এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যাঃ যেখানে পড়াশোনার সবকিছু কেবল মানুষকে নিয়ে

  কোন মন্তব্য নেই
এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যাঃ যেখানে পড়াশোনার সবকিছু কেবল মানুষকে নিয়ে

এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ব এমন একটি বিষয় যেখানে মূলত পড়াশোনা করা হয় মানুষের ব্যাপারে। আমরা সাইন্সের কিছু বিষয় পড়ি, বোটানি বা জুলজি। বোটানি বা উদ্ভিদবিজ্ঞানে আমরা উদ্ভিদ সম্পর্কে পড়াশোনা করি, আবার একইভাবে প্রানিবিজ্ঞানে বা জুলজিতে পড়ি জীবজগত সম্পর্কে। এনথ্রোপলজি ঠিক এমন একটি সাইন্স যেখানে কেবল পড়াশোনা করা হয় মানুষ নিয়ে। এই এনথ্রোপলজি সামগ্রিক ভাবে মানুষ এবং মানুষের আচরন নিয়ে কথা বলে। এনথ্রোপলজি একটি বিষয় যেখানে মানুষ নিয়ে খুবই গভীর এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা এবং গবেষণা করা হয়। আমরা যদি এনথ্রোপলজি শব্দটিকে বিশ্লেষণ করি, তাহলেই এই বিষয়টি সম্পর্কে খুব সহজেই মিল ধারনা পেতে পারব। এনথ্রোপলজি নামটি এসেছে গ্রিক শব্দ এনথ্রোপো (anthropo) থেকে যার মানে হচ্ছে মানুষ। আর লজি (logy) মানে আমরা জানি পড়াশোনা। একজন মানুষের উৎপত্তি, তার আচরন, তার মানুষিক আচরন, তার সামাজিক আচরন সবকিছু এই এনথ্রোপলজির আলোচ্য অংশ।

 Human To Study

 এনথ্রোপলজি’কে বলা হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট, কেননা নানা দিক থেকে এনথ্রোপলজি সাইন্সের তথা বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়াদির সাথে যুক্ত। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, মানুষ এর সাথে জড়িত বিজ্ঞানের আরও কিছু বিষয় যেমন, এনাটমি, ইকোলজি, জেনেটিক্স এসবের সাথে এনথ্রোপলজি খুব ভালভাবে জড়িত। এনাটমি মানুষের দেহের ভেতরকার অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে তুলনা করে, জেনেটিক্স তুলনা করে মানুষের আগের প্রজন্ম এবং বর্তমান প্রজন্ম আবার ইকলজি তুলনা করে বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানুষের সার্বিক অবস্থান, আর এমন সকল বিষয়কেই এনথ্রোপলজি তুলে ধরে। এনথ্রোপলজি এমন একটি সাইন্স যা মানুষের সবদিকেই সমানভাবে ফোকাস করে, বাকি সাইন্স যেমন এনাটমি, ইকোলজি, জেনেটিক্স, সাইকলজি এর মত কেবল একটি দিক নিয়ে থাকে না।

 যে বিষয়গুলো নিয়ে এনথ্রোপলজি এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ব

  •  এনাটমি:  এনাটমি মানুষের দেহের ভেতরকার অঙ্গপ্রতঙ্গের ভেতর অবস্থান এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে।
  • ইকোলজি: ইকোলজি বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং তার অবস্থান নিয়ে কথা বলে। 
  • জেনেটিক্স : জেনেটিক্স মানুষের বংশপরম্পরার ভেতর আচরণগত মিল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করে।  
  • সাইকলজি: সাইকলজি একজন মানুষের মানুষিক অবস্থা কেমন এবং তার মস্তিষ্কের পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা দেয়। 
  •  প্যাথলজি : প্যাথলজি মানুষের শরীরের সাথে তার রোগের সম্পর্ক এবং রোগের উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করে।
  •  ইকোনমিক্স: ইকোনমিক্স আলোচনা করে মানুষের অর্থবিত্ত এবং সম্পদের ব্যাপারে। 
  • সোসিয়ালজি : সোসিয়ালজি আলোচনা করে সমাজে সেই মানুষটির অবস্থা কেমন, এবং সে সমাজের সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত, এ বিষয়ে। 


 আসলে আমরা মানুষ দেখতে কেনো এরকম, তা যে বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তার নাম এনথ্রোপলজি। কয়েকটি কারণে এনথ্রোপলজিকে একটি জটিল বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। প্রথমত, সময় এবং কাল হিসেবে আলাদা আলাদা জনপদে বিভিন্ন মানবসভ্যতার ভেতর কি কি পরিবর্তন এসেছিল, এনথ্রোপলজি তা নিয়ে গবেষণা করে। সময় এবং কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন মানবসভ্যতার কেনো পরিবর্তন এসেছিল, তা থেকে তারা কিভাবে উত্তরিত হয়েছে সার্বিক বিষয় নিয়ে নৃতত্ত্ববিদ্যা তথা এনথ্রোপলজিতে পড়াশোনা এবং গবেষণা করতে হয়।

 দ্বিতীয়ত, একে বলা হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট। বা কম্বাইন্ড হিউম্যান সাইন্সেস বলতে পারি। এখানে উপরে উল্লেখিত সকল বিষয়াদি থেকে নানা সময় সঠিক রেফারেন্স টানতে হয়। আর সেকারনে এটি সাইন্সের অন্যান্য বিষয়ের মত একমুখী নয়, বহুমুখি এই কারনেও এটি একটি কমপ্লেক্স তথা জটিল বিষয়। বলা হয় বানর থেকে মানুষের উৎপত্তি। কিন্তু বানর তো চারপায়ে চলতো, সেখান থেকে আধুনিক মানুষ কিভাবে উৎপত্তি পেলো, তা আলোচনা করা হয় এনথ্রোপলজিতে। তৃতীয়ত, এনথ্রোপলজি বা নৃতত্ত্ববিদ্যা এমন একটি বিষয়, যা আলোচনা করে মানবজাতির উৎপত্তি সম্পর্কে। মানুষের উৎপত্তি কোথায় হল এবং কিভাবে মানব জাতি বিবর্তিত হয়ে আজকের আধুনিক মানুষে পরিনত হয়েছে তা আলোচনা করা হয় এনথ্রোপলজিতে। সময়ের পরিক্রমায় আসলে কি পরিবর্তন এসেছিল যা কালে কালে মানুষকে পরিবর্তন করেছে সবদিক দিয়ে তা গবেষণা করা হয়। 

এনথ্রোপলজিতে আগের সময়কার তত্ত্ব গবেসনার জন্য দরকার হয় প্রমান, কেননা এখানে তো আর আগের সময়ে ফিরে যাওয়া যাচ্ছে না। এনথ্রোপলজিতে এই এভিডেন্স বা প্রমান হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফসিল। অর্থাৎ এমন কিছু মানব অঙ্গ, আমরা উদাহরন হিসেবে হাড়, মাথার খুলি। যা বহু বছর আগে থেকে মাটির নিচে ছিল। এই সব ফসিল থেকে সেই মানুষের বেচে থাকার সময় এবং তাদের দৈহিক অবস্থা সম্পর্কে জানান পাওয়া যায়। এসব ফসিল মাটির কোন লেয়ার থেকে পাওয়া যায়, তার অপর ধারনা পাওয়া যায় এসি ফসিলটি আসলে কোন সময়কালের, আর সেই সময়কালের সাথে আমাদের সম্পর্কটা কোথায়।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন