হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জিবনি

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

 


প্রাক-ইসলামী যুগে যখন চরম উচ্ছৃঙ্খলতা, পাপাচার, দুরাচার, ব্যাভিচার, মিথ্যা, হত্যা, লুন্ঠন, মদ্যপান, জুয়ায় ভরপুর ছিল। অন্যায়-অপরাধ, দ্বন্ধ-সংঘাত, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, নৈরাশ্য আর হাহাকার বিরাজ করছিল ঠিক এমন সময় মানবতার মুক্তির দিশারী সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সারা জাহানের হিদায়েতের জন্য আবির্ভূত হলেন। রাসুল (সাঃ) হলেন বিশ্ব মানতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমত স্বরুপ প্রেরিত। মহান বিশ্ব পরিচালক ঘোষণা করেনছেন, “আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি বিশ্ব জগতের জন্য বিশেষ রহমত স্বরুপ।”

 জন্ম ও শৈশবঃ

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ গোত্রের বনি হাশিম বংশে জন্মগ্রহণ করেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৫৭০ খৃীস্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম আমিনা এবং পিতার নাম আব্দুল্লাহ। অতি অল্প বয়স থেকেই আল্লাহ তাকে কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে নেন। জন্মের পূর্বে পিতা, ৬ বছর বয়সে মা আমিনাকে হারান। এবং ৮ বছর বয়সে তার দাদা মৃত্যু বরণ করেন। ইয়াতীম শিশু বড় হয়ে উঠে চাচার সযত্ন ভালবাসায়।

নামকরণঃ  

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম হওয়ার পরই মা আমেনা এ সংবাদ দাদা আব্দুল মুত্তালিবকে পাঠান। সংবাদ পাওয়ার পরেই তিনি ছুটে আসেন। পরম স্নেহে দেখেন, যত্নের সঙ্গেঁ কোলে নিয়ে কা’বার ভেতর প্রবেশ করেন, আল্লাহর হামদ বর্ণনা করেন এবং দোয়া করেন। অতঃপর তাঁর নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ’(প্রশংসিত)।

আহমদ নামকরণঃ

বিবি আমিনা গর্ভাবস্থায় স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত নাম অনুসারে ‘আহমদ’ (উচ্চ প্রশংসিত’) নাম রাখেন। বাল্যকাল হতে মুহাম্মদ ও আহমদ উভয় নামি প্রচলিত ছিল। উভয় নামই পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে।

দুগ্ধ পান কালঃ

সর্ব প্রথম তাঁকে তাঁর মাতা হযরত আমেনা দুগ্ধ পান করান। অতঃপর আবু লাহাবের বাঁদী ‘সুওয়াইবা’ তাকে দুগ্ধ পান করায়। অতঃপর ধাত্রীর সন্ধান করতে থাকেন। ‘হাওয়াযিন’ গোত্রের বানী সা’দ এর মহিলা হালীমা ছা’দিয়া এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী হন। এমন ভাবে যে, অন্য কোন ধাত্রী শিশু মুহাম্মদকে গ্রহণ করলনা পক্ষান্তরে হালীমা সাদীয়াও অন্য কোন শিশু পেলনা। ফলে বাধ্য হয়ে রসূল কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লাম কে গ্রহণ করলেন। গ্রহণ করার পর থেকেই হালীমার ঘরে ইলাহী বরকতের জোয়ার শুরু হল। দুবছর দুগ্ধ পানের পর বিবি হালীমা শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে তাঁর মায়ের নিকট হাজির হন এবং সাথে সাথে এই আকাঙ্খাও ব্যক্ত করেন যে, শিশুকে আরো কিছু দিনের জন্য তাঁর নিকট যেন থাকতে দেয়া হয়। এদিকে মক্কায় তখন মহামারী চলছিল। উভয় দিক চিন্তা করে বিবি আমেনা তাঁর শিশুকে হালীমার নিকট ফিরিয়ে দেন। এমনি ভাবে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লাম বানী সাদে লালিত পালিত হন। সেখানে তিনি তাঁর দুধ ভাইদের সঙ্গে জঙ্গঁলে ছাগল চরাতেন। (সহীহ আল বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, সীরাতুননবীঃ ১/১৭২)

দাদা ও চাচার তত্ত্বাবধানেঃ

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর মাতা-পিতার মৃত্যুর পর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর লালন পালনের দায়িত্ব নেন। তিনি তাকে খুব স্নেহ করতেন। এমনকি নিজের ছেলেদের উপরও তাঁকে প্রাধান্য দিতেন। নিজের আসনে বসাতেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্তই তিনি তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব নেন। তখন তার বয়স ছিল আট বছর। তিনি চাচা আবু তালিবকে বকরী লালন-পালন ও শাম দেশের ব্যবসার কাজে সহযোগিতা করতেন।

খাদীজা (রাঃ) এর সঙ্গে বিবাহঃ

পঁচিশ বছর বয়সে মক্কার ধনবতী মহিলা খাদিজা বিনতে খোয়ালিদের সাথে রাসূল (সাঃ) এর বিয়ে হয়। অভিজাত সতী, ধনবতী, মহিলা খাদিজা বিভিন্ন লোককে পণ্য দিয়ে ব্যবসা করাতেন এবং তিনি লাভের একটা অংশ গ্রহণ করতেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সততা, সত্যবাদীতা ও বিশ্বস্ততা তখন সুবিদিত ছিল। আল-আমীন, আসসাকিন এর প্রশংসা শুনে তিনি তার কাছে ব্যবসার প্রস্তাব পাঠান। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) রাজী হন এবং ব্যবসা শেষে অনেক বেশি লাভসহ তার সব কিছু বুঝিয়ে দেন।

রাসূলের গুণ মুগ্ধ ও অলৌকিক সংকেতের কথা শুনে মা খাদিজা বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় এবং উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তখন খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর। যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন রাসূল (সা:) আর কোনো বিয়ের প্রয়োজন অনুভব করেননি। এরপর আদর্শিক প্রয়োজনে এবং নারী সমাজের বিভিন্ন উপকারের জন্য তিনি মোট ১১টি বিয়ে করেন। দু’জন তার মৃত্যুর পূর্বে মারা যান আর ৯ জনের সাথে তিনি বৈবাহিক জীবন অতিবাহিত করেন।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ)

মহা গ্রন্থ আল কোরআন, ইতিহাস এর যুক্তি-প্রমাণ এবং বিভিন্ন গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী রমজান মাসের শেষ পর্যায়ে মহানবী (সাঃ) এর কাছে আল্লাহর দূত জিবরাইল (আ:) কে দিয়ে ওহী (আল্লাহর বাণী) প্রেরন করেন। এ সময় তার বয়স ৪০ পূর্ণ হয়। প্রথমে তিনি স্বপ্নে সে নিদর্শন পান এবং পরে সরাসরি পেয়েছিলেন।

ওহী নাযিলের সূচনাঃ

বেশীর ভাগ সময় তিনি মক্কার প্রসিদ্ধ পাহাড় ‘জাবালে নূরে’ অবস্থিত ‘গারে হেরা’ তথা হেরা গুহায় অবস্থান করতেন এবং ক্রমান্বয়ে কয়েক রাত সেখানে অতিবাহিত করতেন। থাকার ব্যবস্থাও তিনি আগে থেকেই করে নিতেন। এভাবে একদা তিনি হেরা গুহায় তাশরীফ আনেন এমন সময় তাঁকে নুবুওয়াতের পদমর্যাদা দিয়ে সৌভাগ্যবান করার পবিত্র মুহুর্ত এসে যায়। জন্মের ৪১ তম বছরে ২৭ ই রজব (হিজরতের ১৩ বছর পূর্বে) মুতাবিক ৬১০ খৃষ্টাব্দ তারিখে জাগ্রত ও চৈতন্য অবস্থায় এঘটনা সংঘটিত হয়। আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) প্রথমবারের মত তাঁর কাছে, পৃথিবীবাসীদের জন্য আল্লাহর সর্বশেষ ঐষীবাণী, বিশ্বমানবতার মুক্তির পথের দিশারী, জ্বিন ও ইনসানের জন্য পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল্ কুরআনুল কারীম’ এর সর্বপ্রথম কথাগুলো নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন।

“পড় তোমার প্রতিপালকের নামে

তাঁর সামনে হেরা গুহায় ফেরেশতা আগমন করেন এবং বলেনঃ পড়ুন। তিনি উত্তর দিলেন আমি কি ভাবে পড়ব? ফেরেশতা বললেনঃ

পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে, তোমার পালনকর্তা মহা দয়ালু।

যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না”। (সূরা আলাকঃ ১-৫।)

মি‘রাজ তথা উর্দ্ধারোহনঃ

রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর বয়স যখন ৫১ বছর নয় মাস হয়, তখন তাঁকে সশরীরে মর্যাদাপূর্ণ ইসরা ও মি’রাজ ভ্রমণের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়। মি’রাজে রাসূলুল্লাহ (সঃ) প্রথমে কা’বা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে যান, অতঃপর সেখান থেকে এক এক করে সাত আসমান অতিক্রম করে মহান আল্লাহর আরশে আজীমে তাশরীফ গ্রহণ করেন। এ মি’রাজ সফরে রাসুলুল্লাহ (সঃ) পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে বিধান লাভ করেন। মি’রাজে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জান্নাত এবং জাহান্নাম স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন।

দাওয়াতের আদেশঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলামের দাওয়াতের আদেশ দিয়ে ইরশাদ করেন,

يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ ﴿১﴾ قُمْ فَأَنْذِرْ ﴿২﴾ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ﴿৩﴾ . (سورة المدثر)

হে চাদরাবৃত ব্যক্তি! ওঠ এবং সতর্ক কর।

গোপনে ইসলামের দাওয়াতঃ

রাসলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ যথাযথ পালন করেন এবং গোপনে মানুষের মাঝে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করেন। তিনি সর্বপ্রথম আপন পরিবার- পরিজন ও বন্ধু-বর্গকে ইসলামের দাওয়াত দেন। সর্বপ্রথম খাদীজা রা. তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেন। পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম আবূ বকর সিদ্দীক (রা), ছোটদের মধ্যে আলী ইবনে আবূ তালিব রা. এবং ক্রীতদাসদের মধ্যে যায়েদ ইবনে হারেসা রা. ইসলাম গ্রহণ করেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বছর পর্যন্ত গোপনে তার নিকটস্থ’ লোকদের মাঝে ইসলাম প্রচার করেন।

প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াতঃ

তিন বছর গোপনে দাওয়াত দেয়ার পর মুহাম্মাদ প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচার শুরু করেন। নবী (সাঃ) সাফা পর্বতের ওপর দাড়িয়ে চিৎকার করে সকলকে সমবেত করেন। এরপর প্রকাশ্যে বলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রাসূল। এই সময় থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

ধৈর্য ও অবিচলঃ

মুসলমানগণ মুশরিকদের সকল নির্যাতন ও নিপীড়ন ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করতেন। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সাওয়াব ও জান্নাত লাভের আশায় বিপদে ধৈর্য ধারণ ও অনড় থাকার পরামর্শ দেন। মুশরিকদের নির্যাতন ভোগ করেছেন এমন কয়েকজন উল্লেখযোগ্য সাহাবী হলেন : বিলাল ইবনে রাবাহ ও আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. প্রমুখ। মুশরিকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ইয়াসির ও সুমাইয়া রা. এবং ইসলামের ইতিহাসে তারাই সর্বপ্রথম শহীদ।


আল-আমীন উপাধি লাভঃ

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বাল্যকাল হতেই চিন্তামগ্ন থাকতেন। তিনি ছিলেন দুর্দশাগ্রস্থ ও নিপিড়ীত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। আরববাসী তার নম্রতা, বিনয়, সত্যবাদিতা ও সৎস্বভাবের জন্য তাঁকে ‘আল-আমীন’ বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেন।

তায়েফ গমনঃ

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আশ্রয়দাতা চাচা আবূ তালিবের মৃত্যুকে কুরাইশরা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল। তার উপর নির্যাতনের মাত্রা পূর্বের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিল। এ কঠিন পরিস্থিতে সহযোগিতা ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় তিনি তায়েফ গমন করলেন। কিন্ত সেখানে উপহাস ও দুর্ব্যবহার ছাড়া আর কিছুই পেলেন না। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পাথর নিক্ষেপ করে আহত করে। ফলে তিনি আবার মক্কায় ফিরে যান।

মদিনায় হিজরতঃ

কুরাইশরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয় এবং আল্লাহ তায়ালা তাকে হেফাযত করেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) স্বীয় ঘর থেকে বের হন এবং আল্লাহ তাআলা কাফেরদের চক্ষু অন্ধ করে দেন যাতে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে না পারে। তিনি চলতে চলতে মক্কার বাইরে আবু বকর সিদ্দীক রা. এর সাথে মিলিত হন। অতঃপর তারা এক সাথেই পথ চলা আরম্ভ করেন। সওর নামক পাহাড়ে পৌঁছে একটি গুহায় তিন দিন পর্যন্ত আত্মগোপন করেন। এ সময়টিতে আব্দুল্লাহ বিন আবূ বকর রা. তাদের নিকট কুরাইশদের সংবাদ পৌঁছাতেন এবং তার বোন আসমা খাদ্য ও পানীয় পৌঁছে দিতেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সঙ্গী আবু বকর (রা) গুহা হতে বের হন এবং মদীনার পথে যাত্রা শুরু করেন।

মদীনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনাঃ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় পৌঁছে তাকওয়ার ভিত্তিতে ইসলামের সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে মদীনা শরীফে এ মসজিদটি “মসজিদে কু’বা” নামে পরিচিত।

মদীনাতে রাসুল (স) সর্বপ্রথম যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা হলো মসজিদে নববী নির্মাণ এবং আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন।

মক্কা বিজয়ঃ

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিভিন্ন গোত্রে তাঁর দাওয়াতী কর্মসূচী অধিক পরিমাণে বিস্তৃতি ঘটাতে সক্ষম হন। ফলে এক বছরের মাথায় মুসলমানদের সংখ্যা অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মাঝে কুরাইশদের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ বনু বকর মুসলমানদের মিত্র কবীলায়ে খুযা‘আর উপর আক্রমণ করল। এর অর্থ দাঁড়াল কুরাইশ এবং তার মিত্ররা হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করল।

নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সংবাদ পেয়ে অত্যধিক ক্রুদ্ধ হন এবং মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে দশ হাজার যোদ্ধার একটি বিশাল সেনাদল গঠন করেন।

তখন ছিল হিজরী অষ্টম বর্ষের রমযান মাস। এদিকে কুরাইশরা নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মক্কাভিমুখে অভিযানের সংবাদ পেয়ে তাদের নেতা ও মুখপাত্র আবূ সুফিয়ানকে ক্ষমা প্রার্থনা, সন্ধি চুক্তি বলবৎ এবং চুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট প্রেরণ করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ক্ষমার আবেদন নাকচ করে দিলেন। কারণ তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। আবূ সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ ব্যতিত আর কোন উপায় না দেখে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর সেনাদল (মক্কাভিমুখে) রওয়ানা হয়ে মক্কার কাছাকাছি আসলে মক্কাবাসী বিশাল দল দেখে আত্মসমর্পণ করে। আর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন এবং নিজ হাতের লাঠি দ্বারা কা‘বার আশেপাশে রাখা সকল প্রতিমা ভেঙে চুরমার করে দেন। আর স্বীয় রবের শেখানো আয়াত পাঠ করতে থাকেন,


وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا-


“বল, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।” (সূরা ইসরা : ৮১)

অতঃপর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ঘোষণা করেন মক্কা পবিত্র ও নিরাপদ।

বিদায় হজ্জঃ

দশম হিজরী সনে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে তাঁর সাথে হজব্রত পালন ও হজের আহকাম শিক্ষা গ্রহণ করতে মক্কায় যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

قول الله تعالى : الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا (سورة المائدة : ৩)

তাঁর আহ্বানে এক লক্ষের মত লোক সাড়া দিল। তাঁরা যুলকা’দাহ্‌ মাসের পঁচিশ তারিখ তাঁর সাথে মক্কা পানে বের হন। বাইতুল্লায় পৌঁছে প্রথমে তওয়াফ করেন। অতঃপর যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এরপর নয় তারিখ জাবালে আরাফাহ অভিমুখে যাত্রা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে অবস্থান করেন এবং মুসলমানদের উদ্দেশ্যে তার ঐতিহাসিক অমর ভাষণ দান করে তাদেরকে ইসলামী বিধি-বিধান ও হজের আহকাম শিক্ষা দেন এবং আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণী তিলাওয়াত করেন- “আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”

বিদায় হজ্জ থেকে ফেরার পর হিজরী ১১ সালের সফর মাসে মুহাম্মদ (স) জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বরের তাপমাত্রা প্রচন্ড হওয়ার কারণে পাগড়ির ওপর থেকেও উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছিল। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি এগারো দিন নামাজের ইমামতি করেন। অসুস্থতা তীব্র হওয়ার পর তিনি সকল স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আয়েশা (রাঃ)এর কামরায় অবস্থান করতে থাকেন। তাঁর কাছে সাত কিংবা আট দিনার ছিল,মৃত্যুর একদিন পূর্বে তিনি এগুলোও দান করে দেন। অবশেষে ১১ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি মহান প্রতিপালকের সান্নিধ্যে চলে যান। এ সময় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

সর্বোপরি, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্টায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, সর্বক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সফল ব্যক্তিত্ব।

ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায়,

If all the world was united under one leader, Muhammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness.

“সমগ্র দুনিয়াটাকে যদি একত্র করে একজনের নেতৃত্বে আনা যেত তাহলে নানা ধর্মমত, ধর্ম বিশ্বাস ও চিন্তার মানুষকে শান্তি সুখের পথে পরিচালনার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-ই হবেন সর্বোত্তম যোগ্য নেতা।”

সামান্য এই লিখাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনি শেষ করা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে শ্যাডো নিউজে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে ধাপে ধাপে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।


পুড়োটা পড়ুন

আইপি ৬প্লাস ভার্সন : ইন্টারনেট প্রটোকল ৬ প্লাস

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

 


সম্প্রতি, ’কনসোলিডেট ইলাস্টিক টার্গেট নেটওয়ার্ক, আনলকিং নিউ ডিজিটাল ভ্যালু’ প্রতিপাদ্যে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক টার্গেট নেটওয়ার্ক সম্মেলন। হুয়াওয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, মান নির্ধারক প্রতিষ্ঠান, এন্টারপ্রাইজ, ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠান ও খাত সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।                

‘ইন্টারনেট প্রটোকল ৬ প্লাস ভার্সন (আইপিভি৬প্লাস)- এর সর্বশেষ ট্রেন্ড, মানের অগ্রগতি ও উদ্ভাবন ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে সম্মেলনে হুয়াওয়ে পিএলডিটি, টেলিকম ইন্দোনেশিয়া, গ্লোব এবং সিএমআই ইত্যাদি শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক অপারেটরদের সাথে কাজ করেছে। 

সম্মেলনে হুয়াওয়ে’র রাউটার প্রোডাক্ট লাইনের প্রেসিডেন্ট হ্যাঙ্ক চেন মূল বক্তব্য প্রদান করেন। চেন তার বক্তব্যে বলেন, আইপিভি৬প্লাস” সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ইন্টেলিজেন্ট ক্লাউড নেটওয়ার্ক ব্যক্তি, এন্টারপ্রাইজ ও পরিবারের ডিজিটাল বিকাশকে উৎসাহিত করবে এবং ক্যারিয়ারগুলোর ব্যবসাকে সফল হতে সক্ষম করে তুলবে। 


ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে ক্যারিয়ারগুলোর আইসিটি অবকাঠামো ডিজিটালাইজেশনের মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও বেশি সংখ্যক এন্টারপ্রাইজ তাদের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে এবং তাদের ক্লাউড ব্যয় বৃদ্ধির হার ৩৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহারকারীদের নতুন প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোতে স্থানান্তরের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর গড় ডিওইউ বেড়েছে ৭০ শতাংশেরও বেশি। হোম ব্রডব্যান্ড সার্ভিস ও ব্যক্তিগত লাইন উভয়ই ইন্টারেক্টিভ করতে উন্নত হয়েছে। এইচডি ভিডিও ও রিমোট অফিসের মতো উচ্চমূল্যের সার্ভিসের ট্যাফিক বেড়েছে ১০ গুণ।

ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কগুলোকে এন্টারপ্রাইজ ও কনজ্যুমার ব্যবহারকারীদের নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। প্রচলিত নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহারকারীদের ব্যপক চাহিদা পূরণে আল্ট্রা- ব্রডব্যান্ড বিবর্তন, পরিমার্জিত অপারেশন, রিঅ্যাক্টিভ ওঅ্যান্ডএম -এর মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও, উৎপাদন নেটওয়ার্কগুলোও ধীরগতির ক্লাউড নেটওয়ার্ক স্প্লিটিং ও প্রভিশনিং,  সার্ভিস এসএলএ অ্যাসুরেন্স ও ই-কমার্স ওঅ্যান্ডএমের মতো সমস্যার মুখোমুখি হবে। এ চ্যালেঞ্জগুলোকে কাটিয়ে তুলতে আরও রূপান্তরিত পরিবহন, অভিজ্ঞতা ও ইন্টেলিজেন্ট ওঅ্যান্ডএম ফিচারসমৃদ্ধ নতুন প্রজন্মের ক্লাউড নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। হুয়াওয়ে’র অল-সিনারিও সমন্বিত বেয়ারার সল্যুশন ও নেটইঞ্জিন সিরিজের রাউটারগুলোর মাধ্যমে ক্যারিয়ারগুলো এন্টারপ্রাইজ, ব্যক্তিগত ও হোম সার্ভিসকে উন্নত করতে পারবে। 

পুড়োটা পড়ুন

বাজারে হাই এন্ড প্রাইজ সেগমেন্টে প্রবেশ করছে রিয়েলমি, আসছে ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১


তরুণ প্রজন্মের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি ক্রম-বর্ধমান বাজারের চাহিদা মেটাতে হাই অ্যান্ড প্রাইজ সেগমেন্টে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আনতে যাচ্ছে দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো ব্র্যান্ডটির ফ্ল্যাগশিপ জিটি সিরিজ। 

ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা ব্র্যান্ড রিয়েলমি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্মার্ট ডিভাইস তৈরির মাধ্যমে স্মার্টফোন ইকোসিস্টেমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি, রিয়েলমি ‘টেক লাইফ’ চালু করেছে, যা আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও উন্নত করবে। 

উচ্চতর প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে রিয়েলমি তাদের ইকোসিস্টেমকে প্রসারিত করছে। সম্প্রতি, তারা বাজারে এনেছে ২কে রেজ্যুলেশনের রিয়েলমি বুক স্লিম যা এর প্রাইজরেঞ্জের একমাত্র ২কে রেজ্যুলেশনের ল্যাপটপ। প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ পিক্সেল (১০৮ মেগাপিক্সেল) সমৃদ্ধ স্মার্টফোনও (রিয়েলমি ৮ প্রো) অবমুক্ত করেছে। এছাড়াও, তারা বিশ্বের দ্রুততম ম্যাগনেটিক ওয়্যারলেস চার্জার ৫০ ওয়াটের ম্যাগডার্ট নিয়ে কাজ করছে।

এই মুহূর্তে রিয়েলমি ৫জি প্রযুক্তি জনপ্রিয় করে তোলার জন্য কাজ করছে। ব্র্যান্ডটি সর্বস্তরের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এমন ৫জি স্মার্টফোন তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্যই, তরুণ প্রজন্মের পছন্দের ব্র্যান্ড রিয়েলমি দেশের বাজারে তাদের জিটি সিরিজ থেকে প্রথম স্মার্টফোন আনতে যাচ্ছে।

৫জি 6nm প্রসেসর , শক্তিশালী ক্যামেরা ও সুপারডার্ট চার্জ সমৃদ্ধ জিটি সিরিজের নতুন এ স্মার্টফোনটি ব্যবহারকারীদের জন্য সুপার-স্মুথ ও দুর্দান্ত স্মার্টফোন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। এর পাশাপাশি রিয়েলমি তাদের সি সিরিজের একটি নতুন স্মার্টফোনও বাজারে আনবে। 

পুড়োটা পড়ুন

আমেরিকা আবিষ্কারক আল বেরুনি!

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

আমেরিকার আবিষ্কারক আবু রায়হান আল বেরুনি নাকি কলম্বাস এই নিয়ে অনেকের মনে অনেক সংশয় রয়েছে।  অনেক অমুসলিম ইতিহাসবিদগন মুসলিমদেরই আমেরিকা আবিস্কারের কৃতিত্ব দেন।  আমেরিকার বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ফ্রেড্রিক স্টার প্রথম আটলান্টিক মহাসাগর পারি দিয়ে আমেরিকার মাটিতে প্রথম বিদেশির পা রাখার স্বীকৃতি দেন মুসলিম দার্শনিক আবু রায়হান আল বেরুনি'কে।  

আল বেরুনি


আবু রায়হান আল বেরুনি এর জন্ম ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে।  তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের পদার্থ, গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান শাস্ত্রের অনেক বড় পাণ্ডিত্যের অধিকারী।  ইতিহাসবিদরা বলেন আল বিরুনি ছিলেন সেই সময়কার অনেক বড় ভাষাতত্ত্ববিদ এবং মুসলিম দার্শনিক। 

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদের পর স্পেন এবং ওই অঞ্চলে ইসলামের ৮০০ বছরের গৌরবমণ্ডিত শাসন ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটে।  আর এই সময় ইউরোপীয় অঞ্চলে অমুসলিম শাসন ব্যবস্থার জাগরণ শুরু হয়।  ভারতবর্ষ ওই সময় আবিষ্কৃত হয়ে গিয়েছিল, আমেরিকা তখনও আবিষ্কৃত হয়নি।  সেই জনপদের একজন নামকরা বনিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের সেইসময়কার রানি ইসাবেলার সঙ্গে খুব ভালো খাতির ছিল।  তিনি রানি রানি ইসাবেলাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে তিনি নতুন কোন জনপদের সন্ধান করে সেখান করে বহু সম্পদ আহরণ করে তাদের দেশে নিয়ে আসবেন।

রানী ইসাবেলা এর অর্থায়নে ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা যাত্রা শুরু করেন। তবে সেইসময় ইউরোপিয়ানরা এতটা দক্ষ ছিলোনা যে, তারা কুয়াশা ভরা অ্যাটল্যান্টিক মহাসগর পারি দিতে পারতো।   ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন একজন খ্রিষ্টীয় ধর্মযোদ্ধা।  তার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল অ্যাটল্যান্টিকের অপর প্রান্তে যদি কোন জনপদ থাকে, তবে তিনি সেখানে খ্রিষ্টীয় ধর্মের প্রসার ঘটিয়ে আসবেন।  ক্রিস্টোফার কলম্বাস তীব্রভাবে মুসলিমবিরোধী ছিলেন।

তবে অ্যাটল্যান্টিক পারি দেয়ার জন্য যাত্রা করবেন, তবে তার জন্য  পর্যাপ্ত ভৌগলিক জ্ঞান দরকার।  এই জ্ঞানের জন্যেও ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে নিরভর করতে হয়েছিল মুসলিম  ভৌগলিকদের বইয়ের প্রতি।  সেই সময় তিনি পথের দিশা খুজতে লাগলেন মুসলিমদের দেখানো নানা পথের সূত্র থেকে।  অতঃপর ঘন কুয়াশার চাঁদর ভেদ করে আমেরিকার আগে কিউবা দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে ভিড়েছিলেন মুসলিমদের দেখিয়ে দিয়ে যাওয়া কম্পাস চার্ট এবং ভৌগলিক সূত্র অনুসরণ করেই।  ওইসময় তারা কিউবার এক পাহাড়ের চুড়ায় একটি মসজিদ আবিস্কার করেছিলেন, যদিও তাদের ইতিহাস ঢাকার সুবাদে, এই বিষয়টি ফলাওভাবে প্রচার পায়নি।


    

পুড়োটা পড়ুন

আইকিউ এর ইতিবৃত্ত: সত্যিই মানুষের বুদ্ধিমত্তা নির্দেশ করে?

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১



আইকিউ এর ইতিবৃত্ত

১৮৮২ সালে ব্রিটিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রান্সিস গাল্টন প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ের জন্য কিছু সাধারণ পরীক্ষা তৈরি করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফ্রান্সের একটি স্কুলে কোন কোন শিক্ষার্থীদের বিশেষ যত্ন দরকার, এটি ঠিক করার জন্য কর্তৃপক্ষ মনোবিদ আলফ্রেড বিনে এবং থিওডর সাইমনের শরণাপন্ন হয়। ১৯০৫ সালে আলফ্রেড বিনে এবং থিওডর সাইমন মস্তিষ্কের বিকাশের কিছু প্রকাশমাধ্যম যেমন মৌখিক যুক্তি, কাজের স্মৃতিশক্তি এবং চাক্ষুষ-স্থানিক দক্ষতা ইত্যাদি যাচাই করার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষামালা উদ্ভাবন করেন এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে স্কোরিং করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

প্রতিটি বয়সের শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট প্রশ্নমালা তৈরি করে দেখা হয় যে, শিশুটি তার বয়সের বাকি শিশুদের থেকে বেশি, সমান না কম বুদ্ধিমান। তাদের উদ্ধাবিত পদ্ধতিটি বিনে-সিমন টেস্ট নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। এরপর স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম. টারম্যান ১৯১৬ সালে বিনে-সিমন টেস্টকে কিছুটা পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন করেন, যা স্ট্যানফোর্ড-বিনে ইন্টেলিজেন্স স্কেল নামে পরিচিতি পায়। এই টেস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বুদ্ধিমত্তা পরিমাপক পদ্ধতি হিসেবে অদ্বিতীয় মর্যাদা পায়। এর আগে ১৯১২ সালে জার্মান মনোবিদ উইলিয়াম স্টার্ন Intelligence এবং Quotient শব্দজোড়া থেকে IQ শব্দটি তৈরি করেন, যা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শব্দ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।


আইকিউ পরীক্ষার অন্ধকার অধ্যায়

যদিও আইকিউ টেস্ট ফ্রান্সের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রথম তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি জনপ্রিয় হতে হতে অনেকটাই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিচারের একমাত্র মাধ্যমে পরিণত হয়। আইকিউ ধীরে ধীরে মানুষকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করার মাধ্যমেও পরিণত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাবাহিনীর নিয়োগের সময় বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা হিসেবে এ পরীক্ষার ব্যবহার করে। সেই সময় অনেক বিজ্ঞানী এবং রাজনীতিবিদরা ইউজেনিকস মতবাদে বিশ্বাস করতেন। ইউজেনিকস অনুযায়ী, যেসব মানুষ পশ্চিমাদের চোখে অধিকতর সুন্দর, বুদ্ধিমান (অর্থাৎ তারা নিজেরা)- তাদের মধ্যেই প্রজনন প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখে মানবজাতির মধ্যে একটি বিশুদ্ধ জাতি তৈরি করা।

মতবাদ পুরো পৃথিবীতেই গণহত্যা এবং জাতিগত বিশুদ্ধিকরণকে উৎসাহিত করে। ইউজেনিকসের সমর্থকরা আইকিউ টেস্টকে বুদ্ধিমত্তার পরিমাপক হিসেবে ধরত। স্বভাবতই তারা সেসময় প্রথাগত পড়াশোনায় এগিয়ে থাকার কারণে আইকিউ টেস্টে ভালো করত এবং একসময় তারা সেটিকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু করল। এমনকি ১৯২৪ সালে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে কম আইকিউধারী মানুষদের সন্তান গ্রহণে অক্ষম করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল, যা পরে আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালতও সে সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে ঘোষণা করে।

ভার্জিনিয়ায় ১৯২৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত নিম্ন আইকিউ'র অজুহাতে প্রায় ৭,০০০ লোককে বিভিন্নভাবে প্রজননে অক্ষম করা হয়। ধীরে ধীরে এর হার কমে আসে এবং ২০০১ সালে এটিকে বর্ণবাদী আখ্যায়িত করে ভার্জিনিয়া। নাৎসি শাসিত জার্মানিতে কম আইকিউ সম্পন্ন শিশুদের হত্যার অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মানবাধিকার আন্দোলনের প্রভাবে আইকিউ বিচার করে মানুষকে শ্রেণিভুক্ত করা কমে আসে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবেই মানুষের গড় আইকিউ বেড়েছে। কিন্তু এর কারণ হিসেবে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ নয়, বরং জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক পরিবেশের উন্নয়ন দায়ী বলে গবেষকরা মত দিয়েছেন। এই ঘটনাটিকে ফ্লিন ইফেক্ট বলা হয়।

আইকিউ কি সত্যিই মানুষের বুদ্ধিমত্তা নির্দেশ করে?

আইকিউ টেস্ট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যা মানুষের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান, গাণিতিক যুক্তি, স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিগত বিশ্লেষণ ক্ষমতা ইত্যাদি বিচার করে ফলাফল নির্ধারণ করে। কিন্তু বুদ্ধিমত্তা শুধুমাত্র এ ক'টি বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। যেমন, আবেগ কিংবা সামাজিক বুদ্ধিমত্তা আইকিউ দিয়ে বিচার করা যায় না। আবার উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সচেতনতা, স্বকীয়তা, আধ্যাত্মিক বোধ ইত্যাদি আইকিউ দিয়ে বিচার করা হয় না। কানাডার টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব বিকাশ এবং প্রায়োগিক মনোবিদ্যার অধ্যাপক স্ট্যানোভিচের মতে, আইকিউ পরীক্ষাকে এককভাবে গুরুত্ব দেবার কিছু নেই। তার মতে, আইকিউ পরীক্ষাগুলো কিছু মানসিক অনুষঙ্গকে পরিমাপ করার ক্ষেত্রে খুব ভালো; যেমন- যুক্তি, বিমূর্ত যুক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং কর্ম-স্মৃতি ক্ষমতা সহ মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা ইত্যাদি।

কিন্তু, বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এটি কতটুকু কার্যকর, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, আইকিউ পরীক্ষাগুলো মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিমাপ করে এবং সেটি মোটামুটিভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং কর্মজীবনে সাফল্যের পূর্বাভাস দিতে পারে। তবে সে পূর্বাভাস অসম্পূর্ণ এবং ততটা ভরসার যোগ্য না-ও হতে পারে। স্বাস্থ্যকর মানবিক চিন্তাশৈলী এবং মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ দক্ষতা আইকিউ দ্বারা বিচার করাই যথেষ্ট নয়। তাই বুদ্ধিমত্তা নির্ণয়ে আইকিউ টেস্টই সবকিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুড়োটা পড়ুন

অ্যালগরিদম আসলে কি?

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১



 অ্যালগরিদম শব্দটির অর্থ নির্দেশনা। শব্দটি দেখলে আমরা জটিল মনে করে চোখ ফিরিয়ে নেই, মনে করি শুধু গণিত আর বিজ্ঞানেই এর ব্যবহার। কিন্তু আসলে অ্যালগরিদম আমরা ব্যবহার করছি সবসময়ই। কোনো কাজ সমাধান করার যে ধাপ বা নির্দেশনা সেগুলোই হচ্ছে অ্যালগরিদম। নিচের অ্যালগরিদমটি দেখলেই মোটামুটি একটি ধারণা আসবে।

চা বানানোর অ্যালগরিদম Image Source: The New Junior Academy

আমরা মনে করি আধুনিক পৃথিবীতেই অ্যালগরিদম ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু অ্যালগরিদমের ব্যবহার চলে আসছে সহাস্রব্দ ধরে। গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খারেজমি অ্যালগরিদম শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন নবম শতাব্দীতে। তিনি হিন্দি-আরবীয় সংখ্যার উপর একটি বই লিখেছিলেন, যা পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় রুপান্তর করা হয়। এরপর ল্যাটিন শব্দ algoritmi থেকে আসে Algorithm।

ঐতিহাসিক রেকর্ড ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুযায়ী প্রথম অ্যালগরিদমের ব্যবহার করেন ব্যবিলনীয়রা। তারা অ্যালগরিদমের সাহায্যে স্কয়ার রুটের মান ও খুব সাধারম হিসেব করতো। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইউক্লিড তার ‘Euclidean Algorithm’ উদ্ভাবন করেন। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে ইসলামি বিশ্ব আরও জটিল ক্রিপ্ট্যালাইসিস, এনক্রিপশন এবং সাইফারের (সংকেত লেখনী) অ্যালগরিদম নিয়ে কাজ করে।

খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ সালের একটি মেডিক্যাল ট্যাবলেট; Image Source: Wikimedia Commons

তবে বর্তমানের আধুনিক অ্যালগরিদমের উৎপত্তি হয় শিল্প বিপ্লবের মাঝ থেকে শেষের দিকে। তখন জর্জ বুলি বাইনারি বীজগণিত আবিষ্কার করেন যা আধুনিক কম্পিউটারের ভিত্তি। এরপর অ্যাডা লাভলেস ১৮৪০ সালে প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করেন যার মাধ্যমে অ্যালগরিদম প্রবেশ করে আধুনিক জগতে। তবে প্রথম যে মানুষটি অ্যালগরিদমকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যান তিনি অ্যালান টুরিং। এরপর অলনজো চার্চের ল্যামডা ক্যালকুলাস সংযোজন আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের পথ খুলে দেয়।

পুড়োটা পড়ুন

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যাঃ যেখানে পড়াশোনার সবকিছু কেবল মানুষকে নিয়ে

আগস্ট ২১, ২০২১

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যাঃ যেখানে পড়াশোনার সবকিছু কেবল মানুষকে নিয়ে

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ব এমন একটি বিষয় যেখানে মূলত পড়াশোনা করা হয় মানুষের ব্যাপারে। আমরা সাইন্সের কিছু বিষয় পড়ি, বোটানি বা জুলজি। বোটানি বা উদ্ভিদবিজ্ঞানে আমরা উদ্ভিদ সম্পর্কে পড়াশোনা করি, আবার একইভাবে প্রানিবিজ্ঞানে বা জুলজিতে পড়ি জীবজগত সম্পর্কে। এনথ্রোপলজি ঠিক এমন একটি সাইন্স যেখানে কেবল পড়াশোনা করা হয় মানুষ নিয়ে। এই এনথ্রোপলজি সামগ্রিক ভাবে মানুষ এবং মানুষের আচরন নিয়ে কথা বলে। এনথ্রোপলজি একটি বিষয় যেখানে মানুষ নিয়ে খুবই গভীর এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা এবং গবেষণা করা হয়। আমরা যদি এনথ্রোপলজি শব্দটিকে বিশ্লেষণ করি, তাহলেই এই বিষয়টি সম্পর্কে খুব সহজেই মিল ধারনা পেতে পারব। এনথ্রোপলজি নামটি এসেছে গ্রিক শব্দ এনথ্রোপো (anthropo) থেকে যার মানে হচ্ছে মানুষ। আর লজি (logy) মানে আমরা জানি পড়াশোনা। একজন মানুষের উৎপত্তি, তার আচরন, তার মানুষিক আচরন, তার সামাজিক আচরন সবকিছু এই এনথ্রোপলজির আলোচ্য অংশ।

 Human To Study

 এনথ্রোপলজি’কে বলা হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট, কেননা নানা দিক থেকে এনথ্রোপলজি সাইন্সের তথা বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়াদির সাথে যুক্ত। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, মানুষ এর সাথে জড়িত বিজ্ঞানের আরও কিছু বিষয় যেমন, এনাটমি, ইকোলজি, জেনেটিক্স এসবের সাথে এনথ্রোপলজি খুব ভালভাবে জড়িত। এনাটমি মানুষের দেহের ভেতরকার অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে তুলনা করে, জেনেটিক্স তুলনা করে মানুষের আগের প্রজন্ম এবং বর্তমান প্রজন্ম আবার ইকলজি তুলনা করে বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানুষের সার্বিক অবস্থান, আর এমন সকল বিষয়কেই এনথ্রোপলজি তুলে ধরে। এনথ্রোপলজি এমন একটি সাইন্স যা মানুষের সবদিকেই সমানভাবে ফোকাস করে, বাকি সাইন্স যেমন এনাটমি, ইকোলজি, জেনেটিক্স, সাইকলজি এর মত কেবল একটি দিক নিয়ে থাকে না।

 যে বিষয়গুলো নিয়ে এনথ্রোপলজি এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ব

  •  এনাটমি:  এনাটমি মানুষের দেহের ভেতরকার অঙ্গপ্রতঙ্গের ভেতর অবস্থান এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে।
  • ইকোলজি: ইকোলজি বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং তার অবস্থান নিয়ে কথা বলে। 
  • জেনেটিক্স : জেনেটিক্স মানুষের বংশপরম্পরার ভেতর আচরণগত মিল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করে।  
  • সাইকলজি: সাইকলজি একজন মানুষের মানুষিক অবস্থা কেমন এবং তার মস্তিষ্কের পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা দেয়। 
  •  প্যাথলজি : প্যাথলজি মানুষের শরীরের সাথে তার রোগের সম্পর্ক এবং রোগের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করে।
  •  ইকোনমিক্স: ইকোনমিক্স আলোচনা করে মানুষের অর্থবিত্ত এবং সম্পদের ব্যাপারে। 
  • সোসিয়ালজি : সোসিয়ালজি আলোচনা করে সমাজে সেই মানুষটির অবস্থা কেমন, এবং সে সমাজের সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত, এ বিষয়ে। 


 আসলে আমরা মানুষ দেখতে কেনো এরকম, তা যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তার নাম এনথ্রোপলজি। কয়েকটি কারণে এনথ্রোপলজিকে একটি জটিল বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রথমত, সময় এবং কাল হিসেবে আলাদা আলাদা জনপদে বিভিন্ন মানবসভ্যতার ভেতর কি কি পরিবর্তন এসেছিল, এনথ্রোপলজি তা নিয়ে গবেষণা করে। সময় এবং কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন মানবসভ্যতার কেনো পরিবর্তন এসেছিল, তা থেকে তারা কিভাবে উত্তরিত হয়েছে সার্বিক বিষয় নিয়ে নৃতত্ত্ববিদ্যা তথা এনথ্রোপলজিতে পড়াশোনা এবং গবেষণা করতে হয়।

 দ্বিতীয়ত, একে বলা হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট। বা কম্বাইন্ড হিউম্যান সাইন্সেস বলতে পারি। এখানে উপরে উল্লেখিত সকল বিষয়াদি থেকে নানা সময় সঠিক রেফারেন্স টানতে হয়। আর সেকারনে এটি সাইন্সের অন্যান্য বিষয়ের মত একমুখী নয়, বহুমুখি এই কারনেও এটি একটি কমপ্লেক্স তথা জটিল বিষয়। বলা হয় বানর থেকে মানুষের উৎপত্তি। কিন্তু বানর তো চারপায়ে চলতো, সেখান থেকে আধুনিক মানুষ কিভাবে উৎপত্তি পেলো, তা আলোচনা করা হয় এনথ্রোপলজিতে। তৃতীয়ত, এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যা এমন একটি বিষয়, যা আলোচনা করে মানবজাতির উৎপত্তি সম্পর্কে। মানুষের উৎপত্তি কোথায় হল এবং কিভাবে মানব জাতি বিবর্তিত হয়ে আজকের আধুনিক মানুষে পরিনত হয়েছে তা আলোচনা করা হয় এনথ্রোপলজিতে। সময়ের পরিক্রমায় আসলে কি পরিবর্তন এসেছিল যা কালে কালে মানুষকে পরিবর্তন করেছে সবদিক দিয়ে তা গবেষণা করা হয়। 

এনথ্রোপলজিতে আগের সময়কার তত্ত্ব গবেসনার জন্য দরকার হয় প্রমান, কেননা এখানে তো আর আগের সময়ে ফিরে যাওয়া যাচ্ছে না। এনথ্রোপলজিতে এই এভিডেন্স বা প্রমান হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফসিল। অর্থাৎ এমন কিছু মানব অঙ্গ, আমরা উদাহরন হিসেবে হাড়, মাথার খুলি। যা বহু বছর আগে থেকে মাটির নিচে ছিল। এই সব ফসিল থেকে সেই মানুষের বেচে থাকার সময় এবং তাদের দৈহিক অবস্থা সম্পর্কে জানান পাওয়া যায়। এসব ফসিল মাটির কোন লেয়ার থেকে পাওয়া যায়, তার অপর ধারনা পাওয়া যায় এসি ফসিলটি আসলে কোন সময়কালের, আর সেই সময়কালের সাথে আমাদের সম্পর্কটা কোথায়।

পুড়োটা পড়ুন