মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যু

  কোন মন্তব্য নেই
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। আমরা ছোটবেলা থেকে গোপাল ভাঁড়ের গল্পে গোপাল ভাঁড়কে যে রাজার দরবারে জেতে শুনেছি, তিনিই ছিলেন নবদ্বীপের রাজা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম অনুসারেই নবদ্বীপের নামকরণ করা হয়েছিল কৃষ্ণনগর। আর আমরা যারা গোপাল ভাঁড়ের গল্প পরেছি, তারা এই কৃষ্ণনগর নামটির সাথে খুব ভালভাবেই পরিচিত। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অবদানের কারনেই চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরে জগদ্বার্থী পূজা আয়োজিত হয়ে আসছে, যা এখনো খুবই জাঁকজমক এর সাথে পালিত হয়।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যু


নদীয়ার রাজবংশের শ্রেষ্ঠ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের জন্ম ১৭১০ সালে। তার পিতা রঘুরাম রায়ের মৃত্যুর পর ১৭২৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি নদীয়ার রাজা হয়েছিলেন। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজনৈতিক দিক থেকে ছিলেন বেশ কৌশলী। পলাসি যুদ্ধের আগে বাংলায় কেবল ৭ জন হিন্দু রাজা ছিলেন, যাদের ভেতর একজন হলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। এদের ভেতর সবচাইতে বিচক্ষণ ছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার মুসলিম শাসকদের শাসন করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। আর এই সময় ব্রিটিশরা যেকোনো সময় পুরো ভারতবর্ষ এর ক্ষমতা দখল করতে পারে, তা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় তা বুঝতে পেরেছিলেন। আর তিনি এই বিসয়টি বাংলার অন্য ৬ জন হিন্দু রাজাকে বোঝাতে সক্ষম হন।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় অন্য হিন্দু রাজাদের বোঝাতে সক্ষম হন তাদের সনাতন ধর্ম মুসলিম শাসকদের হাতে নিরাপদ নয়। বরং ব্রিটিশদের কাছে তাদের ধর্ম বেশি নিরাপদ। আর তাই সকল হিন্দু রাজাদের সমর্থন নিয়ে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র হাত মিলান লর্ড ক্লাইভ এর সঙ্গে।

তিনি ধর্মের স্বার্থে নিজের স্বকীয়তাকে ইংরেজদের হাতে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রবার্ট ক্লাইভ এর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে নেন। ১৭৫৭ সালে যখন রবার্ট ক্লাইভ নবাব সিরাজুদ্দউলা এর সাথে পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধে লিপ্ত হন; সেসময় রনক্ষেত্রে জাওয়ার আগে রবার্ট ক্লাইভ এই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রাসাদে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।

রবার্ট ক্লাইভ ,নবাব সিরাজুদ্দউলা এর ভেতর যুদ্ধে নবাব সিরাজুদ্দউলা পরাজিত হন। আর সেসময় বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার নবাব হন মীর জাফর। আর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের পর বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার সিংহআসনে বসেন মীর কাশিম।

আর মীর কাশিম মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য স্বীকারএর কারনে শাস্তি হিসেবে তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। আর চরম দেশদ্রোহের শাস্তি স্বরূপ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের ফাঁসি কার্যকর হয়।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন