সাশ্রয়ী দামে অলরাউন্ডার স্মার্টফোন প্রিমো আরএম৪!

  কোন মন্তব্য নেই


বাজেটের ভেতর স্মার্টফোন কিনতে গেলে বেশিভাগ সময় আমাদের স্মার্টফোনটির কোন না কোনো অংশে স্যাক্রিফাইস করতে হয়; হয় সেটা ক্যামেরায়, নয়তো ব্যাটারিতে কিংবা প্রসেসরে। তবে কেমন হয় যদি বাজেট স্মার্টফোন হয় আর আপনাকে স্মার্টফোনটি কিনে কোন অংশ থেকেই স্যাক্রিফাইস করতে না হয়?  হ্যা' ঠিক এমনি সব কোয়ালিটি সম্পন্ন বাজেট ফোনের কথা যখন আসবে, তখনই উঠবে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের নাম। ওয়ালটনের প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ফিচার সমৃদ্ধ বাজেট স্মার্টফোন আনার ধারাবাহিকতার দরুন এবার তাদের দারুন সব স্মার্টফোনের তালিকায় নতুন আরেকটি যুক্ত হল 'প্রিমো আরএম৪' স্মার্টফোনের নাম।

শীতকালীন অফারে স্মার্টফোনটি পাবেন মাত্র ১০১৯৯ টাকায়। ‘এভরিথিং ইউ ওয়ান্ট’ ট্যাগলাইন নিয়ে নতুন এই প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে পাবেন; ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের অক্টাকোর হেলিও এ২৫ চিপসেট থেকে শুরু করে ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপ, ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৪ জিবি র‍্যাম সহ আরো অনেক কিছু! তো আজকের এই আর্টিকেলে আমরা দারুন দামে, দারুন সাজে সেজে আসা নতুন এই প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন সম্পর্কে জানব।

একনজরে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনঃ

  • ১৯.৫ঃ৯ এস্পেক্ট রেশিও সমৃদ্ধ ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল
  • ১২ ন্যনোমিটার  প্রযুক্তির ১.৮ গিগাহার্জ ক্লক স্পীডের অক্টা-কোর হেলিও এ২৫ চিপসেট
  • ৪ জিবি র‍্যাম, ৬৪ জিবি র‍্যাম
  • ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি

ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

স্মার্টফোনটির ডিজাইন বেশ ক্লাসি এবং মিনিমাল। এর রিয়ার প্যানেলে আপনি সুন্দর একটি গ্লসি ফিনিস পাবেন। আপনার রুচির বিচারে দারুন এই স্মার্টফোনটি পাবেন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন কালারে। আর এই কালারগুলো হচ্ছেঃ ডার্ক গ্রিন, নাইট ব্লু এবং ব্ল্যাক। আপনার নিজস্ব ব্যক্তিত্ত এবং রুচিবোধের সাথে এই দারুন তিনটি কালারের সবগুলিও বেশ দারুনভাবে মানাবে, কোনটিই একটি আরেকটির থেকে কম নয়!

যেসকল ইউজাররা তুলনামূলক বড় ডিসপ্লে সমৃদ্ধ স্মার্টফোন খোঁজেন, তাদের জন্য এই স্মার্টফোনটি পছন্দের তালিকায় উপরে থাকবে নিঃসন্দেহে! কেননা প্রিমো আরএম৪ ডিভাইসটিতে পাচ্ছেন ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি প্লাস ইনসেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল, যার ব্রাইটনেস লেভেল ৪৫০ নিটস। এটি একটি ১৯.৫ঃ৯ এস্পেক্ট রেশিও সমৃদ্ধ ডিসপ্লে, সুতরাং ওয়াইড এঙ্গেলে গেমিং এবং মাল্টিমিডিয়া স্ট্রিমিং হবে আরো উপভোগের!

স্মার্টফোনের ডিসপ্লেটির রেজুলেশনও তুলনামূলক মানসম্পন্ন, যা হচ্ছে ১৬০০*৭২০ পিক্সেল। ডিসপ্লেটির উপরে একটি ওয়াটার ড্রপ নচ পাবেন, যার ভেতর দারুন দারুন সব সেলফির জন্য সনির একটি ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর পাওয়া যাবে।

হার্ডওয়্যার

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটিতে ARM Cortex-A53 সিপিইউ এবং IMG PowerVR GE8320 জিপিইউ এর সমন্বয়ে তৈরি মিডিয়াটেক এর হেলিও এ২৫ চিপসেট এর দেখা মিলবে। এটি একটি ১২ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি মিডিয়াটেকের নতুন প্রজন্মের একটি চিপসেট। এটি একটি অক্টাকোর প্রসেসর যার ক্লক স্পীড ১.৮ গিগাহার্জ। এই চিপসেটটি যেমন দ্রুত ছবি এবং ভিডিও প্রোসেসিং, গেমিং এর জন্য দারুনভাবে কার্যকর; তেমনই খুব ভালো পরিমানে ব্যাটারি সাশ্রয়ীও বটে! যারা পাবজি, কল অফ ডিউটি কিংবা ফ্রি-ফায়ার এর মত গেমস খেলতে বাজেট এর মধ্যে ভালো একটি স্মার্টফোন চাচ্ছেন, তাদের জন্য প্রিমো আরএম৪ দারুন পছন্দ হতে পারে।

প্রিমো আরএম৪ এর এন্টুটু বেঞ্চমার্ক স্কোর এসেছে ৮৭৬২২; আর গিকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোরে ৭১৬ এবং মাল্টি কোরে স্কোর এসেছে ৩৩৭৪।

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন কিনলে আপনাকে স্টোরেজ নিয়েও কোন চিন্তা করতে হবেনা! কেননা স্মার্টফোনের ভেতর বিল্টইন ভাবে ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, তাছাড়াও ২৫৬ জিবি পর্যন্ত অতিরিক্ত এসডি কার্ড ব্যবহার করার সুযোগ তো থাকছেই। আর সর্বোপরি যেটা মুখ্য বিষয়, তা হচ্ছে র‍্যাম! এই স্মার্টফোনটির পুরো সিস্টেমকে ব্যাকআপ দিবে একটি ৪ জিবি র‍্যাম। সুতরাং মাল্টি টাস্কিং থেকে হেভি গেমিং সব এই স্মার্টফোনে একদম স্মুথলি!

ক্যামেরা

দারুন চিপসেট এর পাশাপাশি প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে থাকছে বেশ শক্তপোক্ত ক্যামেরা সেটাপ। স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে দেখা মিলবে একটি ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপের। যেখানে একটি মেইন ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর, সেকেন্ডারি ৫ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর এবং পরিশেষে আরেকটি ডেপথ সেন্সিং এর জন্য। স্মার্টফোন ক্যামেরায় সেন্সর সাইজ বর্ণনা করার জন্য একটি নাম্বার থাকে, যেমন ১/৩.০, ১/৩.২ ইত্যাদি।

সহজ ভাবে বুঝতে ১ ভগ্নাংশের সাথে যে নম্বর থাকবে তা যতো ছোট হবে আপনার সেন্সর সাইজ ততো বড় হবে। আর আপনার সেন্সর সাইজ যতো বড় হবে তো ভালো পিক্সেলস পাবেন। আর যত ভালো পিক্সেলস হবে ইমেজও তত বেশি আলো সম্বলিত এবং ঝকঝকে হবে। প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনের এর মেইন ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সরটির সাইজ ১/৩.১ যা এই ক্যামেরা সেটাপের জন্য দামের হিসেবে খুব ভালো একটি দিক।

আবার f/1.8, f/2.0, f/2.2 ইত্যাদি নম্বর দিয়ে ক্যামেরার অ্যাপারচার প্রকাশ করা হয়ে থাকে। অ্যাপারচার এর মানে হচ্ছে লেন্সের ফোকাল লেন্থ। অ্যাপারচার নাম্বারে f ভগ্নাংশের পরে যে সংখ্যা থাকে সেটি যত ছোট হবে আপনার ক্যামেরার ওপেনিং ততই বড় হবে এবং ওপেনিং যত বড় হবে ক্যামেরা তত ভালো ভাবে লো লাইট ছবি উঠাতে পারবে। এবং যে শ্যালো ডেফত অফ ফিল্ড ইফেক্ট থাকে তাও ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যাবে। শ্যালো ডেফথ অফ ফিল্ড ইফেক্ট মানে, আপনি দেখেছেন যে ছবি উঠানোর সময় আপনার সামনে থাকা সাবজেক্ট এর ছবি পরিষ্কার হয় এবং সাবজেক্ট এর পেছনে ঘোলা ইফেক্ট থাকে, তো আপনার ক্যামেরার অ্যাপারচার নাম্বার যতো কম হবে এই ইফেক্ট ততো ভালো দেখতে পাওয়া যাবে।

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটির রিয়ার ক্যামেরার অ্যাপারচার f/2.0, সুতরাং এর মাধ্যমে আপনি দারুন সব ছবি তুলতে পারবেন, যেখানে ছবির কোয়ালিটি যেমন সুন্দর থাকবে, তেমনি সাবজেক্টকে ফোকাসে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড ঘোলা করতেও সুবিধা হবে।

স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে সেলফির জন্য পাচ্ছেন সনির ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর। যার অ্যাপারচার f/2.2।

অপারেটিং সিস্টেম

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে এন্ড্রয়েড ১০ তথা এন্ড্রয়েড কিউ সংস্করণ পাওয়া যাবে। যারা স্মার্টফোনে স্টক এন্ড্রয়েডের স্বাদ নিতে ভালোবাসেন, তারা প্রিমো আরএম৪ এর দিকে ঝুঁকতে পারেন।

ব্যাটারি

একটি স্মার্টফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে সেই স্মার্টফোনের ব্যাটারি! ফোনে ভালো ভালো অনেক ফিচারস থাকলেও পরিমিত পরিমাণ ব্যাটারি লাইফ না থাকার কারনে শান্তিমত কিছুসময়ও সেই ফোন ব্যবহার করা যায় না। যারা সারাদিন স্মার্টফোন নিয়েবাইরে থাকেন, কিংবা স্মার্টফোন নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় ছবি কিংবা দীর্ঘক্ষণ গেমিং করেন, তাদের জন্য নিঃসন্দেহে দরকার খুব শক্তপোক্ত একটি ব্যাটারি লাইফ! আর ব্যাটারির প্রয়োজনীয়তার এসব ব্যাপার প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে খুব ভালভাবেই নজরে আনা হয়েছে। স্মার্টফোনটিতে আপনি পাবেন ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি।

আর রিভার্স চার্জিং সুবিধা থাকার ফলে, স্মার্টফোনটি দিয়ে আপনি অন্য যেকোনো ডিভাইস চার্জ দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার প্রিমো আরএম৪ আপনার স্মার্টফোন কাম পাওয়ারব্যাঙ্ক!!

যার মানে ফুল চার্জ দিয়েও চোখ বন্ধ করে স্মার্টফোনটি আপনি দুইদিন খুব ভালোভাবেই ব্যবহার করতে পারবেন।ওয়ালটনের তথ্য মতে, এই স্মার্টফোনটি ফুল চার্জ দেয়ার পর স্ট্যান্ডবাই পাওয়া যাবে ৬১ দিন, টানা ভয়েস কলিং করা যাবে ৪৯ ঘণ্টা, টানা ভিডিও রেকর্ডিং হবে ৯ ঘন্টা, টানা মিউজিক প্লে হবে ৪৮ ঘন্টা, ওয়েব ব্রাউজিং করা যাবে ২২ ঘন্টা এবং টানা ভিডিও প্লে ব্যাক ২২ ঘন্টা। সময় যাবে কিন্তু স্মার্টফোনকে বারবার চার্জ দেয়া, সাথে অতিরিক্ত পাওয়ার নিয়ে ঘোরাফেরার চিন্তা থাকবে না।

পরিশিষ্ট

এই বাজেট রেঞ্জে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটি যা অফার করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্মার্টফোনটির আমার দিক থেকে সবচেয়ে ভালোলাগা যে দিক সেটি হচ্ছে এর বিগ ব্যাটারি লাইফ। এই স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা ৫৯৫০ প্রায় প্রায় ৬০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি নিঃসন্দেহে বাজেরে এই দামের দামের আশেপাশে অন্যসকল স্মার্টফোন থেকে আরএম৪ কে এগিয়ে রাখবে, তাছাড়াও এগিয়ে থাকার ফ্যাক্টর এর দারুন স্পেসিফিকেশন তো আছেই! স্মার্টফোনটির সাথে পাবেন ৩০ দিনের রিপ্লেস্মেন্ট ওয়ারেন্টি, ১০১ দিনে প্রায়োরিটি সার্ভিস, ১ বছরের রেগুলার সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং চার্জার, কেবল এবং ব্যাটারিতে ৬ মাসের ওয়ারেন্টি।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন