতেই বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আগেও কাজ করেছেন। মানুষকে ম্যানিপুলেট করার কাজে তিনি বেশ দক্ষ এমনিতেই। এই রিসার্চের জন্য ২৮.৫ মিলিয়ন ডলার বাজেট রাখা হয়েছিল, যার ডিরেক্টর ছিলেন কারলো। কিন্তু কারলোর সাথে টম হুইলারের এক পর্যায়ে এইসব রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। ১৯৯৯ সালের সাত অক্টোবর কারলো ৩২ টি টপ মোবাইল কোম্পানির কাছে চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে তিনি রিসার্চের কিছু তথ্য জানান। সেখানে তিনি লিখেন,

“brain tumours occurring on the right side of the head and the use of the phone on the right side of the head”; এবং আরো লিখেন, “ability of radiation from a phone’s antenna to cause functional genetic damage [was] definitely positive”.

কারলো নিজেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভয়াবহ এই দিকটি অনুধাবন করে কোম্পানিগুলোর সিইওদের এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি তাদের পরামর্শ দেন, তারা যেন কাস্টমারকে এই ব্যাপারটি সম্পর্কে জানায়, কারণ এত দিন তাদের জানিয়ে আসা হয়েছে যে মোবাইল ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নেই, এটি নিরাপদ। কিন্তু, এখন তাদের আসল সত্যটা জানানো উচিত। 

এরপর টম হুইলার ক্ষেপে যান কারলোর উপরে। যে কারলোকে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন ম্যানিপুলেশনের কাজে সে এখন রিসার্চ নিয়ে বড় বড় কথা বলে। বিষয়টা মেনে নেননি টম হুইলার। তিনি উলটা কারলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, তার তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কারলো ইচ্ছা করে এদিন এই তথ্যগুলো সেলুলার কমিউনিকেশন এন্ড ইন্টারনেট এসোসিয়েশনকে জানায়নি। তাছাড়া, তার ফাইন্ডিংসগুলো পিয়ার-রিভিউড কোনো জার্নালেও প্রকাশিত হয়নি। তাই এগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তারপর কত কিছু হয়ে গেল। এরপর আরো অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে সেলফোনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে। কারলোর তত্ত্বাবধানে হওয়া রিসার্চগুলো ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে পরবর্তী গবেষণায়। এইসব গবেষণার ফলাফল খুবই এলার্মিং। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) ২০১১ সালে জানিয়েছে মোবাইল ফোনের র‍্যাডিয়েশনে ক্যান্সার হওয়ার মতো উপাদান রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, ফ্রান্স সরকার শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্কতা দিয়েছে। 

* মোবাইল ফোন কতটা নিরাপদ, কতটা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আছে এই নিয়ে এখনো বিতর্কের শেষ নেই। বড় বড় কোম্পানিগুলো মোবাইল ফোন নিরাপদ এটা প্রমাণ করতে যেমন উঠে পড়ে লেগেছে তেমনি অনেক গবেষক প্রতিনিয়ত এলার্মিং তথ্য দিচ্ছেন, সতর্ক করছেন। সাধারণ মোবাইল ফোন ইউজাররা সেই সতর্কতা কতটা মেনে চলেন কিংবা কতটা জানেন সেল ফোন ক্যান্সার সম্পর্কে কে জানে! কিন্তু, এই মুহুর্তে মোবাইল ফোন টেকনোলজি যেভাবে উন্নত হচ্ছে তার সাথে উন্নত হচ্ছে না নিরাপত্তা ইস্যুগুলো চেকিং ব্যবস্থা। ফোর জি, ফাইভ জি প্রযুক্তির কারণে র‍্যাডিয়েশন মাত্রা আরো বাড়ছে। অথচ, কোনো সেফটি চেক ছাড়াই, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আছে কিনা, তা নিশ্চিত না করেই কোম্পানিগুলো একের পর এক ফোন বাজারে ছাড়ছে। 

মার্কেটিংয়ের এই যুগে আমরাও প্রভাবিত হচ্ছি, ফোর জি, ফাইভ জি আমাদের ভুলিয়ে রাখছে সব কিছু। ক্যামেরার রেজুলেশন মেপে নিজের চেহারার সৌন্দর্য বাড়াতে সবাই মেতে আছি। কিন্তু আমরা হয়ত নিজের স্বাস্থ্যের কথাটাই সেভাবে মাথায় রাখছি না। 

আতংকিত হবার কারণ নেই অতটা, তবে এখন সতর্ক হবার সময় এসেছে। আমরা একটা ম্যানিপুলেটেড দুনিয়ার মধ্যে বসবাস করছি। যে যার মতো, ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আমাদের ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাও নির্দিষ্ট কারো স্বার্থে ব্যবহারেরও ঘটনা ঘটছে। তাই নিজের জন্য হলেও আমাদের ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সতর্ক থাকা দরকার। কয়েকটি কাজ করতে পারেন এক্ষেত্রে। 

১। মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার প্রয়োজন থাকলে হেডফোন ব্যবহার করুন। কানে লাগিয়ে অনেকক্ষণ কথা বললে র‍্যাডিয়েশনের কারণে মস্তিষ্কে এর বাজে প্রভাব পড়তে পারে। 

২। ডান কানে ফোন না রাখার চেষ্টা করবেন সবসময়। এনালাইসিসে দেখা যায়, মস্তিস্কের ডান দিকে টিউমার হওয়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে, যারা অতিমাত্রায় ফোন ব্যবহার করেন ডান কানে। 

৩। রাতে ঘুমানোর সময় ফোন নিজের শরীরের কাছ থেকে দূরে রাখবেন। মাথার কাছে মোবাইল ফোন চালু অবস্থায় রেখে ঘুমানোর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আছে। অন্ততপক্ষে চেষ্টা করবেন ফ্লাইট মুড চালু রাখতে। সবচেয়ে ভাল এই যন্ত্রটা নিজের কাছ থেকে ঘুমের সময় দূরে রাখা। 

৪। কাজ শেষে ওয়াইফাই বন্ধ রাখতে পারেন। কারণ সারাক্ষণ ওয়াইফাই চালু থাকার ফলে এটি থেকেও সারাক্ষণ র‍্যাডিয়েশন উৎপাদন হতেই থাকে। এটা ক্ষতিকর। 

৫। আজকালকার শিশুদের বাবা মা আদর করে অল্প বয়সে মোবাইল হাতে দেন। সন্তান অল্প বয়সে মোবাইলের সব ফাংশন বুঝে এটি শুনিয়ে আনন্দও পান। কিন্তু, আপনি জেনে কষ্ট পেতে পারেন মোবাইল ফোনের র‍্যাডিয়েশন শিশুদের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যের অবনতি হবে ধীরে ধীরে। মস্তিষ্কের জটিলতায় ভোগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তাই নিজের সন্তানকে নিজেই নিরাপদে রাখুন, বাস্তব জগতের সাথে পরিচয় করান। জীবনকে পাঁচ ইঞ্চির স্ক্রীনে আটকে দিয়েন না। 

এই লেখা কোনোভাবেই আতংক সৃষ্টির জন্য নয়। আগেই বলেছি, আমরা ম্যানিপুলেশনের দুনিয়ায় বসবাস করছি। চকমকি দুনিয়ায় সবাই আপনাকে টার্গেট করবে ভোক্তা হিসেবে। কিন্তু, আপনি জানবেনও না এসব কিছু আপনার জন্যে কতটা মঙ্গলজনক। তাই নিজের ভালটুকু নিজেকেই খেয়াল রাখতে হবে। আজ থেকে নিজের মোবাইল ফোনটাকে একটু সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন, নিজের প্রিয় মানুষদেরও নিরাপদ রাখুন।

পুড়োটা পড়ুন

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যু

ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। আমরা ছোটবেলা থেকে গোপাল ভাঁড়ের গল্পে গোপাল ভাঁড়কে যে রাজার দরবারে জেতে শুনেছি, তিনিই ছিলেন নবদ্বীপের রাজা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম অনুসারেই নবদ্বীপের নামকরণ করা হয়েছিল কৃষ্ণনগর। আর আমরা যারা গোপাল ভাঁড়ের গল্প পরেছি, তারা এই কৃষ্ণনগর নামটির সাথে খুব ভালভাবেই পরিচিত। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অবদানের কারনেই চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরে জগদ্বার্থী পূজা আয়োজিত হয়ে আসছে, যা এখনো খুবই জাঁকজমক এর সাথে পালিত হয়।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যু


নদীয়ার রাজবংশের শ্রেষ্ঠ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের জন্ম ১৭১০ সালে। তার পিতা রঘুরাম রায়ের মৃত্যুর পর ১৭২৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি নদীয়ার রাজা হয়েছিলেন। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজনৈতিক দিক থেকে ছিলেন বেশ কৌশলী। পলাসি যুদ্ধের আগে বাংলায় কেবল ৭ জন হিন্দু রাজা ছিলেন, যাদের ভেতর একজন হলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। এদের ভেতর সবচাইতে বিচক্ষণ ছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার মুসলিম শাসকদের শাসন করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। আর এই সময় ব্রিটিশরা যেকোনো সময় পুরো ভারতবর্ষ এর ক্ষমতা দখল করতে পারে, তা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় তা বুঝতে পেরেছিলেন। আর তিনি এই বিসয়টি বাংলার অন্য ৬ জন হিন্দু রাজাকে বোঝাতে সক্ষম হন।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় অন্য হিন্দু রাজাদের বোঝাতে সক্ষম হন তাদের সনাতন ধর্ম মুসলিম শাসকদের হাতে নিরাপদ নয়। বরং ব্রিটিশদের কাছে তাদের ধর্ম বেশি নিরাপদ। আর তাই সকল হিন্দু রাজাদের সমর্থন নিয়ে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র হাত মিলান লর্ড ক্লাইভ এর সঙ্গে।

তিনি ধর্মের স্বার্থে নিজের স্বকীয়তাকে ইংরেজদের হাতে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রবার্ট ক্লাইভ এর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে নেন। ১৭৫৭ সালে যখন রবার্ট ক্লাইভ নবাব সিরাজুদ্দউলা এর সাথে পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধে লিপ্ত হন; সেসময় রনক্ষেত্রে জাওয়ার আগে রবার্ট ক্লাইভ এই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রাসাদে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।

রবার্ট ক্লাইভ ,নবাব সিরাজুদ্দউলা এর ভেতর যুদ্ধে নবাব সিরাজুদ্দউলা পরাজিত হন। আর সেসময় বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার নবাব হন মীর জাফর। আর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের পর বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার সিংহআসনে বসেন মীর কাশিম।

আর মীর কাশিম মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য স্বীকারএর কারনে শাস্তি হিসেবে তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। আর চরম দেশদ্রোহের শাস্তি স্বরূপ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের ফাঁসি কার্যকর হয়।

পুড়োটা পড়ুন

কয়েকটি মজার ফোবিয়া: আপনার কোনগুলো আছে? হযবরল.বাংলা

ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১

ফোবিয়া কথাটির অর্থ আতঙ্ক অথবা অকারণ আতঙ্ক অথবা বিতৃষ্ণা। আমাদের সবারই কম বেশি বিভিন্ন জিনিসের প্রতি ফোবিয়া আছে। কয়েকটি মজার ফোবিয়ার কথা আজ জানবো।

কয়েকটি মজার ফোবিয়া: আপনার কোনগুলো আছে?


আপনি যদি অন্ধকারে ভয় করেন, তবে আপনার Achluophobia রয়েছে। অন্যদিকে যদি আপনি ভূতের ভয়ে রাতে ঘুমোতে না পারেন, আপনার রয়েছে Phasmophobia। Pteronophobia আমার নিশ্চিতভাবেই রয়েছে, এটা হলো পালক দিয়ে সুড়সুড়ি খাওয়ার ভয়।

বজ্রপাতে আতঙ্কিত হলে আপনার রয়েছে brontophobia। আগুন দেখে ভয় লাগাকে বলা হয় Arsonphobia। Dentophobia হলো ডেন্টিস্টদের ভয় করা। আমি সত্যি বলতে এখনো বেলুন ফুটানোর শব্দকে খুব ভয় পাই। বেলুনের প্রতি আতঙ্ক হলো globophobia। কাউকে সংয়ের সাজে দেখলে যদি আপনার মনে আতঙ্ক জাগে, Coulrophobia তে ভুগছেন আপনি।

এমনি মজার মজার এবং আরও জানা অজানা কিছু ফোবিয়া নিয়ে হযবরল.বাংলা য় একটি আর্টিকেল লিখেছেন তাহমিদ হাসান মুত্তাকী।  সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে ক্লিক করুন। 

পুড়োটা পড়ুন

১০ হাজার টাকা বাজেটে বেস্ট স্মার্টফোন!

ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১


বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক্স কঞ্জিউমার মার্কেটের অন্যতম চাহিদাসম্পন্নও ডিভাইস হচ্ছে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম পরিচালিত স্মার্টফোন। দেশের অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রা নানানভাবে যেমন ডিজিটাল হচ্ছে, তেমনি তার সাথে একটি স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে সেই ডিজিটাল অগ্রগতিতে অংশ নিচ্ছে শহর থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রামীণ জনপদের মানুষও।

স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে সিংহভাগ অংশেরই বাজেট থাকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। ১০ হাজার টাকার মত লো বাজেটে প্রায় মানুষেরই টার্গেট থাকে দেশীয় উৎপাদিত স্মার্টফোন তথা দেশীয় কোম্পানির স্মার্টফোনগুলি দিকে। আর সেই দিক থেকে দেশে এগিয়ে আছে ওয়ালটন! বহু বছর হল দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন বিশ্বস্ততার সাথে দেশের লো-মিড রেঞ্জের স্মার্টফোন বাজারে বেশ ভালো একটি অবস্থান ধরে রেখেছে এবং মানুষদের সামনে নানা রকমের মানসম্মত স্মার্টফোন উপস্থাপন করে আসছে। 

তো ১০ হাজার টাকার ভেতর আপনি আপনার নিজের জন্যই কিনুন কিংবা কাছের কারো জন্য, কোন স্মার্টফোনটি কিনবেন তা একটি বড় বিষয়! এই লেখায় তুলে ধরেছি তিনটি স্মার্টফোন যা আপনি ১০ হাজারের বাজেটে এই ২০২১ সালে কিনতে পারেন চোখ বন্ধ করে!

রূপে গুণে অনন্য প্রিমো আর৬ ম্যাক্স

৯৪৯৯ টাকা ৩/৩২ ভেরিয়েন্ট এবং ১১৫৯৯ টাকায় ৩/৬৪ জিবি ভেরিয়েন্টে প্রিমো আর৬ ম্যাক্স স্মার্টফোনটি আপনার পছন্দের তালিকায় উপরে থাকতে পারে। যদি ইন্টারনাল স্টোরেজ আপনার কাছে বেশি ফ্যাক্ট না হয়, তবে ৯৪৯৯ টাকায় ৩/৩২ জিবি ভেরিয়েন্ট আপনার জন্য হতে পারে পারফেক্ট। ক্যামেরার দিক দিয়ে আপনি পিছনে পাচ্ছেন ১৩+৫ মেগাপিক্সেল বান্ডেলের ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল। ফোনটির ডুয়াল ক্যামেরা মডিউলে আপনি পাচ্ছেন এপারচার এফ২.০। যা আপনাকে অবজেক্টকে তুলনামূলক ভালো ফোকাস পয়েন্টে রেখে খুব দারুন কিছু ছবি তুলতে সহায়তা করবে।

একনজরে ওয়ালটন প্রিমো আর৬ ম্যাক্সঃ

  • (১৩+২) মেগাপিক্সেল রিয়ার ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল
  • ফ্রন্ট ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ARM Cortex-A55, ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর
  • PowerVR Rouge GE8322 জিপিইউ
  • ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৩২/৬৪ জিবি স্টোরেজ
  • ৬.০৯ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে (ইউ নচ/ডট নচ)
  • ৪০০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি
  • স্মার্টফোনটির ফুল রিভিউ

স্টোরেজ ও ক্যামেরায় বাজিমাত প্রিমো এইচ৯ প্রো

বাজেটের মধ্যে আপনি বেশি র‍্যাম এবং বেশি ইন্টারনাল স্টোরেজ চাচ্ছেন? তবে আপনার জন্য ওয়ালটন এর প্রিমো এইচ৯ প্রো স্মার্টফোনটি পারফেক্ট! কেননা আপনি ৯৭৯৯ টাকাইয় স্মার্টফোনটিতে পাচ্ছেন ৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরার দিক দিয়েও পিছিয়ে নয় স্মার্টফোনটি! ১৩ মেগকাপিক্সেল প্রাইমারি সনি সেন্সর সহ পিছে পাবেন ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল।

একনজরে প্রিমো এইচ৯ প্রোঃ

  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি রম (২৫৬ জিবি পর্যন্ত এক্সটারনাল মেমরি সাপোর্ট)
  • হেলিও এ২০ চিপসেট
  • ৬.১ ইঞ্চি ১৯ঃ৯ রেসিও আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল
  • ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ফাস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • স্মার্টফোনটির ফুল রিভিউ

বাজেট কিলার ''গেমার'স চয়েজ'' প্রিমো আরএক্স৭ মিনি

দেশের বাজার কাপিয়ে অন্যতম একটি স্মার্টফোন হচ্ছে এই প্রিমো আরএক্স৭ মিনি। স্মার্টফোনটি বাজারে লঞ্চ হওয়ার কিছুদিনের মাথায় একদম ষ্টক আউট হয়ে গিয়েছিল। স্মার্টফোনটিতে আপনি পাবেন ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট! শক্তিশালী চিপ্সেট আর প্রিমিয়াম ডিজাইন এর কারনে স্মার্টফোনটি বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পায়, এবং এখনও বেশ জনপ্রিয়। এই বাজেটে সম্পূর্ণ গ্লাস বডির এই স্মার্টফোনটি যেকারো মন ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট! স্মার্টফোনটির দাম ৯৪৯৯ টাকা।

একনজরে প্রিমো আরএক্স৭ মিনিঃ

  • ৩ জিবি র‍্যাম এবং ৩২ জিবি রম
  • ১৯ঃ৯ রেসিও সম্পন্ন ৫.৯ ইঞ্চি এইচডি+ আইপিএস ইনসেল ডিসপ্লে
  • মিডিয়াটেক হেলিও পি৬০, ১.৮ গিগাহার্জ অক্টাকোর চিপসেট
  • ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, টাইপ সি পোর্ট
  • ১৩ মেগাপিক্সেল এবং সেকেন্ডারি ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • স্মার্টফোনটির ফুল রিভিউ 
১০ হাজার টাকার বাজেটে আপনি স্মার্টফোনে অনেক বেশি জাহাজ সিংহ নিশ্চয়ই আশা করবেননা; তবে এমন কিছু আশা করতে পারেন, যেন একটি স্মার্টফোনে মানুষ যা যা করতে চায়, সব যেন ঠিকভাবে করা যায়! সেই হিসেবে আপনি আমাদের আজকের আলোচিত এই তিনটি স্মার্টফোনে সব পাবেন। ১০ হাজারের বাজেটে এই স্মার্টফোন গুলো আপনাকে নিরাশ করবে না, বরং বাজেট হিসেবে বাজারের অন্যসব স্মার্টফোনের তুলনায় কম্পেটিটিভ ভালো পারফরমেন্সই দিবে। তো নিঃসন্দেহে এই বাজেটে আজকের আলোচ্য স্মার্টফোন গুলো থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের একটি!

পুড়োটা পড়ুন