অ্যালগরিদম আসলে কি?



 অ্যালগরিদম শব্দটির অর্থ নির্দেশনা। শব্দটি দেখলে আমরা জটিল মনে করে চোখ ফিরিয়ে নেই, মনে করি শুধু গণিত আর বিজ্ঞানেই এর ব্যবহার। কিন্তু আসলে অ্যালগরিদম আমরা ব্যবহার করছি সবসময়ই। কোনো কাজ সমাধান করার যে ধাপ বা নির্দেশনা সেগুলোই হচ্ছে অ্যালগরিদম। নিচের অ্যালগরিদমটি দেখলেই মোটামুটি একটি ধারণা আসবে।

চা বানানোর অ্যালগরিদম Image Source: The New Junior Academy

আমরা মনে করি আধুনিক পৃথিবীতেই অ্যালগরিদম ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু অ্যালগরিদমের ব্যবহার চলে আসছে সহাস্রব্দ ধরে। গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খারেজমি অ্যালগরিদম শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন নবম শতাব্দীতে। তিনি হিন্দি-আরবীয় সংখ্যার উপর একটি বই লিখেছিলেন, যা পরবর্তীতে ল্যাটিন ভাষায় রুপান্তর করা হয়। এরপর ল্যাটিন শব্দ algoritmi থেকে আসে Algorithm।

ঐতিহাসিক রেকর্ড ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুযায়ী প্রথম অ্যালগরিদমের ব্যবহার করেন ব্যবিলনীয়রা। তারা অ্যালগরিদমের সাহায্যে স্কয়ার রুটের মান ও খুব সাধারম হিসেব করতো। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইউক্লিড তার ‘Euclidean Algorithm’ উদ্ভাবন করেন। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে ইসলামি বিশ্ব আরও জটিল ক্রিপ্ট্যালাইসিস, এনক্রিপশন এবং সাইফারের (সংকেত লেখনী) অ্যালগরিদম নিয়ে কাজ করে।

খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ সালের একটি মেডিক্যাল ট্যাবলেট; Image Source: Wikimedia Commons

তবে বর্তমানের আধুনিক অ্যালগরিদমের উৎপত্তি হয় শিল্প বিপ্লবের মাঝ থেকে শেষের দিকে। তখন জর্জ বুলি বাইনারি বীজগণিত আবিষ্কার করেন যা আধুনিক কম্পিউটারের ভিত্তি। এরপর অ্যাডা লাভলেস ১৮৪০ সালে প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করেন যার মাধ্যমে অ্যালগরিদম প্রবেশ করে আধুনিক জগতে। তবে প্রথম যে মানুষটি অ্যালগরিদমকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যান তিনি অ্যালান টুরিং। এরপর অলনজো চার্চের ল্যামডা ক্যালকুলাস সংযোজন আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের পথ খুলে দেয়।