ব্রেইন ক্যান্সার এবং সেলফোন!

জানুয়ারী ০৫, ২০২১


এই মুহুর্তে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় বস্তু হচ্ছে মোবাইল ফোন। যেখানেই আপনি যান, সাথে আর কিছু না থাকুক, ফোনটা সাথেই থাকেই। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়েও ফোনটা বালিশের পাশেই থাকে। কিন্তু এই প্রিয় বস্তুটির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার যে আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে তা কি জানেন? ক্ষতিটা কেমন তা শুনলে চমকে উঠতে পারেন আপনি। মুঠোফোনের ব্যবহারে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে মানুষের। এইরকম তথ্যই উঠে এসেছে একটি আমেরিকান গবেষণায়।

১৯৯৩ সালের সময়টার কথা বলছি। তখন আমেরিকায় প্রতি একশজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মধ্যে মাত্র ছয়জন মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। যদিও তার এক যুগ আগে থেকেই আমেরিকার মার্কেটে মোবাইল ফোনের প্রচলন হয় এবং তখন কেউ মোবাইল ফোন বাজারে ছাড়ার আগে সেফটি চেকিং রাখার চিন্তাও করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু, ১৯৯৩ সালে ড্যাভিড রেয়নার্ড নামে এক ভদ্রলোক এনইসি মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে দেন। তিনি অভিযোগ করেন এই কোম্পানির ফোন ব্যবহার করার কারণে তার স্ত্রীর মারাত্মক ব্রেইন টিউমার হয়। এই অভিযোগের কথা যখন রেয়নার্ড ন্যাশনাল টেলিভিশনে বলেন তখন এটি নিয়ে চারদিকে বেশ আলোচনার শুরু হয়। সবাই নড়েচড়ে বসেন। 

একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটি অনেকটা আইওয়াশ করার চেষ্টা নেয়। তদন্ত কমিটিতে আবার ছিলেন আমেরিকার সেলুলার কমিউনিকেশন এন্ড ইন্টারনেট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টম হুইলার।

এক সপ্তাহ পর হুইলার তদন্তে কি পেয়েছেন কে জানে, তিনি রিপোর্টারদের জানালেন মোবাইলে কোনো ঝুঁকি নেই। সব কিছুই নিরাপদ। কিন্তু, আরো বিষদ রিসার্চ হবে এই ব্যাপারে, যার ব্যয় তারা বহন করবেন। এই রিসার্চে কিন্তু মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক তিনি বের করে দেখাবেন না, তিনি নিজেই বলেছেন এখন যে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, মোবাইল যে নিরাপদ সেটার স্বপক্ষেই রিসার্চ আরো জোরালো যুক্তি দাঁড় করাবে।

 জনগণের মনে মোবাইল ফোন নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ঢুকেছে, তাদের আইওয়াশ করার জন্য টম হুইলার এই রিসার্চে যুক্ত করলেন জর্জ কারলোকে। এই লোক আবার এমনিতেই বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আগেও কাজ করেছেন। মানুষকে ম্যানিপুলেট করার কাজে তিনি বেশ দক্ষ এমনিতেই। এই রিসার্চের জন্য ২৮.৫ মিলিয়ন ডলার বাজেট রাখা হয়েছিল, যার ডিরেক্টর ছিলেন কারলো। কিন্তু কারলোর সাথে টম হুইলারের এক পর্যায়ে এইসব রিসার্চ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। ১৯৯৯ সালের সাত অক্টোবর কারলো ৩২ টি টপ মোবাইল কোম্পানির কাছে চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে তিনি রিসার্চের কিছু তথ্য জানান। সেখানে তিনি লিখেন,

“brain tumours occurring on the right side of the head and the use of the phone on the right side of the head”; এবং আরো লিখেন, “ability of radiation from a phone’s antenna to cause functional genetic damage [was] definitely positive”.

কারলো নিজেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভয়াবহ এই দিকটি অনুধাবন করে কোম্পানিগুলোর সিইওদের এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি তাদের পরামর্শ দেন, তারা যেন কাস্টমারকে এই ব্যাপারটি সম্পর্কে জানায়, কারণ এত দিন তাদের জানিয়ে আসা হয়েছে যে মোবাইল ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নেই, এটি নিরাপদ। কিন্তু, এখন তাদের আসল সত্যটা জানানো উচিত। 

এরপর টম হুইলার ক্ষেপে যান কারলোর উপরে। যে কারলোকে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন ম্যানিপুলেশনের কাজে সে এখন রিসার্চ নিয়ে বড় বড় কথা বলে। বিষয়টা মেনে নেননি টম হুইলার। তিনি উলটা কারলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন, তার তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কারলো ইচ্ছা করে এদিন এই তথ্যগুলো সেলুলার কমিউনিকেশন এন্ড ইন্টারনেট এসোসিয়েশনকে জানায়নি। তাছাড়া, তার ফাইন্ডিংসগুলো পিয়ার-রিভিউড কোনো জার্নালেও প্রকাশিত হয়নি। তাই এগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তারপর কত কিছু হয়ে গেল। এরপর আরো অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে সেলফোনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে। কারলোর তত্ত্বাবধানে হওয়া রিসার্চগুলো ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে পরবর্তী গবেষণায়। এইসব গবেষণার ফলাফল খুবই এলার্মিং। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) ২০১১ সালে জানিয়েছে মোবাইল ফোনের র‍্যাডিয়েশনে ক্যান্সার হওয়ার মতো উপাদান রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ইসরাইল, ফ্রান্স সরকার শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্কতা দিয়েছে। 

* মোবাইল ফোন কতটা নিরাপদ, কতটা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আছে এই নিয়ে এখনো বিতর্কের শেষ নেই। বড় বড় কোম্পানিগুলো মোবাইল ফোন নিরাপদ এটা প্রমাণ করতে যেমন উঠে পড়ে লেগেছে তেমনি অনেক গবেষক প্রতিনিয়ত এলার্মিং তথ্য দিচ্ছেন, সতর্ক করছেন। সাধারণ মোবাইল ফোন ইউজাররা সেই সতর্কতা কতটা মেনে চলেন কিংবা কতটা জানেন সেল ফোন ক্যান্সার সম্পর্কে কে জানে! কিন্তু, এই মুহুর্তে মোবাইল ফোন টেকনোলজি যেভাবে উন্নত হচ্ছে তার সাথে উন্নত হচ্ছে না নিরাপত্তা ইস্যুগুলো চেকিং ব্যবস্থা। ফোর জি, ফাইভ জি প্রযুক্তির কারণে র‍্যাডিয়েশন মাত্রা আরো বাড়ছে। অথচ, কোনো সেফটি চেক ছাড়াই, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আছে কিনা, তা নিশ্চিত না করেই কোম্পানিগুলো একের পর এক ফোন বাজারে ছাড়ছে। 

মার্কেটিংয়ের এই যুগে আমরাও প্রভাবিত হচ্ছি, ফোর জি, ফাইভ জি আমাদের ভুলিয়ে রাখছে সব কিছু। ক্যামেরার রেজুলেশন মেপে নিজের চেহারার সৌন্দর্য বাড়াতে সবাই মেতে আছি। কিন্তু আমরা হয়ত নিজের স্বাস্থ্যের কথাটাই সেভাবে মাথায় রাখছি না। 

আতংকিত হবার কারণ নেই অতটা, তবে এখন সতর্ক হবার সময় এসেছে। আমরা একটা ম্যানিপুলেটেড দুনিয়ার মধ্যে বসবাস করছি। যে যার মতো, ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আমাদের ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাও নির্দিষ্ট কারো স্বার্থে ব্যবহারেরও ঘটনা ঘটছে। তাই নিজের জন্য হলেও আমাদের ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সতর্ক থাকা দরকার। কয়েকটি কাজ করতে পারেন এক্ষেত্রে। 

১। মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার প্রয়োজন থাকলে হেডফোন ব্যবহার করুন। কানে লাগিয়ে অনেকক্ষণ কথা বললে র‍্যাডিয়েশনের কারণে মস্তিষ্কে এর বাজে প্রভাব পড়তে পারে। 

২। ডান কানে ফোন না রাখার চেষ্টা করবেন সবসময়। এনালাইসিসে দেখা যায়, মস্তিস্কের ডান দিকে টিউমার হওয়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে, যারা অতিমাত্রায় ফোন ব্যবহার করেন ডান কানে। 

৩। রাতে ঘুমানোর সময় ফোন নিজের শরীরের কাছ থেকে দূরে রাখবেন। মাথার কাছে মোবাইল ফোন চালু অবস্থায় রেখে ঘুমানোর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি আছে। অন্ততপক্ষে চেষ্টা করবেন ফ্লাইট মুড চালু রাখতে। সবচেয়ে ভাল এই যন্ত্রটা নিজের কাছ থেকে ঘুমের সময় দূরে রাখা। 

৪। কাজ শেষে ওয়াইফাই বন্ধ রাখতে পারেন। কারণ সারাক্ষণ ওয়াইফাই চালু থাকার ফলে এটি থেকেও সারাক্ষণ র‍্যাডিয়েশন উৎপাদন হতেই থাকে। এটা ক্ষতিকর। 

৫। আজকালকার শিশুদের বাবা মা আদর করে অল্প বয়সে মোবাইল হাতে দেন। সন্তান অল্প বয়সে মোবাইলের সব ফাংশন বুঝে এটি শুনিয়ে আনন্দও পান। কিন্তু, আপনি জেনে কষ্ট পেতে পারেন মোবাইল ফোনের র‍্যাডিয়েশন শিশুদের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যের অবনতি হবে ধীরে ধীরে। মস্তিষ্কের জটিলতায় ভোগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তাই নিজের সন্তানকে নিজেই নিরাপদে রাখুন, বাস্তব জগতের সাথে পরিচয় করান। জীবনকে পাঁচ ইঞ্চির স্ক্রীনে আটকে দিয়েন না। 

এই লেখা কোনোভাবেই আতংক সৃষ্টির জন্য নয়। আগেই বলেছি, আমরা ম্যানিপুলেশনের দুনিয়ায় বসবাস করছি। চকমকি দুনিয়ায় সবাই আপনাকে টার্গেট করবে ভোক্তা হিসেবে। কিন্তু, আপনি জানবেনও না এসব কিছু আপনার জন্যে কতটা মঙ্গলজনক। তাই নিজের ভালটুকু নিজেকেই খেয়াল রাখতে হবে। আজ থেকে নিজের মোবাইল ফোনটাকে একটু সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন, নিজের প্রিয় মানুষদেরও নিরাপদ রাখুন।

পুড়োটা পড়ুন

জীবনানন্দ দাশকে বাঁচাতে পারেনি তার সমাজ!

জানুয়ারী ০৪, ২০২১


ধরুন আপনি দেখলেন একটা শালিক মাঠের ঘাসে পা ডুবিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে, হঠাৎ উড়ে গিয়ে পাশেই একটা হিজল গাছের ডালে গিয়ে বসলো। প্রথমেই, ধরে নিতে হচ্ছে আপনি আসলেই ব্যাপারটা লক্ষ করছেন। কারণ ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা যে, আপনি ব্যাপারটা লক্ষই করেননি। তো এই গোটা ঘটনাটা আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন? হয়তো বলবেন, "আমি দেখলাম একটা শালিক মাঠে হাঁটছিল, হঠাৎ সে উড়ে গিয়ে হিজল গাছে বসলো।"

আসুন দেখি, জীবনানন্দ ঘটনাটা বর্ণনা করছেন কীভাবে- "দেখিব খয়েরি ডানা শালিকের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে, ধবল রোমের নীচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে নেচে চলে- একবার- দুইবার- তারপর হঠাৎ তাহারে বনের হিজল গাছ ডাক দিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে;" 

জীবনানন্দের কবিতার ভাষা খুব কঠিন নয়, আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত শব্দগুলোই সেখানে এসেছে। কিন্তু এসেছে অদ্ভূতভাবে। অদ্ভূত সুন্দরভাবে। শালিকের উড়ে গিয়ে গাছে বসার মতো সাধারণ একটা ব্যাপার, কিন্তু কী অতিমানবিকভাবেই না সেটা প্রকাশ করেছেন। দেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন 'সবচেয়ে সুন্দর করুণ'। করুণ এর সাথে সুন্দর যোগ করে মাত্র দুটি শব্দেই তিনি এই দেশের প্রকৃতিটা বুঝিয়ে দিলেন। তিনিই বলেছিলেন 'উপমাই কবিতা'। উপমার এমন অদ্ভুত, অসাধারণ এবং সৃজনশীল প্রয়োগ বাংলার খুব কম কবিই করতে পেরেছেন।

"চারি দিকে এখন সকাল- রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!" "চারি দিকে নুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল, তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল!" "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; " "তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!" এমন অসংখ্য অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যায়, এর থেকে আরো চমৎকার সব উদাহরণ দেয়া যায়। আমি শুধু হাতের কাছে থাকা কয়েকটি তুলে দিলাম মাত্র।

শুধু কি উপমার কারণে জীবনানন্দের কবিতা অসাধারণ? না, শুধু উপমাই মূল কারণ হলে সেটা উপমার ডিপো হতো ঠিকই, কিন্তু কালোত্তীর্ণ হতো না। আমি আপনাদের 'আট বছর আগের একদিন' কবিতাটা পড়তে বলবো, যারা পড়েননি। যারা পড়েছেন, তারা জানেন, এটা কী অদ্ভুত একটা কবিতা। কী পরাবাস্তব এক অনুভূতি হয় এই কবিতাটা পড়লে। জীবনানন্দের কবিতা সুদৃশ্য সাজানো লেকের জল নয়, উত্তাল সমুদ্র। কবিতা পড়তে পড়তে হঠাৎ করে কোনো এক লাইনে এসে আপনি চমকে উঠবেন। চমকে গিয়ে থমকে যাবেন। বইয়ের পাতা থেকে মাথা তুলে একবার ভাববেন 'এটা কী বলল!' এরপর ঐ লাইনটা আবার পড়বেন, ভাববেন, আলোড়িত হবেন।

বাংলায় আধুনিক কবিতার দিকপাল ত্রিশের দশকের পাঁচ মহৎ কবি- জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে- এঁদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশকে আমার শ্রেষ্ঠ মনে হয়। অবশ্য, এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত মত, হয়তো জীবনানন্দের প্রতি পক্ষপাতিত্বের ফল। বুদ্ধদেব বসুর কথাও বলা যায়, তবে তিনি সাহিত্যের অন্যান্য ক্ষেত্রেও পারদর্শী ছিলেন। সেদিক থেকে জীবনানন্দ ছিলেন 'বিশুদ্ধ কবি'। বুদ্ধদেব বসুই তাঁকে 'শুদ্ধতম কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। জীবনানন্দ যদিও কিছু উপন্যাস লিখেছেন, লিখেছেন ছোট গল্প এবং কিছু প্রবন্ধ- তবে তাঁর কবিতার কাছে সেগুলো জৌলুশহীন।

অসাধারণ প্রতিভাবান এই মানুষটিকে সারাটা জীবন কাটাতে হয়েছে ভীষণ অভাব-অনটনের সাথে, অনেক কষ্টে। এই মানুষটি যদি রবীন্দ্রনাথের মতো পরিবেশ পেতেন, তাহলে হয়তো তিনিই হতেন বাংলার প্রধানতম কবি। জীবনানন্দের জীবন সম্পর্কে জানতে সহায়ক বই হিসেবে শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু' বইটি পড়তে অনুরোধ করব। মানুষ জীবনানন্দকে তাহলে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করা যাবে। 

ব্যক্তিগতভাবে আঞ্চলিকতা নিয়ে আমি কখনো মিথ্যে গর্ব প্রদর্শন করি না। কিন্তু বরিশালে 'জীবনানন্দ দাশ সড়ক' দিয়ে হেঁটে যাবার সময় এক ধরণের আনন্দ হয়। আহা! এই মাটিতে একদা জীবনানন্দ ছিলেন। তবে কষ্টও হয়। বরিশালে তাঁর স্মরণে যেরকম আয়োজন থাকার কথা ছিল, সেটা একদমই নেই। এই অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ-প্রতিভাটিকে এখানকার মানুষ ঠিকভাবে চেনে না। আমি বরিশালে গেলে অতি আগ্রহ নিয়ে বারবার জীবনানন্দের পৈত্রিক বাড়ি, বিএম কলেজে যেখানে জীবনানন্দ পড়াতেন এবং বরিশাল মহাশশ্মানে যেখানে 'আট বছর আগের একদিন' এর সেই লাশকাটা ঘরটা ছিল- সেখানে যাই। কেন যাই জানি না, তবে এক ধরণের রোমাঞ্চ হয়- এখানে জীবনানন্দ ছিলেন!

শত বছরের ইতিহাসে একজন মাত্র মানুষ কলকাতায় ট্রামের তলায় পড়ে মারা গিয়েছে, তিনি জীবনানন্দ। অনেকে মনে করে এটা আত্মহত্যা ছিল। সে সময়ে তাঁর যে দূরাবস্থা ছিল, তাতে সেটা অস্বাভাবিক নয়। আত্মহত্যা না হলেও তিনি অবশ্যই অন্যমনস্ক ছিলেন। সেই অন্যমনস্কতা কিন্তু কবি-সুলভ অন্যমনস্কতা নয়, একজন অভাবী সংগ্রামী মানুষের অন্যমনস্কতা।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই প্রতিভাটিকে সে সময়ের মানুষেরা, সেই সমাজ রক্ষা করতে পারেনি। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৪ অক্টোবর। এর কিছুদিন পর ২২ অক্টোবর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে উজ্জ্বলতম এই নক্ষত্রটি ঝড়ে পড়ে। 

"মানুষেরও আয়ু শেষ হয়! পৃথিবীর পুরানো সে পথ মুছে ফেলে রেখা তার- কিন্তু এই স্বপ্নের জগৎ চিরদিন রয়! সময়ের হাত এসে মুছে ফেলে আর সব,- নক্ষত্রেরও আয়ু শেষ হয়।" কিন্তু জীবনানন্দ দাশ নামের নক্ষত্রটির আয়ু অসীম। যতদিন বাংলার আকাশ থাকবে, ততদিন জীবনানন্দ থাকবে। বারবার ফিরে আসবে আরো 'সুন্দর করুণ' ভাবে।

পুড়োটা পড়ুন

প্রতারণার স্বীকার? ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করুন!

জানুয়ারী ০৩, ২০২১


ই-কমার্স থেকে সময়মতো পণ্য না পেয়ে ভোগান্তিতে আছেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ হুংকার দেন ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়ার। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে কতটুকু জানেন? কিভাবে অনলাইনেই ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দেয়া যায়?

জাবেদ কিছুদিন হলো একটা চাকরিতে জয়েন করেছেন। আগের মতো তাই তার হাতে বাড়তি সময় থাকে না। তাই এখন তিনি কেনাকাটার জন্যে অনলাইনের উপর কিছুটা নির্ভরশীল হতে চান। এজন্যে তিনি বাংলাদেশের ই-কমার্সগুলো থেকে মাঝে মধ্যে প্রোডাক্ট অর্ডার দেন।

অফিসের কাজে প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। তাই ফোন চার্জের জন্যে একবার তিনি একটা পাওয়ার ব্যাংক অর্ডার দিলেন। দুইদিন বাদেই পাওয়ার ব্যাংকটা ডেলিভারি পেলেন। জাবেদ মোটামুটি খুশি। এরপর সে আরেকটি ই-কমার্স থেকে একটা ব্যাগপ্যাক অর্ডার দিলেন। কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও ব্যাগপ্যাকটি ডেলিভারি হচ্ছিলো না। আর যখন ব্যাগপ্যাক পেলেন তখন খেয়াল করলেন ডিজাইনে মিল নেই। যেরকমটা দেখে অর্ডার দিয়েছিলেন, প্রোডাক্ট এসেছে তার ব্যতিক্রম।

একবার কার্গো প্যান্ট দিয়েও বিরুপ অভিজ্ঞতা পেলেন। প্যান্ট ডেলিভারি পাওয়ার পর তার মনে হলো এই প্যান্ট কোনো ক্রমেই নতুনের মতো দেখতে না। দ্বিতীয়ত প্যান্টটা থ্রি কোয়ার্টার, যা তিনি চান নি। এই প্রোডাক্ট রিটার্ন দিতে গিয়ে তার আরো বেগ পোহাতে হলো। রিফান্ড আসতে আসতে ১১ দিন লাগলো প্রায়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোন দিতে হয়েছে কাস্টমার কেয়ারে।

জাবেদ তবুও টুকটাক কেনাকাটা করতে থাকলেন ই-কমার্স থেকে। একবার বিশেষ অফারে তিনি একটি দামি ফোন অর্ডার দিলেন সাহস করে। তিনি পণ্যের দামও আগেই দিয়ে দিলেন অফারের শর্ত মোতাবেক। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও ফোন আসলো না। এক মাস পর তিনি যখন ফোন হাতে পেলেন তখন দেখলেন, তার পছন্দের কালার দেয়া হয় নি। তিনি চেয়েছিলেন সাদা, দেয়া হয়েছে গ্রে কালারের ফোন। সেলারের কাছে জিজ্ঞাসা করে জানলেন, তার পছন্দের কালারের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছে। জাবেদের এতে খুব মন খারাপ হলো।

বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে। বিশেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্যোক্তার সংখ্যা এখন তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো। ফেসবুকের এফ-কমার্স তো বটেই বাংলাদেশে ই-কমার্সের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। কিন্তু, এতোগুলো ই-কমার্স মিলেও এই খাতকে আস্থাশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে নি। মূলধারার যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তাদের সবারই কিছু না কিছু ত্রুটি লক্ষণীয়।

প্রথমত প্রোডাক্টের মান তারা নিশ্চিত করতে পারছে কিনা, দ্বিতীয়ত সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারছে কিনা, তৃতীয়ত কোনো সমস্যা হলে যোগাযোগ রক্ষায় তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়। এবং এই প্রশ্নগুলোতে এখনো দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো লেটার মার্কস পাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে নি এখনো। এটা ঠিক নতুন ইন্ডাস্ট্রি, তাই সময় দেয়া উচিত তাদের। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যখন কিছু ক্ষেত্রে তারা পাস মার্কসই তুলতে পারেন না সার্ভিসে, কোয়ালিটিতে তখন। মানুষ কেনো তাহলে ই-কমার্সকে বিশ্বাস করবে?

ভোক্তাকে ঠকিয়ে কিংবা অন্ধকারে রেখে বা বিভ্রান্ত করে অন্তত এই ২০২০ সালে কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে তা হবার নয়। কারণ, এই মুহুর্তে অনলাইনে সচেতন একটি শ্রেণীরও বিকাশ হতে দেখছি আমরা। যারা নিয়ম মানেন, আইন পছন্দ করেন। যারা অধিকার সম্পর্কে সচেতন। তারা ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। এই সচেতন শ্রেণীর গ্রাহকরা যখনই প্রতারিত হন, তারা গালাগালির আশ্রয় নেন না। বরং যথাযথ নিয়মে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযোগ প্রদান করেন।

২০০৯ সালে দেশে ভোক্তা অধিকার আইন প্রণীত হয়। এই আইনের অধীনে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষার মোট ৮২টি ধারা আছে। কিছু কিছু ধারার কথা উল্লেখ করতে পারি। যেমন- ৪৪ ধারায় উল্লেখ আছে, পণ্যের মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করলে অনধিক ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অনলাইনের কেনাকাটায় অনেক সময় আমরা খেয়াল করি, বিজ্ঞাপনে এক রকমের পণ্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে পরে অন্য পণ্য ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে কিংবা যে পণ্য দেখানো হচ্ছে, তার সাথে মিল থাকছে না ডেলিভারি হওয়া পণ্যের।

এই আইনের ৪৫ নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইভ্যালি নামক একটি জন-আলোচিত ই-কমার্সের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। দারুণ অফার দিয়ে আলোচনায় আসা এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সমালোচনার মুখে পড়েছে তাদের ডেলিভারি সিস্টেমের কারণে। প্রতিশ্রুত পণ্য সময়মতো দেয়ার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। সবচেয়ে যেখানে তাদের নিয়ে সমালোচনা তা হলো, গ্রাহকের সমস্যা তারা তাদের মূল ফেসবুকে গ্রুপে এপ্রুভ করেন না। কাস্টমার কেয়ার থেকে জবাব আসে না। এপসে ইস্যু রিপোর্ট করেও উত্তর মেলে না। এধরণের কেইসে প্রতিশ্রুত পণ্য / সেবা যথাযথভাবে সরবারাহে ব্যর্থ হলে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৫ ধারা গ্রাহকের পক্ষে কাজ করতে পারে।

আরেকটি সুন্দর ধারার কথা জেনে রাখতে পারেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারা বলছে, "কোন সেবা প্রদানকারী অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতা দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য বা জীবনহানী ঘটাইলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।" কোনো ভোক্তা যদি মনে করেন, সেবা প্রদানকারী কোম্পানির অবহেলা, দায়িত্বহীনতার কারণে ভোক্তার অর্থ, স্বাস্থ্যের হানি ঘটছে তিনি এই ধারায় অভিযোগ দায়ের কর‍তে পারেন।

কেবল অনলাইনে কেনাকাটা নয় অফলাইনেও আপনি যেকোনো ধরণের প্রতারণার মুখে পড়লে এই আইনে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন। কোনো দ্রব্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখছে, ভেজাল পণ্য দিচ্ছে এরকম কেইসে অনায়াসে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে জরিমানা ধার্য হবে তার ২৫% অভিযোগকারী ভোক্তা পাবেন। অর্থাৎ, ১ লাখ জরিমানা হলে ২৫ হাজার টাকা পাবেন ভোক্তা।

এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে অভিযোগ জানানো যায় এটা অনেকেই জানেন না বলে, অভিযোগ করতে পারেন না। অথচ, এখন স্রেফ অনলাইনে ঘরে বসেই এতো সহজভাবে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি আছে যে মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়ে যে কেউ ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। এজন্যে আপনাকে অনলাইনে ভোক্তা অধিকারের ফরমে অভিযোগের বিবরণ লিখতে হবে। যুক্ত করতে হবে আনুসঙ্গিক প্রমাণ, ক্রয়ের রসিদ। ঠিকভাবে পূরণ করে জমা দেয়ার পর আপনাকে অনলাইনেই একটি আবেদন রশিদ নাম্বার দেয়া হবে। আপনি সেই নাম্বার দিয়ে আবার যাচাইও করতে পারবেন যে আপনার অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী।

ই-কমার্স থেকে কেনাকাটা একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা সময়ের সাথে সাথে আরো সুখকর হবে বলে আশা করা যায়। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই "আনচেকড" এবং "আনকোয়েশ্চেনড" ব্যবস্থা উন্নতির প্রধান অন্তরায়। আজকের দিনে ই-কমার্সের কেনাকাটায় যেসব ভোগান্তির তথ্য আমরা দেখতে পাই তাকে প্রশ্ন ছাড়াই এভাবে চলতে দিলে সিস্টেম আরো নিম্নগামী হতে পারে। আর এক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ভোক্তাদের ভোগান্তির প্রতিকারে এগিয়ে আসতে পারে। তবে তার জন্যে ভোক্তাকেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।

ভোক্তা অধিকার আইন- http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1014.html

অনলাইনে অভিযোগের ফরম- http://online.forms.gov.bd/onlineApplications/apply/MTMyLzMzLzI2

পুড়োটা পড়ুন

পারটেক্স গ্রুপের : এম এ হাশেম দেশের অন্যতম একজন শিল্পদোক্তা!

জানুয়ারী ০৩, ২০২১


মানুষের আইডিয়া হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়। আইডিয়া বা সুদূরপ্রসারী চিন্তা অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতনই মানুষের কাছে চলে আসে। এবং ঠিকঠাক আইডিয়া পেলে এবং সেগুলো যদি ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, অসাধ্যসাধন হতে বাধ্য। মস্তিষ্কের 'গ্রে ম্যাটার সেল' এ কারণেই চমৎকার, অদ্ভুত, সৃষ্টিশীল।

বেশ কিছুদিন আগে চীনের ব্যবসায়ী জং শানশান কে নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। তিনি মুকেশ আম্বানির পরে এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী হয়েছিলেন। আলিবাবার 'জ্যাক মা'কে টপকে হয়েছিলেন চায়নার সেরা ধনী। যদিও সাময়িক সময়ের জন্যেই জ্যাক মা'কে টপকাতে পেরেছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি পেরেছিলেন। অথচ মানুষটির শুরু কিন্তু মিনারেল ওয়াটার এর বিজনেস দিয়ে!

না, চমকে যাবেন না। তিনি এমন এক সময়ে বোতলজাত পানির কথা ভেবেছিলেন, যে সময়ে মানুষ ভাবতেই পারেনি, এরকম বর্ণহীন-স্বাদহীন-গন্ধহীন তরলও টাকা দিয়ে কেউ কিনতে পারে কিংবা সাদা পানি দিয়েও ব্যবসা করা যায়। ঐ যে বললাম, আইডিয়া! ভিশন! জং শানশান, শুধু মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা করেই গড়ে দিয়েছিলেন ব্যবধান। আরেকটা তথ্য জানাই, জাপানে বেশ কিছু বছর ধরে প্যাকেটজাত বিশুদ্ধ বাতাস বিক্রি করা হচ্ছে! এই অভিনব বিক্রির কথা যখন প্রথমবার শুনি, চমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিবেশের দিকে তাকালে, এটা মোটেও অবাক লাগে না আর। একটা সময়ে গিয়ে হয়তো এরকম বিশুদ্ধ বাতাসের চাহিদা হবে আমাদের সবার। পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের মুখ ঢুকিয়ে দিতে হবে প্যাকেটের বাতাসে। বুকভরে শ্বাস নেয়ার আশায়!

ধান ভানতে শীবের গীত গাইছি। জং শানশান অথবা জাপানের অভিনব বিজনেস আইডিয়া আজকে মূল আলোচনা না। আজকের কথাবার্তার মূল প্রসঙ্গ, সদ্য প্রয়াত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এ হাশেম কে নিয়ে। যিনি তার জীবনকালে বহু শিল্প-প্রতিষ্ঠানে অর্থলগ্নি করেছেন, বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এমন কিছু আইডিয়া নিয়ে  এসেছেন মানুুুুুষের সামনে, যা নিয়ে কেউ কখনো ভাবেনি আগে।

জং শানশানকে দিয়ে এ লেখা শুরু করার পেছনে কারণ আছে। এম এ হাশেম এর সাথে জং শানশানের আছে তীব্র মিল। দুইজনই যুক্ত ছিলেন বোতলজাত পানির ব্যবসার সাথে। এম এ হাশেম যখন বাংলাদেশে বোতলজাত পানি 'মাম' নিয়ে আসেন, তখন হয়তো তার নিজের মনেও শঙ্কা ছিলো, এ পণ্যের ভবিষ্যৎ কতটুকু উজ্জ্বল!  আদৌ এ পণ্য ব্যবসা করবে কী না! বাংলাদেশের মানুষ এখনো স্বাস্থ্য নিয়ে অতটা সতর্ক হয়ে ওঠেনি। রাস্তার পাশের দোকানের একই গ্লাসে হাজার মানুষ ঠোঁট ডুবিয়ে এই করোনাকালেও পানি খাচ্ছে নিয়মিত। সেরকম এক দেশে তিনি যখন বোতলজাত পানির এই আইডিয়া আনেন, সেটা ব্যাকফায়ার করবার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু আইডিয়াটি শেষপর্যন্ত মার্কেট পেয়ে যায়। বাকিটা সবাই জানি আমরা। 'মাম' এর দেখাদেখি বোতলজাত মিনারেল ওয়াটারের অনেক কোম্পানিই এসেছে দেশে, চটকদার বিজ্ঞাপন ও মোড়ক এসেছে, কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড বলতে এখনো আমরা 'মাম'কেই বুঝি৷

এম এ হাশেম বোধহয় বাংলাদেশের গুটিকয়েক শিল্পোদ্যোক্তার মধ্যে অন্যতম যিনি ব্যবসার এত এত বিচিত্র, বিস্তৃত ক্ষেত্রে অর্থলগ্নি করেছেন। মার্কেট স্টাডি করে, অ্যাগ্রেসিভ মার্কেটিং এ না গিয়ে খুব ধীরেসুস্থে এগোতেন তিনি। ঠাণ্ডামাথায় নিতেন সিদ্ধান্ত। অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথেই যুক্ত ছিলেন, এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই একটি বাদ দিয়ে প্রায় প্রত্যেকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকেই পেয়েছেন সফলতা।

ব্যবসাজীবন শুরু করেছিলেন তামাক পণ্যের ব্যবসা দিয়ে৷ এরপর ক্রমশ যুক্ত হয়েছেন নানারকম পণ্যের উৎপাদন ও বিপননের সাথে। সিমেন্ট, ইস্পাত আমদানি করেছেন। খাদ্যপণ্যের সাথেও যুক্ত হয়েছেন। প্লাস্টিক, পার্টিকেল বোর্ড, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট, মিনারেল ওয়াটার, পারটেক্স জুট, পারটেক্স পেপার, আরসি কোলা... এগুলো তো আছেই। এগুলোর পাশাপাশি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি। যুক্ত ছিলেন অজস্র ব্যাংকেরও পরিচালনা পর্ষদের সাথে।

ব্যবসায়ীরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমনিতেই বেশি হয়। একই পেশার একজন আরেকজনের সুনাম কোনোদিনই করতে চায় না৷ এটাই নিয়ম। কিন্তু এম এ হাশেমের ক্ষেত্রে সেটারই ব্যত্যয় হয় যেন। সবাই একবাক্যে তাকেই অনুকরণীয় আদর্শ মানে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন কনসেপ্ট নিয়ে আসা, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যে উদয়াস্ত পরিশ্রম করা, অজস্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা... এগুলো মোটেও সোজা কথা নয়। সেগুলো করার পাশাপাশি মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মান আদায় করে নেওয়া... এই মানুষকে নিয়ে অনেকদিন গবেষণা হবে এদেশের বিজনেস রিসার্চে, তা বলা বাহুল্য।

সমরেশ মজুমদারকে একবার শিবরাম চক্রবর্তী বলেছিলেন-

তোমার বই যখন বাজারে এডিশনের পর এডিশন আসবে, তখন তুমি বড় লেখক না। যখন তোমার লেখা অনুসরণ করে মানুষ লিখবে এবং তোমার বইয়ের পাইরেটেড কপি বিক্রি হবে ফুটপাতে, তখনই তুমি বড় লেখক।

এম এ হাশেমেরও কৃতিত্ব ওখানেই। 'মাম' এর দেখাদেখি বহু বোতলজাত পানি আজ বাজারে। পারটেক্স গ্রুপের পণ্যের দেখাদেখি কপি হয়ে বাজারে আসে অনেক পণ্য৷ এই শিল্পোদ্যোক্তার মূল সাফল্য এখানে। এদেশের ব্যবসাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূলস্রোতে ঢুকিয়ে দেয়ার জন্যে যে কয়জন মানুষকে নিয়ে কথাবার্তা হবে নিয়মিত, তিনি হয়ে থাকবেন তাদের মধ্যে একজন। এখানেই তার উৎকর্ষ। সার্থকতা। অমরত্ব।

পুড়োটা পড়ুন

যাদুর শহর এবং মধ্যবিত্ত মানুষ!

জানুয়ারী ০৩, ২০২১


এলাকায় একসাথে এত টু-লেট কখনো দেখিনি। প্রায় সব বাড়িতেই ভাড়ার নোটিশ। অজস্র মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। কিন্ত সব দোষ কি করোনার? আমাদের মধ্যবিত্তের বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল কি দায়ী নয় এজন্যে?

একটা অপ্রিয় কথা বলি, কিছু মনে করবেন না। আমাদের এই শহরে লাইফস্টাইলে প্রব্লেম ছিলো। শো অফ বেশি ছিলো। নইলে অন্তত ছয় মাস বসে খাওয়ার মতো টাকা সব পরিবারেই জমে থাকার কথা। যতটুকু ইনকাম, কালের স্রোতে গা ভাসাতে যেয়ে খরচ তারচেয়ে বেশি হয়েছে।  যতটুকু স্ট্যাটাস, যতটুকু সামর্থ্য, মানুষ নগদে তার চেয়ে উঁচু তলায় বাস করেছে।

আমি আমার এলাকায় একসাথে এত টু-লেট কখনো দেখিনি। প্রায় সব বাড়িতেই টু-লেটের নোটিশ। অজস্র মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। দুঃখজনক।

৯০ দশকে মানুষের আর্থিক অবস্থা এখনকার চেয়ে অনেক খারাপ ছিল। কিন্তু এই গরীব মানুষদেরই আজীবন যথেস্ট সেভিংস ছিলো, খেয়ে না খেয়ে শহরের কোনায় এক টুকরো জমি ছিলো। গ্রামে একটা স্থায়ী ঠিকানা ছিলো। পরিবার গরীবি হালে চললেও মায়ের আঁচলের গিঁট আর ডানোর খালি ডিব্বাতেও কয়েক গাছি টাকা থাকতো।

আর এখনকার মানুষদের কার্ড ভর্তি লোন, ইন্সটলমেন্ট, ব্যাংক লোন। জমি জিরাতের খবর নেই অথচ শহরের প্রাণকেন্দ্রে টাইলসওয়ালা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতে পারলেই খুশি। সঞ্চয়ের খবর নেই অথচ ঘোরাঘুরি আর রেস্টুরেন্টে খেতে পারলেই খুশি। পকেটে টাকা নেই তাই মন মানসিকতা মলিন, অথচ পার্লারে/সেলুনে হাজার টাকা খরচে ফেসিয়াল করে চামড়া চকচকে করতে পারলেই হলো। এটা কোনো লাইফ?

কেউ এখন আর ঘরের ড্রইংরুমে আড্ডা দেয়না। পাঁচ দশ টাকার বাদাম কিনে ছাদে গোল হয়ে বসে গল্পগুজব করেনা। সবার ফাস্টফুডের দোকানে যেতে হবে। মাল্টিপ্লেক্সেই মুভি দেখতে হবে। শখের সব খেলনাই কিনতে হবে। এফেয়ার করতেই হবে, ভ্যালেন্টাইন ডে থেকে শুরু করে চকলেট ডে কিস ডে সব সেলিব্রেট করতে হবে। অথচ বিশ বছর আগেও রেস্পন্সিবল লাইফ কাটাতে হবে দেখে অনেক ছেলে চাকরী পাবার আগে মেয়েদের ধারে কাছেও যেতোনা। এখন সবাই হিরো, পাপাস প্রিন্স, মাম্মাস প্রিন্সেস।

এসব করে মাসে মাসে যে পাঁচ সাত হাজার টাকা বেশি খরচ করেছে, সেটা জমালে বছরে ৬০-৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জমতো। দশ বছরে ৬-৭ লাখ টাকা। যেটি দিয়ে এখন ঘরে বসে ছয় সাত মাস বড়লোকের মতোই পরিবারগুলো কাটাতে পারতো। অথচ সেটা না করে বরং গর্ব ভরে মিম শেয়ার করেছে যে মানিব্যাগে পাঁচশো নিয়ে বের হলে এক ঘন্টা পরে ভাংতি বিশ ত্রিশ টাকার বেশি থাকেনা।

একটু রোজগার করতে পারলেই একান্নবর্তী পরিবার থেকে সবাই আলাদা হয়ে গেছে। ইউনাইটি কি জিনিস ভুলে গেছে। গ্রামের শেকড় ভুলে গেছে গর্বের সাথে, অথচ গ্রাম থেকে বছরে দু চার আসা বস্তা ভর্তি আম কাঠাল বা চাল/মুড়ির কি বরকত সেটা বুঝতে চায়নি। ছুটিতে কক্সবাজারের ফাইভ স্টার হোটেলে খরচ না করে গ্রামের বাড়িতেও যে বেড়ানো যায় সেটা বুঝেনি। আগে মানুষ কয়েক বছরে এক আধবার লাক্সারি ট্যুর দিতো। আর এখন  প্রতি বছর লাখ টাকা খরচ করে ইন্সটলমেন্টে হলেও দেশ-বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছে দুইটা ফটো তোলার জন্য।

আমি গত পাঁচ সাত বছরে এই শহরে মধ্যবিত্ত বলে কিছু দেখিনি। সবার ঠাঁঠবাট প্রায় একরকম। তবে এখন দেখছি, গত কয়েক মাস ধরে। এত খরুচে আর ভোগপণ্যের দাস হয়ে আজীবন বর্তমানে বেঁচে থাকতে গিয়ে দুই-তিন মাসের ভবিষ্যত নিরাপত্তাটা নিয়েও ভাবার ক্ষমতা হারানো এই শহরবাসীদের এখনকার বাস্তবতা খুব দুঃখজনক।


পুড়োটা পড়ুন

দেড়শ বছরের আলাউদ্দিন সুইটমিটের ঐতিহ্যের গল্প

জানুয়ারী ০৩, ২০২১

 ১৮৬৪ সালে নিমকি, সমুচা আর কিছু মিষ্টিদ্রব্য নিয়ে চকবাজারে একটি দোকান খুলে বসেছিলেন আলাউদ্দিন হালওয়াই। 'আলাউদ্দিন সুইটমিট' নামের সে দোকান দেড়শো বছর পেরিয়ে আজও রাজত্ব করছে সুনামের সাথে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও যে প্রতিষ্ঠানের মিষ্টিকে সবাই চেনে এক নামে!


এই বঙ্গদেশের মানুষের মিষ্টি নিয়ে আদিখ্যেতা জগদ্বিখ্যাত। সারা পৃথিবীতে আর কোনো জাতির মানুষের মিষ্টি নিয়ে এতটা মাতামাতি নেই, যতটা আমরা লক্ষ্য করি বাঙ্গালীদের ক্ষেত্রে। সেজন্যেই একটু খেয়াল করলেই দেখতে পারা যাবে, এপার বাংলা আর ওপার বাংলা মিলিয়ে বিখ্যাত সব মিষ্টির দোকান। এমন সব দোকান, যারা বছরের পর বছর ধরে জগদ্বিখ্যাত মিষ্টি ও মিষ্টান্ন বানিয়ে খাইয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর মানুষজনকে। আমরা জানি,  বাঙ্গালীর যেকোনো কবজি ডুবিয়ে খাওয়া ভোজনের শেষপাতে রসগোল্লা-দই না এলে কেন যেন অপূর্ণই থাকে সব। ২০২০ সাল শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ। যদিও তিতকুটে এক বছরই শেষ হচ্ছে এবার, তবুও শেষপাতে নাহয় মিষ্টি দিয়েই ইতি টানি। এমন এক মিষ্টির দোকানের গল্প দিয়েই শেষ করি আজ লেখা, যে দোকান ব্রিটিশ আমল থেকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আসছে এই উপমহাদেশের আপামর মানুষকে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, বলছি আলাউদ্দিন সুইটসের কথা।

আলাউদ্দিন সুইটসের সূচনা হয় উনিশ শতকের শুরুর দিকে৷ আলাউদ্দিন হালওয়াই নামের এক মানুষ ছোটখাটো এক মিষ্টির দোকান খুলে বসেন ভারতের লক্ষ্ণৌতে। অসাধারণ স্বাদের মিষ্টি আর খুব কম দাম হওয়াতে, অল্পদিনের মধ্যে ব্যবসার সুনাম হয়ে যায় বেশ। আলাউদ্দিন তখন ভাবলেন, ব্যবসা বাড়াতে হবে৷ ছড়িয়ে দিতে হবে চারদিকে। কোথায় শাখা খোলা যায় ভাবতে ভাবতে তিনি পেয়ে গেলেন বাংলাকে। ঢাকার চকবাজারে খুলে ফেললেন আলাউদ্দিন সুইটের দ্বিতীয় শাখা। নাম একটু পরিবর্তন করে করা হলো- আলাউদ্দিন সুইটমিট।

এরপর থেকে দেড়শো বছর ধরে আলাউদ্দিন সুইটমিট আছে ঢাকার চকবাজারে। অল্প দামে মানসম্মত মিষ্টি বিক্রি করে দেড়শো বছর ধরে সুনাম ধরে রেখেছে এই প্রতিষ্ঠান৷ এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, চকবাজারের এই জৌলুশহীন দোকানটি সময়ের বহু চলকে অনেক ইতিহাসের সাক্ষীও হয়েছে। অসহযোগ আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, দেশভাগ, মানচিত্রের কাটাকুটি... সব কিছুরই নীরব প্রত্যক্ষদর্শী  কাক-ভূশণ্ডি এই দোকান। এছাড়াও ভাষা আন্দোলন, গন অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ও দেখেছে আলাউদ্দিন সুইটমিট।

একাত্তরে এই দোকানটি পুড়িয়েও দিয়েছিলো দুর্বৃত্তেরা। সেখান থেকে আবার ঘুরে দাঁডিয়েছে আলাউদ্দিন হালওয়াই এর বংশধরেরা। শুধু যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা না, বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ড। সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সাভার ও গাজীপুরে এতিমখানা ও মাদ্রাসা পরিচালনা করে তারা৷ বিভিন্ন স্কুল, মসজিদের পরিচালনাও করছে এই প্রতিষ্ঠান, সময়ের সাথে সাথে।

আলাউদ্দিন সুইটমিটের মিষ্টি, সেমাই, ঘি সহ আরো পণ্য ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বাইরেও। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর সহ অনেক দেশেই রপ্তানি করা হয় এগুলো। এছাড়া আলাউদ্দিন সুইটমিটের শাখা আছে লন্ডন আর নিউ ইয়র্কেও৷ তারা চান পৃথিবীর আরো বহু দেশে ছড়িয়ে দিতে বাংলা মুলুকের এই মিষ্টান্নের স্বাদ।

যেকোনো ব্যবসার সাফল্যের একটাই মূলসূত্র- গ্রাহকের বিশ্বাস। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একবার এই বিশ্বাস অর্জন করতে যদি সক্ষম হয়েই যায়, তবে তাদের আর টলানো যায় না। যেটি আমরা লক্ষ্য করি আলাউদ্দিন সুইটমিটের ক্ষেত্রে। সময়ের বহু প্রকোষ্ঠ দেখেছে এই প্রতিষ্ঠান। অনেকবার ধাক্কা খেয়েছে। নড়ে গিয়েছে। কিন্তু আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই ঘুরে দাঁড়ানোটা সম্ভব হয়েছে গ্রাহকদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের কারণে। আলাউদ্দিন সুইটমিট এভাবেই সুনামের সাথে আরো অজস্র বছর টিকে থাকুক, এটাই প্রত্যাশা ও কামনা।

পুড়োটা পড়ুন

বছরের শুরুতেই বেস্ট বাজেটে তিনটি স্মার্টফোন!

জানুয়ারী ০২, ২০২১

স্মার্টফোন বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের সাথে মিশে থাকা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি স্মার্টফোন ছাড়া এই সময়ে একটি দিনও পার করা মুশকিল হয়ে পড়ে। নানান কাজে এবং নানান প্রয়োজনে আমাদের একটি ভালো মানের স্মার্টফোন লাগেই। ভালো একটি স্মার্টফোন খুব প্রয়োজন হলেও, বাজেট সবসময় আমাদের নাগালের ভেতরে থাকেনা; তবে ভালো স্মার্টফোন কিন্তু দরকার! সে জন্য বছরের প্রথমে নাগালের ভেতর দামে কেনার মত ভালো তিনটি স্মার্টফোন নিয়ে আলোচনা করব। আর এই স্মার্টফোনগুলো হচ্ছেঃ প্রিমে আরএম৪, প্রিমো এইচ৯ এবং প্রিমো জিএইচ৯।

প্রিমো আরএম৪ - Primo RM4

'এভরিথিং ইউ ওয়ান্ট’ ট্যাগলাইন যুক্ত প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে পাবেন; ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের অক্টাকোর হেলিও এ২৫ চিপসেট থেকে শুরু করে ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ, ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৪ জিবি র‍্যাম সহ আরো অনেক কিছু! স্মার্টফোনটির দাম ১০১৯৯ টাকা।

একনজরে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন

  • ১৯.৫ঃ৯ এস্পেক্ট রেশিও সমৃদ্ধ ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল
  • ১২ ন্যনোমিটার প্রযুক্তির ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের অক্টা-কোর হেলিও এ২৫ চিপসেট
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি র‍্যাম
  • ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • দামঃ ১০১৯৯ টাকা

প্রিমো এইচ৯ - Primo H9

ওয়ালটনের এই ফোনটিতে থাকছে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা, রিয়ার মাউন্টেড ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার, ৩ জিবি র‍্যাম ও ৩২ জিবি স্টোরেজ। সম্পূর্ণ ডিভাইসকে স্পিড দিবে ARM Cortex-A55 স্ট্রাকচারের ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রোসেসর। স্মার্টফোনটির দাম ৭৩৯৯ টাকা।

এক নজরে প্রিমো এইচ৯

  • ১৯ঃ৯ রেশিও, ৬.১ ইঞ্চি ইউ-নচ সমৃদ্ধ ডিসপ্লে
  • ১.৬ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর
  • PowerVR Rouge GE8322 জিপিইউ
  • ৩ জিবি ডিডিআর৪ র‍্যাম এবং ৩২ জিবি রম, ১২৮ জিবি পর্যন্ত এসডি কার্ড সাপোর্ট
  • ১৩ মেগাপিক্সেল এবং ২ মেগাপিক্সেল সেন্সর নিয়ে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা মডিউল
  • ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ৩৫০০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
  • দামঃ ৭৩৯৯ টাকা

প্রিমো জিএইচ৯ - Primo GH9

আজকের তালিকার সবচেয়ে সাশ্রয়ী দামে অনবদ্য এই ফোনটি হচ্ছে প্রিমো জিএইচ৯। প্রিমো জিএইচ৯ স্মার্টফোনটিতে পাবেন ১.৮ গিগাহার্জ হেলিও এ২০ প্রোসেসর এবং ২ জিবি র‍্যাম ও ১৬ জিবি স্টোরেজ। স্মার্টফোনটির দাম ৬৭৯৯ টাকা।

একনজরে প্রিমো জিএইচ৯

  • ৪জি কানেক্টিভিটি
  • হেলিও এ২০ চিপসেট
  • এন্ড্রয়েড ১০
  • ৬.১ ইঞ্চি ১৯ঃ৯ রেসিও সমৃদ্ধ ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে
  • ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • দামঃ ৬৭৯৯ টাকা
নানাকারনে আমাদের বিভিন্ন সময় একটি ভালো এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনার প্রয়োজন পরেই। সেই হিসেবে বাজেট যখন কম তখন আজকের তালিকা থেকে আপনার বাজেট রেঞ্জ অনুযায়ী এই তিনটি থেকে যেকোন একটি স্মার্টফোন কিনতে পারেন নিঃসন্দেহে।

পুড়োটা পড়ুন