দক্ষিণ চীন সাগর : আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু যে অঞ্চল

  কোন মন্তব্য নেই

১৯৩৭ সালে জাপান আক্রমণ করে চীনকে। তখন দক্ষিণ চীন সাগরের বেশ কিছু অঞ্চল চলে যায় জাপানের অধীনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পন করলে চীন তাদের হারানো অঞ্চল ফিরে পায়। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন রিপাবলিক অব চায়নার জাতীয়তাবাদী দল কুওমিনট্যাং চীনের নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। এতে চীনের মূল ভূখণ্ডের নিচে দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর এগারোটি ড্যাশ লাইন আঁকা হয়। একে বলা হতো ‘ইলিভেন ড্যাশ লাইন’।  
১৯৪৯ সালে চীনে গৃহযুদ্ধের অবসান হলে ক্ষমতায় আসে মাও সে তুং এর চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তারা গঠন করে পিপল’স রিপাবলিক অব চায়না। অন্যদিকে কুওমিনট্যাং পালিয়ে চলে যায় তাইওয়ানে। কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৫৩ সালে ইলিভেন ড্যাশ লাইনকে আরেকটু সরলীকরণ করে নয়টি ড্যাশ লাইন আঁকে। একে বলা হয় ‘নাইন ড্যাশ লাইন’।

চীনের বিতর্কিত 'নাইন ড্যাশ লাইন'; Image Source: CNBC/Youtube

চীন এই নাইন ড্যাশ লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় নব্বই ভাগ অঞ্চল নিজেদের দাবি করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই অঞ্চল তাদের ঐতিহাসিক অধিকার। কারণ, কিং রাজবংশ ও অন্যান্য শাসনামলে এসব অঞ্চল চীন থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। অন্তত চীনের দাবি এমনই। চীনে ছাপা হওয়া সব মানচিত্র, গুগল ম্যাপের চীনা সংস্করণ বাইডু ম্যাপ, চীনা পাসপোর্ট সব জায়গায় চীনের মানচিত্রে নাইন ড্যাশ লাইন যোগ করা।
তবে চীনের এই দাবি এই অঞ্চলের আরো পাঁচটি দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা হচ্ছে ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ফিলিপাইন। চীনের নাইন ড্যাশ লাইনে এসব দেশেরও কিছু অঞ্চল চলে এসেছে। এর মাঝে তাইওয়ানকে তো চীন নিজেদেরই প্রদেশ মনে করে। আবার, ফিলিপাইনে গিয়ে আপনি দক্ষিণ চীন সাগর বলে কিছু পাবেন না। কারণ, তাদের কাছে এই সাগরের নাম পশ্চিম ফিলিপাইন সাগর

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ানো একাধিক দেশ; Image Source: Forbes

বোঝাই যাচ্ছে, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে এই অঞ্চলে চলছে গভীর সংকট। এই সংকট গত কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। আজও তার সমাধান হয়নি। শুধু এই ছয়টি দেশই নয়, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, তাইওয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই অঞ্চলে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশংকায় আছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই অঞ্চল নিয়ে আগে শুধু অ্যাকাডেমিক দিক দিয়েই দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে চীন এই অঞ্চলে সামরিক শক্তিও বৃদ্ধি করা শুরু করেছে। কেন এত সংকট এই অঞ্চল নিয়ে? কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল?   

দক্ষিণ চীন সাগর সংকট

জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র তাদের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সামুদ্রিক অঞ্চল নিজেদের দাবি করতে পারে। তাছাড়া ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অঞ্চলকে বলা হয় এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন। এই অঞ্চলে তারা প্রাকৃতিক সম্পদ আরোহন, জলজ প্রাণী বা মৎস্য আরোহন, কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ ইত্যাদির স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। চীনের নাইন ড্যাশ লাইন অনুযায়ী, তারা মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার সামুদ্রিক অঞ্চল নিজেদের দাবি করছে। এই অঞ্চলে রয়েছে বেশ কিছু দ্বীপপুঞ্জ। যেমন- স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ, স্কারবরো শোল অঞ্চল, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জসহ বেশ কিছু প্রবাল দ্বীপ।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধিতায় জড়িত দেশগুলোর দাবিকৃত অঞ্চল; Image Source: Inquiries Journal

বর্তমানে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ২১টি দ্বীপ ভিয়েতনামের অধীনে রয়েছে। তারা ১৯৮৮ সালে চীনের সাথে যুদ্ধে সাউথ জনসন রীফ অঞ্চল হারায়। ভিয়েতনাম দাবি করে, স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ তাদের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ২০০ নটিকেল মাইলের মধ্যে। সুতরাং, জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ তাদের। ১৯৭৫ সালে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম একীভূত হয়ে যায়। তারপর থেকে তারা দাবি করছে প্যারাসেল দ্বীপও তাদের। যদিও ১৯৫৮ সালে উত্তর ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলকে চীনের অধীনে বলেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
ফিলিপাইন জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী ও ঐতিহাসিক দাবির প্রেক্ষিতে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও স্কারবরো শোল অঞ্চল নিজেদের মনে করে। এই অঞ্চল নিয়ে ফিলিপাইনের সাথে চীনের দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীন এই অঞ্চলে তাদের পতাকা টানিয়ে রাখলে ফিলিপাইনিরা সেগুলো তুলে ফেলে। চীন সন্দেহ করে ফিলিপাইনিরা সমুদ্রে মাছ ধরার নামে চীনের ওপর নজর রাখছে।
জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী, ব্রুনাইয়ের দাবি স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের লুইসা রীফ অঞ্চল তাদের। মালয়েশিয়াও তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের দাবি করছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের দাবি চীনের মতোই। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাইওয়ানের জাতীয়তাবাদী দল কুওমিনট্যাংই চীনের ড্যাশ লাইন ব্যবস্থার প্রচলন করেছিল।

দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্ব

দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক অঞ্চল। এই অঞ্চল এশিয়ার সাথে আফ্রিকা ও ইউরোপের যোগাযোগ রক্ষা করছে। তাই এই অঞ্চল বাণিজ্যক ও সামরিক দিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ চীন সাগরের তলদেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের সমাহার। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যানুযায়ী, এই অঞ্চলে ১১ বিলিয়ন গ্যালন তেল ও ১৯০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে।
তবে চীন সরকারের অধীনের এক কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, সেখানে প্রকৃতপক্ষে ১২৫ বিলিয়ন গ্যালন তেল ও ৫০০ ট্রিলিয়ন ঘন ফুট প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। চীন প্রতিবছর ৪.৫ বিলিয়ন গ্যালন তেল ব্যবহার করে। সুতরাং, এই অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তারা কয়েক দশকের খনিজ শক্তির যোগান পাবে।

দক্ষিণ চীন সাগরের তলদেশে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ; Image Source: CNBC/Youtube

তাছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর সেখানে ৩.৩৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য জাহাজে বহন করা হয়। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের শতকরা ৩০ ভাগ পরিবহণ করা হয় এই অঞ্চল দিয়ে। চীনের আমদানিকৃত তেলের শতকরা আশি ভাগ ইন্দোনেশিয়ার মালাক্কা প্রণালী দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর হয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছে।
এছাড়া এই অঞ্চলে বিশ্বের শতকরা দশ ভাগ মৎস্য সংগ্রহ করা হয়। তাই এই অঞ্চল লক্ষ লক্ষ মানুষের খাদ্যের উৎসও।
গত ৭০ বছরে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক কার্যক্রম ছিল না বললেই চলে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের সার্বভৌমত্ব দাবি করা দেশগুলো কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করছিল। এই অঞ্চলে পাহারা দেয়ার কাজ হতো নৌবাহিনী ও কিছু অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মাধ্যমে। সামরিক কার্যক্রম না হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সেনা ক্যাম্প তৈরির মতো প্রয়োজনীয় ভূমির অভাব। তবে চীনে শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই চিত্র পাল্টে গেছে।
২০১৪ ও ২০১৫ সালের মধ্যে চীন এই অঞ্চলে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করা শুরু করেছে। তারা সাতটি দ্বীপে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। দ্বীপগুলো হচ্ছে সুবি রিফ, মিশচিফ রিফ, জনসন সাউথ রিফ, হিউজেস রিফ, গেভেন রিফ, ফিয়েরি ক্রস রিফ ও কোয়ারটেরন রিফ। চীন অবশ্য বলে তারা সামরিকায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করছে না।

স্যাটেলাইট থেকে তোলা স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের একটি অংশে চীনের নির্মাণাধীন কৃত্রিম দ্বীপ; Image Source: Digital Globe/AFP/Getty Images

স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ফিয়েরি ক্রস রিফে চীন ৩.১ কিলোমিটার এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ করেছে। এতে যেকোনো চীনা সামরিক বিমান এখানে অবতরণ করতে পারে। এছাড়া এখানে বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে যেন মূল ভূখণ্ড থেকে সামরিক ট্যাংক নিয়ে আসা যায়। সুবি রিফ দ্বীপকেও চীন স্থায়ী সামরিক আস্তানা বানিয়ে ফেলেছে। এর মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরেই থিটু রিফে ফিলিপাইনের সেনারা ঘাঁটি বানিয়েছে। এছাড়া মিশচিফ রিফে দ্বীপ নির্মাণ নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের জনগণের বিক্ষোভের ঘটনাও আছে।
এই অঞ্চল নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও তারা সবাই-ই চায় এখানে মুক্তভাবে নৌযান চলাচল করুক। কারণ, এতে সব দেশেরই ব্যবসায়িক স্বার্থ আছে। চীন ব্যবসায়িক দিকের পাশাপাশি চাইছে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয়ার। কারণ, এতে তারা জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী হতে পারবে। একইসাথে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ভবিষ্যতের সুপার পাওয়ার হওয়ার দিকেও অনেকখানি এগিয়ে যাবে। এই উদ্দেশ্যেই ২০১৩ সাল থেকে প্রায় ৩,২০০ একর জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন।
কিন্তু অন্য দেশগুলো চীনের এই আগ্রাসনকে ভালো চোখে দেখছে না। ফিলিপাইন ২০১৩ সালে নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর রায় হয় ২০১৬ সালে। আদালত রায় দেয় চীনের বিপক্ষে। চীনের নাইন ড্যাশ লাইন ও ঐতিহাসিক অধিকারের দাবি অযৌক্তিক মনে হয় আদালতের কাছে। তবে চীন এই রায় প্রত্যাখ্যান করে। তারা বরং দ্বীপাঞ্চলগুলো আরো দখলে মনোযোগ দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

চীনের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে যে দেশগুলো আছে তাদের বন্ধু রাষ্ট্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবেই দেখে একে।

চীনের আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই তাদের যুদ্ধ জাহাজ প্রদর্শনী করে দক্ষিণ চীন সাগরে; Image Source: US Navy

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য এই জলপথ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলে মুক্ত নৌযান চলাচল নিশ্চিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও প্রয়োজন। তাই তারা আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব নিরসনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই এখানে কাজ করে। সামরিক অস্ত্রে সুসজ্জিত নৌবহর নিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র মহড়া দেয়। চীন যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এই নাক গলানো মনোভাবের জন্য বারবার সতর্ক করছে তাদের।

সংকট উত্তরণের সম্ভাব্য উপায়

সংকট যেমন জটিল, তা উত্তরণের উপায়ও আছে। এজন্য দরকার দ্বন্দ্বে জড়িত প্রতিটি দেশের সদিচ্ছা। তারা যদি এই অঞ্চলের সম্পদ উৎপাদনে একে অন্যকে সহযোগিতা করে ও নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়, তাহলে এই সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। প্রাকৃতিক গ্যাস, মৎস্য আরোহণ, তেল উৎপাদনে প্রত্যেকে সহযোগিতা মনোভাবে কাজ করলে অবৈধ কার্যক্রমও কমে যাবে। তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও একত্রে কাজ করতে পারে।
তারা নিজেদের সামরিক বাহিনীর সংলাপের মাধ্যমেও সংকট উত্তরণে কাজ করতে পারে। বড় কোনো সংঘাত এড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ নিজেদের মধ্যে হটলাইন নির্মাণ করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই হয়তো মধ্যস্থতা করতে আসবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বিরোধিতা থাকায় আসিয়ান বা সিঙ্গাপুরের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোও ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য কূটনৈতিক আলোচনা যে হচ্ছে না, তা নয়।

শেষকথা

শান্তিপূর্ণ আলোচনায় সমাধান না হলে একসময় হয়তো যুদ্ধের দিকেই গড়াবে এই সংকট। সেটা হতে পারে একে অন্যকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কয়েক দশক ধরে চলা এই সংকট হয়তো খুব দ্রুতই সমাধানের নিশ্চয়তা নেই। বরং, চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সুপার পাওয়ার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সংকট আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। দক্ষিণ চীন সাগরেই যে সংকট তা নয়। উত্তর চীন সাগরেও চীনের সাথে জাপানের কয়েক দশক ধরে একটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সহসাই এসব সংকট সমাধানের লক্ষণ নেই।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন