ইউভি কেয়ার ও ভয়েস কমান্ড সহ ওয়ালটনের দেড় টনের ওশেনাস ইনভার্টার এসি!


তীব্র গরমে প্রশান্তি পেতে কেবল যে সামর্থবানরাই তা কিন্তু নয়, মধ্যবিত্তরাও ছুটছেন এয়ার কন্ডিশনার বা এসির দিকে। রুমে ব্যবহারের জন্য বাজারে সাধারণত উইন্ডো, স্প্লিট আর পোর্টেবল এসি বাজারে পাওয়া যায়। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়তা, কাজের মান এবং সৌন্দর্য সকল দিক দিয়ে সাধারণ একটি ঘরের জন্য স্প্লিট এসিই উত্তম। বর্তমানে বাজারে নানান মান এবং ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সব স্প্লিট এসি পাওয়া যায়। 

বাংলাদেশের বাজারে মানসম্মত নানান মডেল এবং ক্যাপাসিটির নিত্যনতুন প্রযুক্তির দারুন সব এসির জন্য জনপ্রিয়, দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। এই আর্টিকেলে আমরা ওয়ালটনের নতুন একটি ভয়েস কন্ট্রোল সুবিধা সম্বলিত ইনভার্টার এসি সম্পর্কে জানব। এটি ওয়ালটনের ওশেনাস সিরিজের দেড় টন ক্যাপাসিটির একটি ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার এসি। এসিটিতে বাতাসের বিশুদ্ধতার জন্য পাওয়া যাবে ইউভি কেয়ার প্রযুক্তি। 

কেন দেড় টন এসি? 

এসি কিনতে গিয়ে প্রথমেই দোকানিরা জিজ্ঞেস করে, কত টনের এসি নিবেন? আসলে এই টন এসির সাইজ বা ওজনকে বোঝায় না। ১.৫(দেড়) টন মানে হলো ১৮০০০ বিটিইউ/আওয়ার, এভাবে বাড়তে থাকে। দেড় টনের একটি এসি প্রতি ঘণ্টায় রুম থেকে ১৮০০০ বিটিইউ তাপ শোষণ করতে পারে। তার মানে যত বেশি টন মানের এসি; তত বেশি কুলিং ক্ষমতা। কত টনের এসি কিনবেন, তা নির্ণয়ের সময় রুমের আকার জানার পাশাপাশি রুমটি কততম ফ্লোরে অবস্থিত, সূর্যের তাপ দেয়ালের কোন পাশে লাগে, রুমে কতজন মানুষ থাকবে, রুমে কোন হিটিং জিনিসপত্র যেমন- ওভেন বা আয়রন ব্যবহার করবেন কিনা, জানালা, দরজা, পর্দা, সিলিং, ফ্লোর- এসবের হিট কন্ডাকটিভিটি কেমন এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। সাধারণত আপনার রুম যদি ১২০-১৫০ স্কয়ার ফুট হয়, তবে প্রয়োজন ১.৫ টন এসি, ১৫০-২০০ স্কয়ার ফুট বা তার বেশি আয়তনের ঘরের জন্য প্রয়োজন ২ টন ক্ষমতার এসি।

এসিটি পাওয়া যাবে দুইটি ভার্সনে

রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ভেদে এসিটি বাজারে দুইটি ভার্সনে পাওয়া যাবে। যেটিতে আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি হচ্ছে ভার্সন ‘0608’। আর যেটিতে আর-৪১০এ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি হচ্ছে ভার্সন ‘0611’। বর্তমান সময়ের হিসেবে দুটি গ্যাসই ওজোন স্তরের জন্য খুবই পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস। 

  • ইনপুট ওয়াটঃ ১৫৭০ (ভার্সন ০৬০৮) ১৭১০ (ভার্সন ১৭১০
  • COP পয়েন্টঃ ৩.৩৫ (ভার্সন ০৬০৮)  ৩.০৮  (ভার্সন ১৭১০
  • বিটিইউঃ ১৮০০০ (দেড় টন) 
  • দামঃ ৬৭৫০০ টাকা 

ভয়েস কমান্ড 

ওশেনাস সিরিজের এই এসিটির অন্যতম একটি  আকর্ষণীয় সুবিধা হচ্ছে এসিটির ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার। ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার থাকার ফলে এসিটি পরিচালনা করার জন্য আপনার রিমোট কিংবা স্মার্টফোন অ্যাপস কিছুই প্রয়োজন হবেনা! অনেক এসিতে ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার থাকলেও সেটি ইন্টেরনেট নির্ভর; অর্থাৎ ভয়েস কন্ট্রোল সুবিধা নিতে এসিটির ইন্টারনেট তথা বাসার ওয়াইফাই এর সাথে সংযুক্ত থাকতে হয়, এটি অনেক সমস্যাদায়ক, কিন্তু সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে কিনা সেটা একটা বিষয়! তবে ওয়াল্টনের এই এসিটির ভয়েস কন্ট্রোল ফিচারটি সম্পূর্ণ অফলাইন; অর্থাৎ এসিটির কোনোরকম ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত থাকতে হবেনা। যার ফলে একটি গ্রামের ব্যবহারকারীও  অত্যাধুনিক এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবে। 

যেকোনো সময় ‘হ্যালো ওয়ালটন’ বললেই এসিটির ভয়েস কমান্ড ফিচারটি এক্টিভেট হয়ে যাবে। এর পর সহজ কিছু কমান্ড ব্যবহার করেই এসিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে কিছু কমান্ড এরকমঃ 

  • এসি স্টার্ট
  • এসি অফ
  • টুয়েন্টি সিক্স ডিগ্রি 
  • সিক্সটিন ডিগ্রি  
  • টেম্প আপ 
  • টেম্প ডাউন
  • ফ্যান মোড 
  • লো স্পীড 
  • মিডিয়াম স্পীড ইত্যাদি! 

ফ্রস্ট ক্লিন 

এসিটির অন্যতম একটি কার্যকরী প্রযুক্তি হচ্ছে এসিটির ‘ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি’। বেশিরভাগ এসির ইনডোর ইউনিট এর ‘এভাপরেটরে’ ময়লা জমে। এখানে ময়লা জমতে জমতে নানারকম ব্যাকটেরিয়া তথা মাইক্রোঅর্গানিজম’ও জন্ম নেয়। এমনকি সামনের এই অংশে ফাঙ্গাসও জমে! এই জন্য সবাই নিয়মিত এসির ইনডোর ইউনিট খুলে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে WSI-OCEANUS(VOICE CONTROL)-18F-[UV CARE] এসিতে থাকা এই ফ্রস্ট ক্লিন প্রযুক্তি এসিটির রিমোট কন্ট্রোলার এর মাধ্যমে চালু করলে, বিশেষ প্রক্রিয়ায় এসিটি নিজে থেকেই এই এভাপরেটর’কে পরিষ্কার করার কাজ করবে; একে শুষ্ক এবং ফাঙ্গাসমুক্ত রাখবে।  

ইকোনমি মোড 

এসিটিতে রয়েছে বিশেষ ইকোনমি মোড। যার ফলে এসি এই ইকোনমি মোড অন করলে এটি অন্যান্য নন-ইনভার্টার এসির থেকে ৬০% বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হিসেবে কাজ করবে। এসির রিমোটের  ECO বাটনটি প্রেস করলেই বিশেষ এই মোড চালু হয়ে যাবে।  

ইউভি কেয়ার 

ওয়ালটন ওশেনাস মডেলের এই এসিতে ব্যবহার করেছে বিশেষ ইউভি কেয়ার টেকনোলজি! এখানে এসিটি একটি অদৃশ্য ইউভি রের মাধ্যমে বাতাসের ভেতরকার ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ কে ব্রেকডাউন করে ফেলে; সহজ কথায় বলতে ফেলে এই প্রযুক্তিটি বাতাসে ভেসে থাকা সকল ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া অনুর ডিএনএ কে ধ্বংস করে ফেলে। ডিএনএকে ধ্বংস করার ফলে সেই ক্ষতিকারক অনু নিউট্রিয়ালাইজ বা নিস্ক্রিয় হয়ে পরে। বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের যেমন প্রকোপ সেই হিসেবে একটি এসিতে এরকম প্রযুক্তি থাকা অত্ত্যাবশ্যকীয় তা আমরা বলতেই পারি। সেই হিসেবে নিজের এবং সবার সুরক্ষার জন্য ইউভি কেয়ার প্রযুক্তি সম্বলিত এই এসিটি আপনার পছন্দের তালিকায় উপরে থাকতে পারে। 

সাইলেন্ট অপারেশন

বাসার জন্য যখন আপনি একটি এসি কিনবেন, তখন অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, এসিটি সব দিক দিয়ে কতোটা কমফোর্টেবল! কেবল যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ তা কিন্তু নয়; এসিটি যদি ব্যাপক শব্দ উৎপন্ন করে তখন কিন্তু সেটি আরেক বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নন-ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি টেপারেচার পরিবর্তনের সময় শব্দ সৃষ্টি করে। আর নন-ইনভার্টার এসির এই শব্দ অনেক বেশি বিরক্তিকর হয়ে দাড়ায় অনেকের কাছে। তবে ওশেনাস মডেলের এই এসিটি ইনভার্টার প্রযুক্তির হবার কারনে ঘরে বেশ নিঃশব্দে তার কার্য সম্পাদন করবে।   

পরিশিষ্ট 

ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি, ৪ স্তরে নানা দিক থেকে অনেক বেশি কার্যক্ষম বলে এসিটি এমনিতেও ৬০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আর তাছাড়াও এসিটির কমপ্রেসর বিশেষ করে আমাদের দেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে আমাদের দেশের সাপেক্ষে তা অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে অন্যান্য বাইরের এসির তুলনায়।

ওশেনাস এসিতে আপনি পাবেন ১৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত টেম্পারেচার মোড । বাজারের বহু এসিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পাবেন। ওশেনাস এসিটি মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করতে সক্ষম। বহু এসি শুধু সিঙ্গেল ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করে, যার ফলে যারা কেবল এসির সামনে অবস্থান করে  তারাই বাতাস পায়, ঘরের কোনায় কিংবা অন্য কোন স্থানে থাকা ব্যাক্তি বাতাস পায় না। তবে ওশেনাস এসির মাল্টি ডাইরেকশনে বাতাস প্রবাহ করার সক্ষমতার ফলে সব দিকেই  সমানভাবে শীতল বাতাস প্রবাহিত হবে। 

এসিটি দেখতে অবশ্যই আপনার আসেপাশের নিকটস্থ ওয়ালটন ডিলার শো-রুম অথবা ওয়ালটন প্লাজায় চলে যেতে পারেন। অথবা কিনতে এবং নানারকম তথ্য দেখে আসতে পারেন ওয়ালটন ইপ্লাজা থেকে। এসিতে থাকছে ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি। এসির কম্প্রেসরে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। আরো পাবেন ৩ বছর পর্যন্ত ফ্রি বিক্রয়োত্তর সুবিধা। বর্তমানে সারা দেশে আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃক পরিচালিত ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সমস্যায় খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাবেন।