Walton Primo RM4 Vs. Inifinix Hot 9 Play Vs. Techno Spark 6 Air: কোনটি সেরা ‘ভ্যালু ফর মানি’ স্মার্টফোন?


বাংলাদেশে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি সংখ্যার মানুষই হচ্ছে বাজেট স্মার্টফোন ক্রেতা! দেশের এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি জনগোষ্ঠী নিয়মিত ঝোঁকে কেবল বাজেট স্মার্টফোন গুলোর দিকে। বাজেট স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেটের মধ্যে সেরা এবং সঠিক বাজেট স্মার্টফোন খুঁজে বের করা। এমন একটি স্মার্টফোন খুঁজে বের করা, যেটি কিনা সবদিক দিয়ে আপনার সকল চাহিদা পূরণ করে, আপনার জন্য হবে একটি লাভজনক ডিল। আর এই জন্য দরকার, স্মার্টফোন কেনার আগে আপনার পছন্দের স্মার্টফোন সম্পর্কে পুর্নাঙ্গ তথ্য জেনে একটি সক্ত-পক্ত সিদ্ধান্তে আসা! বাজেট স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এই বাজেট লেভেলটা বেশিরভাগ সময়ই থাকে ১০ হাজারের আশেপাশে।

আর আপনার বাজেটে একটি সেরা স্মার্টফোনটি কেনার ক্ষেত্রে আপনার জন্য দারুন সহায়ক হতে পারে এমন একটি কম্প্যারিজন আর্টিকেল! আজকের আর্টিকেলে আপনি জানবেন তিনটি স্মার্টফোন সম্পর্কে বিভিন্ন দিক থেকে প্রাসঙ্গিক একটি তুলনা; আর সেই তিনটি স্মার্টফোন হচ্ছেঃ প্রিমো আরএম৪, টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ার এবং ইনফিনিক্স হট৯ প্লে। স্মার্টফোন তিনটিই ওয়ালটন, ইনফিনিক্স এবং টেকনোর বাজারে সাম্প্রতিক লঞ্চ হওয়া স্মার্টফোন। আর এখানে প্রিমো আরএম৪ এর নতুন শীতকালীন অফারে দাম ১০১৯৯ টাকা, স্পার্ক ৬ এয়ারের দাম ১০৯৯৯ এবং ইনফিনিক্স হট৯ প্লের দাম ৯৯৯৯ টাকা।

ডিভাইসের নাম প্রিমো আরএম৪ ইনফিনিক্স হট৯ প্লে টেকনো স্পার্ক৬ এয়ার
ডিসপ্লে ৬.৫’’ আইপিএস৬.৮২’’ আইপিএস ৭’’ আইপিএস 
ক্যামেরা ১৩+৫+ডেপথ সেন্সর ১৩+লোলাইট সেন্সর১৩+২+লোলাইট সেন্সর
চিপসেটহেলিও এ২৫ হেলিও এ২৫উল্লেখিত নয় 
মেমোরি ৪/৬৪ ৪/৬৪ ৩/৬৪
ব্যাটারি ৫৯৫০৬০০০ ৬০০০ 

ডিজাইন এবং বিল্ট কোয়ালিটি
ইনফিনিক্স হট৯ প্লে এর সাথে তুলনা,

ইনফিনিক্স হট ৯ প্লে স্মার্টফোনটি পুরোটা প্লাস্টিক বিল্ড ম্যাটেরিয়ালে তৈরি একটি স্মার্টফোন; স্মার্টফোনটির ব্যাক এবং সাইড প্যানেল উভয় পাশেই আপনি বিল্ট ম্যাটেরিয়াল পাচ্ছেন প্লাস্টিক। স্মার্টফোনটি সবদিক দিয়ে দেখতে দারুন, আর ব্যাকে সুন্দর গ্র্যাডিয়েন্ট ফিনিস পাচ্ছেন; আর এই ইনফিনিক্স হট৯ প্লে স্মার্টফোনটি পাওয়াও যাচ্ছে ৪টিকালার ভেরিয়েন্টে এগুলি হচ্ছেঃ মিডনাইট ব্ল্যাক, কুইটজেল সায়ান, ভায়োলেট এবং অসিয়েন ওয়েভ। যারা ছোট স্মার্টফোন এভয়েড করে চলেন, তাদের জন্য স্মার্টফোনটি ভালো, কেননা পরবর্তীতে ডিসপ্লে ক্যাটেগরি পড়লে জানবেন, এটাকে বেশ বড় ফর্ম ফ্যাক্টরের স্মার্টফোনই বলা চলে।

ওয়ালটন এর প্রায় একই ফর্ম ফ্যাক্টরের ‘প্রিমো আরএম৪’ স্মার্টফোনের কথায় আসলে, এই স্মার্টফোনটিও প্লাস্টিক বিল্ড, অর্থাৎ ব্যাক এবং সাইড প্যানেলে পাবেন প্লাস্টিক বিল্ট ম্যাটেরিয়াল। ডিজাইনে এই স্মার্টফোনটিতে ইনফিনিক্স এর মত গ্রেডিয়েন্ট ফিনিসের বিপরীতে দেখা মিলবে, সুন্দর শাইনি গ্লসি লুক, যেটাকেও দেখতে দারুন সুন্দর লাগবে! প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটিও বাজারে পাওয়া যাবে তিনটি কালারে; যেগুলো হচ্ছেঃ ডার্ক গ্রিন, নাইট ব্লু, ব্ল্যাক। আর আগেই বলেছি, প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটিও বেশ বড় সাইজের স্মার্টফোন, আর এর ওজন হচ্ছে ২১৪ গ্রাম।

ইনফিনিক্স হট৯ প্লে স্মার্টফোনটির পোর্ট পজিশনে, স্মার্টফোনটির বটম প্যানেলে পাবেন ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাক, একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট এবং একটি মাইক্রোফোন হোল। আর এই স্মার্টফোনের স্পীকার ইমপ্লিমেন্ট করা হয়েছে এর হেডসেটে; অর্থাৎ স্মার্টফোনটির ইয়ারপিস বা হেডসেট একইসাথে হেডসেট এবং লাউড স্পীকার দুইভাবেই কাজ করবে। অন্যদিকে, প্রিমো আরএম৪ এর আপার প্যানেলে পাবেন ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাক, নিচে রিয়ার প্যানেলে পাচ্ছেন ~ একটি স্পীকার ও মাইক্রোফোন গ্রিল এবং মাঝে একটি ইউএসবি পোর্ট। দুইটি স্মার্টফোনেরই বামপাশে পাবেন সিমকার্ড ট্রে, যেখানে আপনি একইসাথে দুইটি সিম এবং একটি এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পাচ্ছেন।

তো ডিজাইন এবং বিল্ট কোয়ালিটির প্রশ্নে কোনো স্মার্টফোনই কম নয়, এবং দুটোর সবগুলো কালারই দেখতে দারুন। তবে যেহেতু হট ৯ এর মত প্রিমো আরএম৪ এর স্পীকার নিয়ে কোন কম্প্রোমাইজ করা হয়নি; অর্থাৎ প্রিমো আরএম৪এ যেহেতু ডেডিকেটেড ভাবে একটি লাইড স্পীকার দেয়াই থাকছে; সেক্ষেত্রে এই দিক দিয়ে ‘আরএম৪’ই এগিয়ে থাকে।

টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ারের সাথে তুলনা,

দুটি স্মার্টফোনই পুরোপুরি প্ল্যাস্টিক ম্যটেরিয়ালে তৈরি করা; অর্থাৎ স্মার্টফোনের রিয়ার প্যানেল এবং সাইড প্যানেল সবকিছুই প্ল্যাস্টিক বিল্ড। বাজেট স্মার্টফোনগুলো মূলত প্ল্যাস্টিক বিল্ডেরই হয়ে থাকে। আর প্ল্যাস্টিক বিল্ড স্মার্টফোনের একটি দারুন সুবিধা হল, সচরাচর তো ফোন আমাদের হাত থেকে পরে যায়ই; আর সেক্ষেত্রে তেমন বেশি ক্ষতি হয়না।

প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনের রিয়ার প্যানেলে পাবেন দারুন রিফ্লেক্টিভ ফিনিস; এর রিফ্লেক্টিভ ভাবটা শুরু হয়েছে ক্যামেরা প্যানেল থেকে এবং তা পুরো বডি জুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছে দারুনভাবে। আর এর ক্যামেরা প্যানেলে আপনি দেখা পাবেন একটি ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল, যা ট্রিপিক্যাল অন্যসব ভার্টিকাল শেপের ক্যামেরা প্যানেলের মতই। অন্যদিকে, স্পার্ক ৬ এয়ারের ব্যাকেও পাবেন রিফ্লেক্টিভ ফিনিস, তবে এটি একটু আলাদা উপরে থেকে  আড়াআড়ি ভাবে পুরো বডি জুড়ে পাবেন। আর স্পার্ক ৬ এয়ারের ক্যামেরা প্যানেলেও আপনি দেখা পাবেন ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল, তবে এর ক্যামেরা প্যানেলের ডিজাইন আয়তাকার শেপের। আর দুইটি স্মার্টফোনেরই রিয়ার প্যানেলের মাঝখানে এপ্নি একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর পাবেন।

দুটি স্মার্টফোনই বেশ বড় ফর্ম ফ্যাক্টরের স্মার্টফোন, যার মানে আপনাকে একহাতে স্মার্টফোন দুটিই ব্যবহার করতে একটি তো বেগ পেতে হবেই স্বাভাবিক। তবে, তুলনা করতে গেলে প্রিমো আরএম৪ এর সাপেক্ষে স্পার্ক ৬ এয়ার একটু বেশি বড় ফর্ম ফ্যাক্টরের, একে একহাতে কন্ট্রোল করা বেশি কষ্ট হয়ে যায়!

আপনি যদি একটু সলিড বিল্ড কোয়ালিটির কথায় আসেন, তবে তিনটি স্মার্টফোনই হাতে নিয়ে প্রিমো আরএম৪ কেই বেশি সলিড এবং স্টেডি একটি স্মার্টফোন মনে হবে। আর সবদিক দিয়ে কমপ্যাক্ট এবং স্টেডি সলিড স্মার্টফোন হিসেবে বাকি দুটি থেকে প্রিমো আরএম৪কেই বেশি পছন্দ করা যায়!

ডিসপ্লে
ইনফিনিক্স হট৯ প্লে এর সাথে তুলনা,

ইনফিনিক্স হট ৯ প্লে’ স্মার্টফোনটিতে আপনি পাচ্ছেন ৬.৮২ ইঞ্চির আইপিএস প্রযুক্তির এইচডি প্লাস ডিসপ্লে। যার রেজুলেশন ১৬৪০*৭২০ পিক্সেল। আর এই ডিসপ্লের একদম উপরে আপনি পাবেন একটি ইউ শেপ নচ।

অন্যদিকে, প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে পাবেন ৬.৫ ইঞ্চি এইচডি-প্লাস ইন্সেল এইপিএস ডিসপ্লে, যার উপরে থাকছে ২.৫ডি কার্ভড গ্লাস এবংডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১৬০০*৭২০ পিক্সেল। ডিসপ্লে টাচ কোয়ালিটির দিক দিয়ে ইনফিনিক্স এবং ওয়ালটন দুটোরই টাচ কোয়ালিটি দুর্দান্ত ভালো মনে হয়েছে। তবে যদি যদি তুলনমূলক ভাবে ডিসপ্লে দুটির ভিজুয়াল কোয়ালিটি হিসেবে বলতে হয়; তবে কালার আর সার্পনেসে, ইনফিনিক্সের চাইতে ওয়ালটনকেই বেশি ভালো মনে হয়েছে; যদিও ব্রাইটনেসের বেলায় ইনফিনিক্স কিছুটা এগিয়ে ছিল।

স্মার্টফোন দুটিই যেহেতু আইপিএস প্রযুক্তির স্ক্রিন, তাই কোনটিতেই ভিউইং এঙ্গেল কিংবা নেগেটিভ ভিউ নিয়ে কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি। ডিসপ্লে নিয়ে মতামত দিতে হলে, যদি আপনার বড় ডিসপ্লে বেশি পছন্দ হয়, তবে আপনার ইনফিনিক্স এর দিকে যেতে পারেন। আর ‘আরএম৪’ এর তুলনায় ডেলাইটে ব্রাইটনেসও একটু বেশি পাচ্ছেন ইনফিনিক্সে। তবে যদি আপনি কালার এবং সার্প্নেস এর কথা চিন্তা করলে আর ডিসপ্লে সাইজ যদি খানিকটা ছোট আপনার কাছে সমস্যাদায়ক মনে না হয়, তবে প্রিমো আরএম৪ এর দিকেই যেতে পারেন। কেননা, বাজেট ফোনের হিসেবে অবশ্যই আপনাকে মিডিয়া কঞ্জাম্পসনের দিকেও তাকাতে হবে! তো স্ক্রিন সাইজ খানিকটা কম হলেও প্রিমো আরএম৪’ স্মার্টফোনটিও এই বিচারে এগিয়ে থাকবে, আমার মতে।

টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ারের সাথে তুলনা,

স্পার্ক ৬ এয়ারে পাবেন ৭ ইঞ্চি এইডডি প্লাস আইপিএস ডিসপ্লে, যেখানে উপরে দেখা মিলবেএকটি ডট নচ। পাশাপাশি দুইটি স্মার্টফোন একইসাথে রেখে দেখা যায় যে, প্রিমো আরএম৪ এর স্ক্রিনের কালার এবং ব্রাইটনেস কিছুটা বেশি। আর ডিসপ্লে সাইজও কিছুটা ছোট হবার কারনে, এর ক্রিস্পিনেস বা সার্পনেসও ভালো, তুলনামূলক ভাবে স্পার্ক ৬ এয়ারের চাইতে। তবে অবশ্যই স্পার্ক ৬ এয়ারের ডিসপ্লেও যথেষ্ট ভালো, তবে কালার, ব্রাইটনেস এবং কন্ট্রাস্ট এর দিক দিয়ে প্রিমো আরএম৪ এর ডিসপ্লেই এগিয়ে!

যারা বাজেট স্মার্টফোনে ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করেন, এবং একটি বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখতে বেশি ভালবাসেন, তাদের জন্য টেকনো একটি ভালো মানের ডিসেন্ট স্ক্রিন প্রভাইড করছে। অন্যদিকে, একটু কমপ্যাক্ট সাইজে প্রিমো আরএম৪ বেশ ভালোমানের কালার, কনট্রাস্ট এবং ব্রাইটনেস নিয়ে দারুন একটি ডিসপ্লে আপনাকে প্রভাইড করবে। আর টাচ রেস্পন্সিভনেস এর দিক দিয়েও প্রিমো আরএম৪কেই স্পার্ক ৬ এয়ারের চাইতে বেশি ভালো মনে হয়েছে।

সুতরাং, আপনি যদি মূলত একটি কমপ্যাক্ট এবং ভালো কালার কোয়ালিটি, সার্পনেস সম্বলিত ডিসপ্লে চান তবে তিনটি স্মার্টফোনের ভেতর আপনাকে প্রিমো আরএম৪ এর দিকেই যেতে হবে।   

হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার
ইনফিনিক্স হট৯ প্লে এর সাথে তুলনা,

আর হার্ডওয়্যার সেকশনেও ওয়ালটন প্রিমো আরএম৪ এবং ইনফিনিক্স হট ৯ প্লে দুটিতেই একই কনফিগারেশন পাচ্ছেন! দুটো স্মার্টফোনেই পাবেন মিডিয়াটেকের ১.৮ গিগাহার্জ ক্ষমতা সম্পন্ন হেলিও এ২৫ চিপসেট। আর চিপসেট দুটিরই আর্কিটেকচার মডেল করটেক্স এ৫৩; আর চিপসেটের সাথে সমন্নিত জিপিইউ থাকছে PowerVR GE8320।

সফটওয়্যার সেকশনে ইনফিনিক্সে পাবেন তাদের নিজস্ব রম বা কাস্টম ওএস ‘এক্স ওএস’ ডলফিন ৬.২; যেটি এন্ড্রয়েড ১০ সংস্করণ নির্ভর। অন্যদিকে ওয়ালটন পাবেন এন্ড্রয়েড ১০ সংস্করণ নির্ভর, এন্ড্রয়েড স্টক রম। আর স্মার্টফোন দুটোই পারফর্মেন্সের দিক দিয়ে প্রায় একইরকম ছিল, কেননা একই এ২৫ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে, দুটি স্মার্টফোনেই। মূলত এখানে পার্থক্য এদের সফটওয়্যার সেকশনে; একটিতে পাচ্ছেন স্টক রম এবং আরেকটিতে কাস্টম। তবে বাজেট স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সবসময়ই পরামর্শ থাকবে যে স্টক রমের দিকেই যাওয়ার জন্য। কেননা, এখানে কম ব্লটওয়্যার থেকে ডেইলি লাইফ ‘ইজি-টু-হ্যান্ডেল’ রেট খুব ভালো থাকে। তো এখানেও আমার পরামর্শ স্টক রম; আর সে হিসেবে এখানেও এগিয়ে থাকছে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন।

তবে অবশ্যই এক্সওএসে আপনি অনেক বেশি কাস্টমাইজেশন অপশন পাবেন, তবে সার্বিকভাবে বলতে গেলে এ২৫ চিপসেট থেকে একটি স্মুথ পারফর্মেন্স পেতে চাইলে স্টক রম বাছাই করাই উত্তম! দুটি স্মার্টফোনই হাই-গ্রাফিক্সের গেমস গুলো লোগ্রাফিক্সে ভালোভাবেই প্লে করতে পাচ্ছিল; তবে হাই গ্রাফিক্সের গেমের বদলে আপনি অনলাইন মাল্টি প্লেয়ার শুটিং গেমস, যেমনঃ পাবজি বা ফ্রিফায়ার ভালোভাবে খেলতে পারবেন।

টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ারের সাথে তুলনা,

আরএম৪ এর মত, স্পার্ক ৬ এয়ারেও আপনি পাবেন একই PowerVR GE8320 জিপিউ। টেকনো তাদের স্মার্টফোনটির প্রসেসর সম্পর্কে মেনশন করছে যে, সেটিতেও ব্যবহার করা হয়েছে ১.৮ গিগাহার্জের অক্টাকোর প্রসেসর। তবে এখানে আসলে তারা কোন চিপ্সেট ব্যবহার করেছে তা সেভাবে উল্লেখ্য করেনি। তবে সিপিইউ-জেড ইন্সটল করে সেখানে দেখা গিয়েছে হেলিও পি২২। তবে আমরা অনেকেই হয়ত জানি পি২২ কোয়াডকোর চিপসেট আর টেকনো মেনশন করছে, তাদের স্মার্টফোন অক্টাকোর; আর পি২২ হলে সেটির বাজ স্পিডও হত ২ গিগাহার্জের উপরে। তো নিশ্চয় ধারনা করাই যায় , এখানেই কোন একটি আন-স্পেসিফিক কারনে আসলে কোন চিপসেটটি ব্যবহার করা হয়েছে তা সেভাবে উল্লেখ্য করা হয়নি।

আর হেলিও পি২২ যেহেতু অ্যাপে দেখাচ্ছে, সে হিসেবে হলেও পি২২ ২০১৮ সালের চিপসেট এবং প্রিমো আরএম৪ এর হেলিও এ২৫ ২০২০ সালের চিপসেট। আর র‍্যামের কথা বললে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে পাবেন ৪ জিবি র‍্যাম, আর স্পার্ক ৬ এয়ারে পাচ্ছেন ৩ জিবি র‍্যাম; সুতরাং নিঃসন্দেহে ওয়ালটনই মাল্টি-টাস্কিং এর দিক দিয়ে আপনাকে সেরা সুবিধা দেবে। সুতরাং, হার্ডওয়্যারের দিক দিয়ে একটি তফাত থেকেই যায়। আর নিঃসন্দেহে এইদিক দিয়ে ওয়ালটন প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনই এগিয়ে থাকে।

টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ার স্মার্টফোনে আপনি এন্ড্রয়েড ১০ সংস্করণ এর উপরে তাদের কাস্টম  রম ‘হাইওএস’ ৬.০ সংস্করণ পাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রিমো আরএম৪  স্মার্টফোনে প্রায় পুরোই স্টক এন্ড্রয়েড ১০ সংস্করণ পাবেন। অবশ্যই বাজেট স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে কাস্টম রম ভিত্তিক স্মার্টফোনের দিকে গেলেন অনেকটাই মিস-পারফর্মেন্স বা ব্লটওয়্যার পাওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়। অন্যদিকে বেশি র‍্যাম এবং অনেকটা স্টক এন্ড্রয়েড স্বাদ পাবেন বলে প্রিমো আরএম৪ এর পারফমেন্স আপনার কাছে অনেক বেশি ভালো মনে হবে। আর এভাবে হার্ডওয়্যারে এবং সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনই এগিয়ে থাকে।

বাজেট ফোনে সবচেয়ে সেরা পারফর্মেন্স পেতে কাস্টম ওএস বা রম যাই বলেন, এড়িয়ে চলাই ভালো। আর সে হিসেবে তিনটি স্মার্টফোনের ভেতর প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনেই পারফর্মেন্সের দিক দিয়ে আপনি হার্ডওয়্যারের সর্বোচ্চ সুবিধা পাবেন। 

ক্যামেরা
ইনফিনিক্স হট৯ প্লে এর সাথে তুলনা,

ক্যামেরা সেকশনের কথা বলতে গেলে ইনফিনিক্স হট ৯ প্লে এর রিয়ার প্যানেলে থাকছে ডুয়াল ক্যামেরা। এই ডুয়াল ক্যামেরা মডিউলে প্রাইমারি সেন্সর থাকছে ১৩ মেগাপিক্সেল এবং সেকেন্ডারি হিসেবে থাকছে একটি ‘কিউভিজিএ লো-লাইট’ সেন্সর। আর স্মার্টফোনটির ফ্রন্টে থাকছে একটি ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা।

অন্যদিকে, প্রিমো আরএম৪ এর রিয়ার প্যানেলে পাবেন ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল। যেখানে একটি ১৩ মেগাপিক্সেল সনি প্রাইমারি সেন্সর, ৫ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর এবং সর্বশেষ একটি ডেপথ সেন্সর। আর স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট প্যানেলে পাচ্ছেন একটি ৮ মেগাপিক্সেল সনি সেন্সর।

ইনফিনিক্সের সাথে ওয়ালটনের সরাসরি তুলনা করলে, ওয়ালটনে প্রাইমারি সেন্সরগুলো সনি সেন্সর; আর এতে বোনাস হিসেবে রিয়ারে পাওয়া যাচ্ছে ৫ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর। সুতরাং ক্যামেরা সেকশনেও নিঃসন্দেহে আরএম৪ কেই এগিয়ে রাখতে হবে।

টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ারের সাথে তুলনা,

ক্যামেরা সেকশনে দুটি স্মার্টফোনই বেশ প্রতিযোগিতা মূলক অবস্থানে থাকছে। প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনে আমরা অনেকেই হয়ত জানি সামনে পিছনের মেইন প্রাইমারি সেন্সর হচ্ছে সনি সেন্সর। প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনের রিয়ার প্যানেলে আপনি ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল পাবেন, যেখানে একটি মেইন ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর, ৫ মেগাপিক্সেল ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর এবং ডেপথ সেন্সর পাবেন; আর সামনে পাবেন একটি ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা সেন্সর।

একইভাবে টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ার স্মার্টফোনের রিয়ার প্যানেলেও আপনি দেখা পাবেন ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল। এখানে একটি ১৩ মেগাপিক্সেল এপার্চার ১.৮ বিশিষ্ট মেইন ক্যামেরা সেন্সর, ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর এবং একটি লোলাইট সেন্সর পাবেন। আর সামনে পাবেন ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা সেন্সর। মূলত ওয়ালটন এর মত টেকনোতে আপনি ওয়াইড এঙ্গেলের জন্য কোন  সুবিধা পাচ্ছেননা। তবে টেকনো লো লাইটে ছবি তোলার জন্য কিছুটা ভালো। তবে সার্বিকভাবে বিভিন্নরকম ক্যামেরা অভিজ্ঞতা পেতে ওয়ালটনের প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনই এগিয়ে থাকবে।

যেহেতু ওয়ালটন প্রিমো আরএম৪ এ খুবই চাহিদাসম্পন্ন ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স সমৃদ্ধ একটি অতিরিক্ত ক্যামেরা সেন্সর পাচ্ছেন, যা আপনি অন্য দুটি স্মার্টফোনেই পাচ্ছেন না; সুতরাং এখানে তুলনা করার কোন জায়গাই থাকে না। তো, সবদিক বিবেচনা করলে ক্যামেরার দিক দিয়েও প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন কেই এগিয়ে রাখা যায়। 

সিকিউরিটি

সিকিউরিটি সেকশনে তিনটি স্মার্টফোনেরই প্রাইমারি ফিচার হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। আর তুলনামূলক বিবেচনায়, তিনটিই যথেষ্ট ফাস্ট এবং একুরেট। আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিস হওয়ার রেট অনেক কম। সুতরাং ফিঙ্গারপ্রিন্টের দিক দিয়ে তিনটি স্মার্টফোনই সমান স্থানে থাকবে।

ব্যাটারি

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি নিয়ে আমরা জানব, সেটি হচ্ছে স্মার্টফোনের ব্যাটারি। কেননা ব্যাটারিই এমন একটি অংশ যেটি সেই স্মার্ট ফোনকে সকল ফাংশনাবিলিটি’কে বাঁচিয়ে রাখবে।

ইনফিনিক্স হট৯ প্লে এর সাথে তুলনা,

ইনফিনিক্স হট৯ প্লে স্মার্টফোনে পাবেন ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি; আবার প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনেও পাবেন ৫৯৫০ এমএএইচ ব্যাটারি; অর্থাৎ ইনফিনিক্স এর চাইতে ৫০ এমএএইচ কম; একেও প্রায় ৬০০০ এমএইচই বলাই যায়। এই দুইটি স্মার্টফোনই ফুল চার্জ দিয়ে প্রতিদিনের সাধারণ ব্যবহারে আপনি অনায়াসে ২ দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ পেয়ে যাবেন। আর দুটি স্মার্টফোনই ‘১০ ওয়াট’ চার্জিং সাপোর্ট করে; আর দুইটি স্মার্টফোনের বক্সেই আপনি ১০ ওয়াটএর চার্জার পেয়ে যাবেন। তবে খারাপ দিক হল, দুটি স্মার্টফোনই ১০০% চার্জ হতে প্রায় ৪ ঘণ্টার মতন সময় লেগে যায়।

ব্যাটারির দিক দিয়ে কোন স্মার্টফোনকেই এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখা যাচ্ছে না; এখানেও স্মার্টফোন দুইটি সমান স্থানেই আছে বলা যায়! তবে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটিতে আপনি রিভার্স চার্জিং সুবিধা পাচ্ছেন; অর্থাৎ আপনি আপনার প্রিমো আরএম৪ দিয়ে অন্যএকটি স্মার্টফোনকেও চার্জ করতে পাচ্ছেন।

টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ারের সাথে তুলনা,

স্পার্ক ৬ এয়ার স্মার্টফোনে পাবেন ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। দুটো স্মার্টফোনই পুরো চার্জ করে আপনি অনায়াসে দেড় থেকে দুইদিন ব্যাটারি ব্যাকআপ পেয়ে যাবেন। তবে স্পার্ক ৬এয়ারে ডিসপ্লে সাইজ একটু বড় হওয়ার কারনে প্রিমো আরএম৪ এর চাইতে একটু কম ব্যাকআপ পাবেন। অর্থাৎ বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপের জন্য এগিয়ে থাকছে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোন।

ব্যাটারির দিক দিয়ে কোন স্মার্টফোনই কোনটির থেকে কম নয়, তবে প্রিমো আরএম৪ ডিসপ্লে এর দিক দিয়ে একটু কমপ্যাক্ট বলে, অবশ্যই তিনটির চাইতে এতেই বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন। 

পরিশেষে

বাজারে রিলিজের দিকদিয়ে হট ৯ প্লে, প্রিমো আরএম৪ এর থেকে বাজারে কিছুটা আগে এসেছে, আর এই স্মার্টফোনের ৪ জিবি র‍্যাম এবং ৬৪ জিবি রম ভার্সনের দাম ৯৯৯৯ অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা। আর ১০০০০ টাকা দামে স্মার্টফোনটি যাযা অফার করছে, সে হিসেবে একে অবশ্যই একটি ভালো স্মার্টফোন তথা ‘ভ্যালু ফর মানি’ স্মার্টফোন বলা যায়। অন্যদিকে প্রিমো আরএম৪ এর বর্তমান দাম ১০১৯৯ টাকা, এই স্মার্টফোনটি কিনতে হলে আপনার ইনফিনিক্সের চাইতে ১৯৯ বা ২০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। তবে ইনফিনিক্সের থেকে এখানে ডিসপ্লে কোয়ালিটিতে একটু বেশি ভিজুয়াল কোয়ালিটি, একটি ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর, ব্যাটারির ক্ষেত্রে রিভার্স চার্জিং এবং সফটওয়্যার এর ক্ষেত্রে স্টক রম পাচ্ছেন; আর একভাবে এসব হিসেবে ২০০ টাকা অতিরিক্ত তেমন বিষয় নয়!

অন্যদিকে, প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনের বর্তমান দাম ১০১৯৯ টাকা এবং টেকনো স্পার্ক ৬ এয়ার স্মার্টফোনের দাম ১০৯৯৯ বা যাকে আপনি ১১ হাজার টাকাই বলতে পারেন। ওয়ালটনে যে ভালো দিক সেটি হচ্ছে আপনি এখানে ৪ জিবি র‍্যাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে টেকনোতে আপনি প্রায় ১ হাজার বেশি খরচ করেও পাচ্ছেন ৩ জিবি র‍্যাম। তবে টেকনোর একটি ভালো দিক এর ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে, হয়ত একটু বেশি বড় ডিসপ্লের জন্য আপনি টেকনোর দিকে যেতে পারেন; তবে সার্বিকভাবে ভালো একটু প্যাকেজড স্মার্ট ফোন নিঃসন্দেহে বলতে হবে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনই সেরা।

তিনটি স্মার্টফোনের ভেতর কোন স্মার্টফোনই আসলে কোনটির থেকে কম নয়, এবং দারুনভাবে প্রতিযোগী। তবে নিঃসন্দেহে অনেক সূচকে প্রিমো আরএম৪ স্মার্টফোনটির দিকে যাওয়াই উত্তম এবং এই বাজেট রেঞ্জে প্রিমো আরএম৪ই তুলনামূলক এগিয়ে থাকা ‘ভ্যালু ফর মানি’ স্মার্টফোন!