একজন অতিরিক্ত সচিবকেই যদি এভাবে মরে যেতে হয়...

বাংলাদেশ সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব তিনি। কিডনির জটিলতায় অসুস্থ হয়ে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে ও চিকিৎসা পাননি। বাধ্য হয়ে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে মারা যান।


ওই অতিরিক্ত সচিবের মেয়ে সুস্মিতা একজন চিকিৎসক। যে ৩৩৩ হটলাইন নম্বর থেকে সরকার স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সুম্মিতা। আফসোস করে তিনি বললেন, “বাবার আইসিইউ সাপোর্টটা খুব দরকার ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। বাবার চিকিৎসাই হল না, তিনি মারা গেলেন। আমি ডাক্তার হয়েও কিছু করতে পারলাম না।”

সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব যার মেয়েও চিকিৎসক তাদের যদি এই অবস্থা হয় সাধারণ মানুষের কি দুর্ভোগে বুঝতে খুব একটা কষ্ট হয় না। এই সমস্যার সমাধান কি? কিভাবে বন্ধ হবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ? 

আমার মনে হয় আমরা যদি এই মুহূর্তে সব সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি সব হাসপাতালগুলো খোলা রাখতে পারতাম! সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে এই ই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হবে। আর এই হাসপাতালে অন্যসব রোগীরা যাবেন। অন্যান্য রোগের রোগীরা যেখানে যাবেন সেই হাসপাতালেও তৎক্ষণাৎ করোনা টেস্টের ব্যবস্থা থাকতে পারলে ভালো। 

আমার নিজের ধারণা গত দুই মাসে করো না যত লোক করোনায় মারা গিয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বা করো না উপসর্গ নিয়ে তার চেয়ে বেশি লোক মারা গেছে। করোনা এসেছে মানে এই নয় যে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হবে না‌। কিডনি রোগী থাকবে না। মানুষের দুর্ঘটনা ঘটবে না। গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতাল লাগবে না‌। বরং অন্য সব রোগ আরও বেশি হচ্ছে।

আমি মনে করি, আমাদের সরকারি-বেসরকারি যত হাসপাতাল রয়েছে একটা সুষ্ঠু সমন্বয় করতে পারলে সব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। আশা করছি আমাদের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন যাতে একজন মানুষকেও এভাবে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে মারা যেতে না হয়। স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে নিতে না হয় কোন পরিবারকে। ভাল থাকুন সবাই। ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ।